২২ বছর পর ভারতসেরা ইস্টবেঙ্গল (East Bengal)। লাল-হলুদের সোনালি স্বপ্নপূরণের কারিগররাও আজ পুরস্কৃত। আইএসএলে শুধু যে ইস্টবেঙ্গল ১৩ ম্যাচে ২৬ পয়েন্ট নিয়ে সেরা হল তাই নয়, একই সঙ্গে সেরার খেতাব উঠল একাধিক লাল-হলুদ তারকার মাথাতেও। আইএএসএলের সেরা ফুটবলার হলেন কোচ অস্কার ব্রুজোর নয়নের মণি মিগুয়েল। টুর্নামেন্টের সর্বাধিক গোলদাতা হিসাবে সোনার বুটের মালিক ইউসেফ এজ্জেজারি।
আইএসএলের (ISL 2026) পা রাখার পর থেকেই পজিটিভ স্ট্রাইকারের অভাব ভুগিয়েছে লাল-হলুদকে। মাঝখানে দুই মরশুম ক্লেটন ইস্টবেঙ্গলকে ভাসিয়ে রেখেছিলেন বটে, কিন্তু লিগ জেতানোর ধারেকাছে নিয়ে যেতে পারেননি। লাল-হলুদ জার্সিতে ব্যর্থ হয়েছেন দিয়ামান্তাকোস, ফেলিসিও ব্রাউন, ড্যানিয়েল চিমাচুকুর মতো তারকাও। এই মরশুম শুরুর আগেও স্ট্রাইকার নিয়ে বড় চিন্তা ছিল লাল-হলুদের। সেসময় হামিদ আহদাদ, হিরোশি ইবুসুকির বদলে একপ্রকার অখ্যাত ইউসেফকে আনা। ইস্টবেঙ্গলের জার্সি পরার আগে তাঁর নামের পাশে বিরাট কোনও বড় ক্লাবে খেলার কৃতিত্ব লেখা ছিল না। অতীতে তিনি খেলেছেন ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরের ক্লাবে। ইউসেফকে নিয়ে তাই শুরুতে সন্দিহান ছিল লাল-হলুদ জনতার একটা বড় অংশ। কিন্তু প্রথম ম্যাচেই সেই সন্দেহ তিনি দূর করে দেন জোড়া গোল করে। শেষ পর্যন্ত মরশুমে ১১ গোল। আইএসএলের সোনার জুতোর মালিক তিনিই।
ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কারের পছন্দের ফুটবলার মিগুয়েল। ব্রাজিলের ওই তারকাকে আগে থেকেই চিনতেন অস্কার। তাঁর কোচিংয়ে বসুন্ধরা কিংসেও খেলেছেন মিগুয়েল। এই ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার খেলাটাকে তৈরি করতে জানেন। গোলের সুযোগ তৈরি করতে জানেন। দরকারে গড় আগলে রাখতেও জানেন। এ মরশুমে লাল-হলুদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অন্যতম কারিগরকেই লিগের সেরা ফুটবলার হিসাবে বাছা হয়েছে। তিনি জিতেছেন গোল্ডেন বুট।
এসবের মধ্যে এফসি গোয়ার হৃতিক তিওয়ারি সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার পেয়েছেন। মরশুমের ১৩ ম্যাচের মধ্যে পাঁচটি ক্লিন শিট পেয়েছেন তিনি। মুম্বই সিটির পূর্বা লাচেনপা মোহনবাগানের বিশাল কাইথও পাঁচটি করে ক্লিনশিট পেয়েছেন। তবে কম গোল খাওয়ার দরুন লিগের সেরা গোলরক্ষক হয়েছেন হৃতিক। তাৎপর্যপূর্ণভাবে রানার্স আপ মোহনবাগানের কোনও ফুটবলার ব্যক্তিগত কোনও বিভাগে পুরস্কার পাননি।
