২২ বছরের অপেক্ষার অবসান। প্রথমবার আইএসএল জয় ইস্টবেঙ্গল (East Bengal)। বাঁধ মানছে না সমর্থকদের উচ্ছ্বাস। এসবের নেপথ্যে যাঁদের সবচেয়ে বেশি প্রশংসা প্রশংসা প্রাপ্য, তাঁরা হলেন লাল-হলুদের বিনিয়োগকারী সংস্থার কর্ণধাররা। আদিত্য আগরওয়াল-বিভাস আগরওয়ালরা যে ভাবে ঘোর দুঃসময়ে ক্লাবের পাশে থেকেছেন, আজ সুসময়ে তাই লাল-হলুদ জনতার সুখের ভাগ তাঁদেরও প্রাপ্য।
ক্লাবের এই সাফল্যে প্রত্যাশিতভাবেই খুশি বিনিয়োগকারীদের কর্তারা। ইমামির অন্যতম কর্তা বিভাস আগরওয়াল বলছেন, "বারবার লাল-হলুদ সমর্থকদের কান্নাভেজা মুখ দেখতে ভালো লাগছিল না। পুরো দল প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছিল, সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাবোই। আজকের দিনটার সব কৃতিত্ব ফুটবলারদের, কোচের, সমর্থকদের। যেভাবে সমর্থকরা মরশুমের শুরু থেকে দলকে সাপোর্ট করে গেছে, সবাইকে ধন্যবাদ। আমরা দলকে চাম্পিয়ন করার জন্যই দল গড়েছি।" বিভাসের ঘোষণা, ক্লাবের ট্রফি ক্লাবেই থাকবে।" ইমামির আর এক শীর্ষ কর্তা আদিত্য আগরওয়াল বলছেন, "আমরা এই সাফল্যে খুশি। এটা সমর্থক-কোচ আর পুরো টিমের জন্য হয়েছে।" ক্লাবের বিনিয়োগকারীদের তরফে ঘোষণা করা হয়েছে, ইস্টবেঙ্গলের ক্লাব এবং কোচিং স্টাফের জন্য বিশেষ পুরস্কার থাকবে। সেই ঘোষণা তোলা রয়েছে শুক্রবারের জন্য।
নিজস্ব চিত্র
আইএসএল (ISL) জমানার শুরু থেকেই যে সমস্যা সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছে ইস্টবেঙ্গলকে সেটা হল স্পনসরের অভাব। আইএসএলের ছ'মরশুমে ৩ সংস্থার হাতে ক্লাবের ফুটবল দল পরিচালনার ভার থেকেছে। শুরুটা হয়েছিল কোয়েসকে দিয়েছে। তারপর এসেছে শ্রী সিমেন্টের মতো সংস্থা। কিন্তু ইস্টবেঙ্গলে তাঁরা থিতু হতে পারেননি। শ্রী সিমেন্ট দায়িত্ব ছাড়ার পর লাল-হলুদের কঠিন সময়। বিনিয়োগকারীর অভাবে হন্যে হয়ে ছুটছেন লাল-হলুদ কর্তারা। ক্লাবের সভ্য সমর্থকরা একপ্রকার দিশেহারা-ঠিক তখন ইস্টবেঙ্গলের দায়িত্ব নেয় ইমামি। তারপর থেকে ঠিক যেমনটা আদর্শ বিনিয়োগকারীদের ভূমিকা হওয়া উচিত, তেমনটাই করেছেন লাল-হলুদের বিনিয়োগকারীরা। সরাসরি দল নির্বাচনে বেশি নাক গলানো নয়। শুধু আর্থিক এবং পরিকাঠামোগত সহায়তা। ফুটবল দলকে-ফুটবল দলের মতো করে খেলতে দেওয়া। ক্লাব কর্তাদের সঙ্গে যতটা সম্ভব সমন্বয় রেখে চলা। ইমামির সেই নীরব সহায়তার সুফল পেল ইস্টবেঙ্গল।
লিগ জিতে প্রত্যাশিতভাবেই আবেগ বাদ মানছে না ক্লাব কর্তাদেরও। ইস্টবেঙ্গলের শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার বলছিলেন, "২২ বছর আমরা প্রচুর সাফল্য পেয়েছি। একটা কথা বলে দিই, আদিত্যজি, বিভাসজি ইমামিকে গোটা ইস্টবেঙ্গলের জনতার সারাজীবন ধরে রাখা উচিত। কঠিন সময় যেভাবে পাশে থেকে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবকে তুলে নিয়ে গিয়েছে, হ্যাটস অফ।" সব মিলিয়ে লাল-হলুদে এখন উৎসবের রং। ক্লাব কর্তা এবং ইনভেস্টরের মধ্যে আকচাআকচির যে সব খবর মাঝে মাঝে ভেসে-আসত সেসব এখন অতীত। আজ সকলেই শুধু লাল-হলুদে মিশে।
