মোহনবাগান ২ (ম্যাকলারেন, পেত্রাতোস)
চেন্নাইয়িন ০
শরৎচন্দ্রের শ্রীকান্ত বলেছিলেন, "পথের ফুলের মতোই কিছু মানুষ, পথে এসে হাসি দিয়ে যায়।" অনেকটা তেমনই জেমি ম্যাকলারেন এবং দিমিত্রি পেত্রাতোস। তাঁরাই হাসি এনে দিলেন। দুই অজি তারকার গোলেই আইএসএলে জয়রথ ছুটছে মোহনবাগানের। আইএসএলের দ্বিতীয় ম্যাচে চেন্নাইয়িন এফসি'কে ২-০ গোলে হারিয়ে লিগ টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল সবুজ মেরুন।
এবারের লিগ ছোট। পয়েন্ট হারানোর অর্থ চ্যাম্পিয়নশিপের লক্ষ্যে হোঁচট খাওয়া। এই সার সত্য কারওই অজানা নয়। তবে ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে ফুটবলাররা যেমন নেমেছিলেন, তেমনই সোমবারও যুবভারতী ভরিয়েছিলেন সবুজ-মেরুন সমর্থকরা। দু'দিন আগেই গিয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। সেই উপলক্ষে বিশেষ টিফো নিয়ে হাজির হয়েছিলেন তাঁরা। গ্যালারির সাজের মতোই কি সুন্দর ফুটবল উপহার দিল সের্জিও লোবেরার দল? তাদের সামনে ছিল মুম্বইয়ের কাছে আত্মঘাতী গেলে হেরে যাওয়া চেন্নাইয়িন। পেত্রাতোস, রবসন, লিস্টনদের যথেষ্ট বেগ দেওয়ার চেষ্টা করল তারা। বাগান ফুটবলাররা রক্ষণ ভেদ করার চেষ্টা করলেও কিছুতেই সফল হচ্ছিলেন না। এর মধ্যে ৮ মিনিটের মাথায় সুযোগ পায় চেন্নাই। ডান দিক থেকে নিচু ক্রস পেলেও পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ মার্টিন। পায়ে বলে হয়ে গেলে বিপদ অবশ্যম্ভাবী ছিল মোহনবাগানের কাছে।
বিশেষ টিফো নিয়ে হাজির সমর্থকরা। ছবি অমিত মৌলিক।
১২ মিনিটে সুযোগ আসে মোহনবাগানের সামনে। রবসনের কর্নার থেকে দুর্দান্ত শট অনিরুদ্ধ থাপার। বার উঁচিয়ে চলে যায় বল। ২০ মিনিটে দিমির শট বিপক্ষ ফুটবলারের গায়ে লেগে গোলে প্রায় ঢুকেই গিয়েছিল। চেন্নাই গোলকিপার মহম্মদ নওয়াজ পরিত্রাতার ভূমিকা নেন। ৩৭ মিনিটে রবসন-লিস্টন যুগলবন্দি দেখা গেলেও তা ফলপ্রসূ ছিল না। ৪২ মিনিটে কোলাসোর শট পোস্টে লেগে প্রতিহত হয়। যদিও অফসাইডের ফাঁদে পড়েন জেমি। বল জালে জড়ালেও গোল হত না। সবাই যখন মোটামুটি ধরে নিয়েছেন গোলশূন্য শেষ হবে প্রথমার্ধ, ঠিক সেই সময় গোলের সাইরেন বাজালেন ম্যাকলারেন। অনবদ্য থ্রু পেয়ে বল জালে জড়িয়ে দিতে ভুল করেননি তিনি। বলাই বাহুল্য, চোট পেয়ে নওয়াজের বেরিয়ে যাওয়াটা কাল হল চেন্নাইয়ের কাছে।
দ্বিতীয়ার্ধেও একই দাপট বজায় রাখে লোবেরা ব্রিগেড। ৪৬ মিনিটে গোল করতে ব্যর্থ হন জেমি। ৫২ মিনিটে আবারও সুযোগ এবং আবারও মিস ম্যাকলারেনের। ৬২ মিনিটেও তাঁর মিস। গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকরা ততক্ষণে হয়তো আপশোস করছেন এই ভেবে যে, এত সুযোগ নষ্ট না হলে হয়তো হ্যাটট্রিক পেয়ে যেতেন অজি তারকা। এর তিন মিনিট পর বাঁদিক থেকে শুভাশিসের ভাসানো ক্রস থেকে জোরাল নিখুঁত শটে গোল করে যান পেত্রাতোস। এরপর গ্যালারির কাছে গিয়ে বিখ্যাত স্টেনগান সেলিব্রেশনে মাতলেন মোলিনার আমলে 'ব্রাত্য' দিমি। এরপর অবশ্য আর গোল হয়নি। ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হন মোহনবাগানের নয়নের মণি দিমি। তবে, গোল মিসের প্রবণতা কিছুটা হলেও চিন্তায় রাখবে বাগান কোচকে।
