খুলতে চলেছে সামনের মরশুমের আইএসএলের জট। আপাতত যে দিকে যাচ্ছে, তাতে নির্দিষ্ট সময়ে ক্লাবগুলিই হয়তো আইএসএল আয়োজন করতে চলেছে। অন্তত ফেডারেশনের সঙ্গে আইএসএলের ক্লাবগুলির আলোচনায় এরকম সিদ্ধান্ত হওয়ারই সম্ভাবনা বেশি।
কমার্শিয়াল পার্টনার ঠিক করার জন্য কিছুদিন আগেই বিডপত্র আহ্বান করেছিল ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন। সেখানেই জিনিয়াস স্পোর্টস সর্বোচ্চ দর দিয়েছিল। কিন্তু বিড জিতে আইএসএল চালানোর জন্য যে যে শর্তগুলি তারা দিয়েছিল, তাতে আইএসএলের ক্লাবগুলি কিছুতেই খেলতে রাজি ছিল না। কারণ, আইএসএল চালানোর জন্য শুরুতে তারা খরচ করবে বার্ষিক ৬০ কোটি টাকা। তাতে চুক্তিমতো ফেডারেশনকে দিতে হবে ১২ কোটি টাকা। কিন্তু শেয়ার হোল্ডার হিসেবে ক্লাবগুলি লভ্যাংশর কোনও টাকাই পাবে না। এই জায়গাটাই ক্লাবগুলি মেনে নিতে পারছে না। কারণ, লভ্যাংশ থেকে ক্লাবগুলি কবে টাকা পাবে, শর্ত হিসেবে ফেডারেশনকে তা জানাতে পারেনি জিনিয়াস স্পোর্টস। ফলে ক্লাবগুলিও জানিয়ে দিয়েছে, জিনিয়াস স্পোর্টস কমার্শিয়াল পার্টনার হলে তাদের পক্ষে আইএসএলে খেলা কিছুটা অসম্ভবই হবে। আর সেই কারণেই ফেডারেশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল সত্যনারায়ণকে চিঠি পাঠিয়ে ক্লাবগুলি আইএসএল চালানোর জন্য নতুন প্রস্তাব দিয়েছে।
জিনিয়াস স্পোর্টস জানিয়েছে, ফেডারেশনকে তারা শুরুতে বার্ষিক ১২ কেটি টাকা দেবে। ক্লাবগুলি আইএসএল চালানোর জন্য যে প্রস্তাব দিয়েছে, তাতে তারা ফেডারেশনকে জানিয়েছে, মাত্র ২ বছরের জন্য তারা আইএসএল চালাতে চাইছে। তার জন্য ফেডারেশনকে ক্লাবগুলি প্রতি বছর দেবে ১৫ কোটি টাকা। যা জিনিয়াস স্পোর্টসের থেকে ৩ কোটি টাকা বেশি। পাশাপাশি আইএসএল চালানোর জন্য ফেডারেশনের অধিকারেও ক্লাবগুলি কোনওরকম হস্তক্ষেপ করবে না। এখন ফেডারেশন যদি ক্লাবগুলির প্রস্তাব মেনে নেয়, তাহলে নির্দিষ্ট সময়ে সেপ্টেম্বর মাসেই শুরু হয়ে যাবে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ।
আপাতত যা পরিস্থিতি, তাতে জিনিয়াস স্পোর্টসকে যদি ফেডারেশন পাশ করাতে চায়, তাহলে শুরুতে ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটিতে পাশ করাতে হবে। তারপর বিষয়টি ফের যাবে জেনারেল বডির মিটিংয়ে। পুরোটাই সময়সাধ্য ব্যাপার। এদিকে, ক্লাবগুলির প্রস্তাবে ফেডারেশন ৩ কোটি টাকা বেশি পাবে। পাশাপাশি এরজন্য ফেডারেশনের কোনও কমিটির থেকেই কোনওরকম আপত্তি আসার কথা নয়। তার উপর ক্লাবজোট আইএসএল চালালে, ফেডারেশনের স্বাধীনতাতেও কোনওরকম হস্তক্ষেপ করবে না। সেক্ষেত্রে সেপ্টেম্বর মাসের নির্দিষ্ট সময়ে আইএসএল শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে ক্লাবজোট আইএসএল আয়োজন করলে কোনও তরফেই কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়। পাশাপাশি জিনিয়াস স্পোর্টস যদি আইএসএল আয়োজন করতে চায়, তাহলে খোদ ক্লাবগুলিই খেলবে না। তাহলে আর আইএসএল টা হবে কী করে? আর এখানে ক্লাবরা নিজেরাই যদি আইএসএল আয়োজন করে, তাহলে ক্লাবগুলির অংশগ্রহণ নিয়ে ফেডারেশনের কোনও চাপই থাকবে না। অথবা কোনও ইস্যুতে ক্লাবগুলির তরফে ফেডারেশনের প্রতি কোনও অভিযোগও থাকবে না। একদিকে বেশি টাকা। অন্যদিকে, আইএসএল চালানো নিয়ে ফেডারেশনও থাকবে নিশ্চিন্তে। কোনও তরফেই সমালোচিত হওয়ার কোনও ভয় নেই। সেই কারণেই আসন্ন আইএসএল চালানোর অধিকার সম্ভবত ক্লাবগুলিই পেতে চলেছে।
