ইস্টবেঙ্গল ১ (ইউসেফ)
কেরালা ১ (আজসাল)
একটা দল লিগ টেবিলের তেরো নম্বরে। অন্য দল পাঁচ নম্বরে। কেরালা ব্লাস্টার্স। ইস্টবেঙ্গল (East Bengal)। এই ম্যাচের আগে লিগ টেবিল যতই অসম দেখাক না কেন, শনিবারের লড়াই যে সহজ হবে না, তা অনুমেয় ছিল। তবে দুই দলের জন্যই 'মাস্ট উইন' ম্যাচের আগে ইস্টবেঙ্গল কোচের কথায় উষ্মার মেঘের ভ্রূকুটি ছিল। সেই মেঘ কাটিয়ে কি লাল-হলুদ জিতবে, প্রশ্নটা ছিলই। সেই ম্যাচে শেষ মুহূর্তে গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে রুখে দিল কেরালা। একেবারেই মন ভরল না বিপিন সিং, ইউসুফ এজেজারিদের খেলায়। পরপর তিন ম্যাচে পয়েন্ট হারিয়ে আইএসএলে আরও বিপাকে লাল-হলুদ।
এবারের আইএসএলের শুরুটা অসাধারণ করেছিল ইস্টবেঙ্গল। তবে প্রথম দুই ম্যাচ জয়ের পর কেমন যেন খেই হারিয়ে ফেলেছে অক্সার ব্রুজোর দল। তার ব্যতিক্রম হল না। প্রত্যাবর্তনের জন্য মাঠে নামা ইস্টবেঙ্গলের প্রত্যাশা মতো খেলতে পারল না। তবে শুরুটা খারাপ করেনি ব্রুজোর দল। আগ্রাসী মেজাজে শুরু করে তারা। ৯ মিনিটের মাথায় এডমুন্ডকে বক্সের ভিতর ফাউল করায় হলুদ কার্ড দেখেন কেরালার ডিফেন্ডার আইবা। সঙ্গে পেনাল্টিও পায় ইস্টবেঙ্গল। ইউসেফের নিখুঁত স্পট কিকে এগিয়ে যায় মশাল বাহিনী।
ঘরের মাঠে ড্র ইস্টবেঙ্গলের। নিজস্ব চিত্র।
এরপর গোল শোধের চেষ্টায় মরিয়া হয়ে ওঠে কেরালা। লাল-হলুদ বক্সে লাগাতার আক্রমণে শানায় তারা। তবে ১৮ মিনিটে সল ক্রেসপোর কাছে গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করতে পারত ইস্টবেঙ্গল। তাঁর শট লক্ষ্যভ্রষ্ট। ৩০ মিনিটে সুযোগ তৈরি করেন মিগুয়েল। তবে হাল ছাড়েনি ডেভিড কাতালার কেরালা। ৩৮ মিনিটে ডান দিক থেকে ভেসে আসা ক্রস দানিশ মাথা ছোঁয়ালেও কাজের কাজ কিছু হয়নি। ৪৪ মিনিটে কর্নার থেকে প্রায় সমতায় ফিরেই গিয়েছিল কেরালা। সামান্যের জন্য সুযোগ নষ্ট করেন ফালাউ। বিরতিতে ১-০ এগিয়ে ছিল ইস্টবেঙ্গল।
৫৪ মিনিটে সুযোগ নষ্ট ইস্টবেঙ্গলের। কিন্তু যত খেলা গড়ায় ততই যেন ম্যাচ থেকে হারিয়ে যায় লাল-হলুদ। বিশেষ করে শেষ কোয়ার্টারে একেবারেই ছন্দহীন ছিল তারা। যার সুযোগ নিয়ে ৯০+২ মিনিটে সমতায় ফেরে কেরালা। ইস্টবেঙ্গল রক্ষণের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে ফ্রি হেডারে বল জালে জড়ান আজসাল। এক গোলের ব্যবধান যে কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, তা বোঝা গেল আবার। শেষ মুহূর্তের গোলে ইস্টবেঙ্গলকে রুখে দিয়ে প্রথম পয়েন্ট পেল কেরালা ব্লাস্টার্স।
