shono
Advertisement
East Bengal

আইএসএলে সপ্তম স্বর্গে অস্কার বাহিনী, মহামেডানকে গোলের বন্যায় ভাসিয়ে ইতিহাস ইস্টবেঙ্গলের

সাদা-কালো ব্রিগেডকে গুঁড়িয়ে শিরোপার দৌড়েও এখন ফ্রন্টফুটে মিগুয়েল-ইউসেফরা। সেই সঙ্গে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জয়ের নজিরও ছুঁয়ে ফেলল।
Published By: Arpan DasPosted: 09:28 PM Mar 23, 2026Updated: 09:42 PM Mar 23, 2026

ইস্টবেঙ্গল: ৭ (আনোয়ার ২, ইউসেফ ২, ক্রেসপো, বিষ্ণু, নন্দকুমার)
মহামেডান: ০
আইএসএলে ইতিহাস ইস্টবেঙ্গলের। মহামেডানকে গোলের বন্যায় ভাসাল অস্কার বাহিনী। ৭-০ গোলে সাদা-কালো ব্রিগেডকে গুঁড়িয়ে শিরোপার দৌড়ে ফ্রন্টফুটে মিগুয়েল-ইউসেফরা। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এর আগে এত বড় ব্যবধানে কখনও জেতেনি ইস্টবেঙ্গল। সেই সঙ্গে আইএসএলে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের নজিরও ছুঁয়ে ফেলল। দু'টো করে গোল ইউসেফ ও আনোয়ার আলির। একটি করে গোল করলেন সল ক্রেসপো, পিভি বিষ্ণু ও নন্দকুমার।

Advertisement

এক ম্যাচে হার ও টানা দু'ম্যাচে ড্রয়ের পর বিপদের কালো মেঘ ঘনিয়েছিল অস্কার ব্রুজোর উপর। সেই দুশ্চিন্তা কাটাতে মহামেডানের থেকে সহজ প্রতিপক্ষ সম্ভবত পেতেন না লাল-হলুদ কোচ। আক্রমণভাগে ইউসেফ এজেজারির সঙ্গে জুড়ে দিয়েছিলেন এডমুন্ড লালরিন্ডিকাকে। পিছনে মিগুয়েল ফিগুয়েরা, বিপিন সিং, পিভি বিষ্ণুরা। অবশ্য বিদেশিহীন মহামেডানের জন্য বিশেষ কোনও ফর্মেশনের দরকার ছিল না। একটু চাপ দিলেই ভেঙে পড়ছে মেহরাজউদ্দিন ওয়াড্ডুর দল। লিগে সব ম্যাচ হেরে টেবিলের তলানিতে। কপালে কোনও পয়েন্ট জোটেনি।

এরকম একটা দল যদি ম্যাচের ৬ মিনিটে গোলকিপারের ভুলে গোল হজম করে, তাহলে তো আরও চাপ বাড়বে। বক্সের বাইরে থেকে আনোয়ার আলির নেওয়া শটটা অনায়াসে বাঁচিয়ে দিতে পারতেন সাদা-কালো দলের গোলকিপার পদম ছেত্রী। কিন্তু বল তাঁর হাতের তলা দিয়ে জালে জড়িয়ে যায়। সেই শুরু। তারপর সময়ান্তরে আরও ৬ গোল ইস্টবেঙ্গলের। ১৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান বাড়ান ইউসেফ। বক্সের মধ্যে মিগুয়েলকে সাজাদ সরাসরি ট্যাকেল করেন। তবে পেনাল্টি কে মারবেন, সেই নিয়ে কিছুটা 'বচসা' বাঁধে ইউসেফ ও ক্রেসপোর। সেই সমস্যা মিটে গেল ৩৮ মিনিটে। এবার এডমুন্ডকে পিছন থেকে টেনে দ্বিতীয় লাল কার্ড দেখে মাঠের বাইরে চলে গেলেন মহামেডানের জোসেফ। সঙ্গে লাল-হলুদকে আরেকটা পেনাল্টি উপহার দিয়ে গেলেন। নিজেদের মধ্যে বিবাদ মিটিয়ে গোল করলেন ক্রেসপো। প্রথমার্ধেই ৩-০ গোলে এগিয়ে ছিল ইস্টবেঙ্গল।

এক ম্যাচে হার ও টানা দু'ম্যাচে ড্রয়ের পর বিপদের কালো মেঘ ঘনিয়েছিল অস্কার ব্রুজোর উপর। সেই দুশ্চিন্তা কাটাতে মহামেডানের থেকে সহজ প্রতিপক্ষ সম্ভবত পেতেন না লাল-হলুদ কোচ। অবশ্য বিদেশিহীন মহামেডানের জন্য বিশেষ কোনও ফর্মেশনের দরকার ছিল না। একটু চাপ দিলেই ভেঙে পড়ছে মেহরাজউদ্দিন ওয়াড্ডুর দল।

ম্যাচ জয় নিয়ে আর সংশয় ছিল না। দ্বিতীয়ার্ধে শুধু দেখার ছিল ইস্টবেঙ্গল ইতিহাস গড়তে পারে কি না। এর আগে ২০২৩ সালে নর্থইস্ট ইউনাইটেডকে ৫-০ গোলে হারিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। সেটাই ছিল আইএসএলে লাল-হলুদ বাহিনীর সবচেয়ে বড় জয়। দশজনের মহামেডানকে পেয়ে যেন ইতিহাস গড়ার জন্য সর্বস্ব দিয়ে ঝাঁপাল ইস্টবেঙ্গল। ৫৫ মিনিটে ইউসেফ ফের পেনাল্টি থেকে গোল করেন। অর্থাৎ এক ম্যাচে পেনাল্টির হ্যাটট্রিকও হয়ে গেল। ৬৬ মিনিটে ইউসেফকে তুলে নেন অস্কার। নাহলে আইএসএলে প্রথম কোনও ইস্টবেঙ্গল ফুটবলারের হ্যাটট্রিকের সুযোগ থাকত। ৭৫ মিনিটে বিষ্ণুও মহামেডানের জালের খোঁজ পেলেন। চার মিনিট পর আনোয়ার ইস্টবেঙ্গলকে ৬-০ গোলে এগিয়ে দিলেন। যা আইএসএলে লাল-হলুদ বাহিনীর সবচেয়ে বড় জয়। তারপর একেবারে শেষবেলায় সপ্তম গোলটি করেন নন্দকুমার। যার সঙ্গে ছুঁয়ে ফেলল আইএসএলের সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয়ের নজির। যা ২০১৫ সালে এফসি গোয়া ৭-০ গোলে মুম্বই সিটিকে হারিয়ে গড়েছিল।

এই বিরাট জয়ের ম্যাচে কোনও কাঁটা থাকা উচিত নয়। তবে সামান্য সেটা থাকছেই। ৬ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে শিরোপার দৌড়ে চলে এল লাল-হলুদ। কিন্তু সব প্রতিপক্ষ মহামেডান হবে না। এই ম্যাচজয়ের আত্মবিশ্বাস যেন 'অতি' না হয়ে যায়। গোটা ম্যাচে ২০টি কর্নার পেয়েছে। গোলমুখে আক্রমণ সংখ্যা ১৬। ব্যবধান যে কোথায় যেতও সেটা ভেবেই চমকে উঠতে হয়। একটা ভুল সত্ত্বেও বাকি ম্যাচে অনবদ্য খেলে মহামেডানকে সেই লজ্জার হাত থেকে বাঁচালেন গোলকিপার পদম। অন্যদিকে ইউসেফ, এডমুন্ডরাও সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন। ছোট লিগে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সেগুলো হলে কিন্তু লাল-হলুদের বসন্ত কাননে বিপদের কালো মেঘ ঘনাতে পারে। 

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement