কথায় বলে বাবার জমিদারি। কিন্তু তুর্কমেনিস্তানের শীর্ষস্তরের এক ক্লাব কার্যত এই কথাকেই সত্যি করে দেখিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট এই ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা। পরিসংখ্যান বলছে, জন্মলগ্ন থেকে দেশীয় লিগে একটাও ম্যাচে হারেনি এই ক্লাব। শুধু তাই নয়, একটা সময় টানা ৬১ ম্যাচ অপরাজিত থাকার নজিরও ছিল তাদের দখলে। ক্লাবের চোখ ধাঁধানো পরিসংখ্যানের সঙ্গে আবার জড়িয়ে রয়েছে ইস্টবেঙ্গলের নামও।
ক্লাবের নাম এফসি আর্কাদাগ (FK Arkadag)। তুর্কমেনিস্তানের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট গুরবাঙ্গুলি বের্দিমুহামেদৌ ২০২৩ সালে এই ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেন। তার আগের বছরই পুত্র সের্দার বের্দিমুহামেদৌকে ছেড়ে দিয়েছেন প্রেসিডেন্টের কুর্সিতে। দেশ চালানোর দায়িত্ব ছেড়ে ক্লাব চালানোয় মন দেন গুরবাঙ্গুলি। একেবারে হিটলারি কায়দায় দল গঠন শুরু করেন। প্রতিষ্ঠার বছরেই তুর্কমেনিস্তানের জাতীয় দল থেকে ১৪ জন ফুটবলারকে ছিনিয়ে আনেন। শুধু তাই নয়, পছন্দের ফুটবলারকে যতক্ষণ পর্যন্ত আর্কাদাগ সই করাতে না পারছে ততদিন পর্যন্ত দেশের জাতীয় ট্রান্সফার উইন্ডোও খোলা থাকছে।
এতো গেল দল গড়ার কাহিনি। মাঠে নেমেও গায়ের জোরে জয় হাসিল করে নেওয়াটা কার্যত অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছে আর্কাদগ। একাধিকবার তারা রেফারির থেকে সাহায্য পেয়েছে। দলে কোনও বিদেশি ফুটবলার না থাকলেও দেশের সেরা খেলোয়াড়রা সকলেই রয়েছেন আর্কাদাগের স্কোয়াডে। ফলে যাবতীয় প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দেওয়া বেশ সহজ তাদের পক্ষে। তুর্কমেনিস্তানের জাতীয় লিগে এখনও পর্যন্ত ৮২টি ম্যাচ খেলে একটাও হারেনি তারা। প্রথমবার অংশ নিয়েই গতবারের এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগ জিতে নিয়েছে আর্কাদাগ।
এই আর্কাদাগের বিরুদ্ধে খেলতে গিয়েই রীতিমতো হেনস্তার শিকার হয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। গত বছর মার্চে তুর্কমেনিস্তান পৌঁছয় লাল-হলুদ ব্রিগেড। যে মাঠে অনুশীলন করতে দেওয়া হয় তাদের, সেটার অবস্থা খুবই হতশ্রী। অসমান মাঠে অনুশীলন করলে চোট লাগতে পারে, এই ভয়ে ম্যাচের আগে মাঠেই নামতে পারেননি অস্কার ব্রুজোর ছাত্ররা। শুধু তা নয়, হোটেলে থেকে কারও বাইরে বেরোনোর অনুমতি মেলেনি। দেশের কারও সঙ্গে যোগাযোগও করতে পারেননি ফুটবলাররা। অর্থাৎ প্রতিপক্ষকে মাঠের বাইরেও কাবু করে দেওয়ার স্ট্র্যাটেজি রয়েছে আর্কাদাগের। যদিও দিনের শেষে স্কোরবোর্ডই সত্যি। সেখানে লেখা থাকবে, ৮২ ম্যাচের সব কটিতেই জিতেছে তারা।
