ইস্টবেঙ্গল: ২ (এজেজ্জারি, নন্দ)
মুম্বই সিটি এফসি: ১ (ব্র্যান্ডন)
ভোটবঙ্গে পালাবদলের হাওয়া, আর ইস্টবেঙ্গলে হাওয়াবদলের পালা! গত কয়েক মরশুমে বারবার হেরে গিয়ে বিধ্বস্ত লাল-হলুদ এবার সত্যি সত্যিই লিগ জয়ের গন্ধ পাওয়া শুরু করল। মঙ্গল সন্ধেয় অ্যাওয়ে ম্যাচে মুম্বই সিটি এফসিকে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থানে উঠে এল লাল-হলুদ শিবির। লিগের অঙ্কটা এখন জলবৎ তরলং। শেষ তিন ম্যাচ জেতো এবং ট্রফি ঘরে তোলো।
লিগের লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে কোনওভাবেই পয়েন্ট নষ্ট করা যাবে না। এ হেন কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে মঙ্গলবারের অ্যাওয়ে ম্যাচে মুম্বই সিটির বিরুদ্ধে নেমেছিল ইস্টবেঙ্গল। সেই লড়াইয়ে শুরুটা খুব একটা ভালো হয়নি তাদের। ম্যাচের শুরু থেকেই খানিক আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলছিলেন মুম্বই ফুটবলাররা। যার সুফল মুম্বই তুলে নেয় আট মিনিটেই। ব্র্যান্ডনের গোলে এগিয়ে যান ছাংতেরা। শুধু ওই গোল নয়, প্রথমার্ধে আরও বেশ কয়েকটা সহজ সুযোগ পেয়েছিল মুম্বই। ম্যাচের ১৫ মিনিট ও ৩০ মিনিটে সহজ সুযোগ পান মুম্বই অধিনায়ক ছাংতে। কোনওটিই তিনি কাজে লাগাতে পারেননি। ৩১ মিনিটে সহজ সুযোগ পান মুম্বইয়ের বিক্রম। কিন্তু সেটা তিনিও কাজে লাগাতে পারেননি।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে খেলাটা অনেকটা বদলে যায়। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়া ইস্টবেঙ্গল দ্বিতীয়ার্ধে অনেকটা আহত বাঘের মতো ঝাঁপায়। তবে প্রথম গোল আসতে সময় লেগে যায় ৫৮ মিনিটে। বক্সের মধ্যে ফাউল করায় মুম্বইয়ের জনি কাউকোর বিরুদ্ধে পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। পেনাল্টি স্পট থেকে গোল করার সুযোগ ছাড়েননি দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ইউসুফ এজেজ্জারি। এই নিয়ে চলতি মরশুমে ১০টি গোল করলেন তিনি। ঠিক ১৩ মিনিট বাদে আবারও গোল পেয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। এবার বাঁ-দিক থেকে দুর্দান্ত শটে বল মুম্বই জালে জড়িয়ে দেন নন্দকুমার। এরপর দুই দলই সুযোগ পেয়েছিল। বিশেষ করে মুম্বই একাধিকবার গোলের মুখে পৌঁছে যায়। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে মুম্বইয়ের নিকুমের শট বারে লেগে প্রতিহত না হলে ম্যাচ জেতা হত না ইস্টবেঙ্গলের। কিন্তু কথায় বলে, ভাগ্যও সাহসীদের সঙ্গ দেয়। ভাগ্যদেবতা এদিন সহায় ছিল লাল-হলুদের। ম্যাচে আর কোনও গোল হয়নি। এদিনের জয় ইস্টবেঙ্গলকে পৌঁছে দিল লিগের শীর্ষে।
এ পর্যন্ত আইএসএলে রানার্স আপ বা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সৌভাগ্য হয়নি লাল-হলুদের। আগের মরশুমগুলিতে কোনও কোনও সময় হয়তো ভালো খেলেছে লাল-হলুদ। কিন্তু পরপর ম্যাচ জেতার অভ্যেসটা সেভাবে তৈরি হচ্ছিল না। এবার অস্কার ব্রুজো সেই অভ্যাসটাই তৈরি করতে পেরেছেন সফলভাবে। এখন যা পরিস্থিতি তাতে মরশুমের শেষ তিন ম্যাচ জিততে পারলেই চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাবে ইস্টবেঙ্গল।
