মোহনবাগান ৩ (জেমি, সামাদ, কামিন্স)
পাঞ্জাব ২ (ড্যানি, এফিয়ং)
গত তিন ম্যাচ মোহনবাগানের জন্য খুবই খারাপ গিয়েছে। তিন ম্যাচে পয়েন্ট এসেছে মাত্র দুই। এর মধ্যে একটি হার ও দু'টি ম্যাচ ড্র। পাঞ্জাব এফসি'র মতো আক্রমণাত্মক ফুটবল নির্ভর দলের বিরুদ্ধে কেমন খেলে সার্জিও লোবেরার দল, সেটা দেখার ছিল। এমন একটা ম্যাচে পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে দু-দু'বার পিছিয়ে পড়েও ৩-২ গোলে দুরন্ত জয় মোহনবাগানের।
এই ম্যাচটির জন্য প্রথমে পুলিশি নিরাপত্তা পাওয়া নিয়ে সমস্যা দেখা গিয়েছিল। পরে যখন পুলিশের অনুমতি পাওয়া যায় তখন মাত্র সতেরো হাজার দর্শক প্রবেশের অনুমতি পাওয়া গিয়েছে। তাই রবিবারের ম্যাচের মাত্র ১৭ হাজার টিকিট ছাড়া হয়। তবে টিকিট কম ছাড়া হলেও মেরিনার্সদের উৎসাহে ভাটা পড়েনি। দলে দলে সমর্থক মাঠে এসেছিলেন। ১২ এপ্রিল থেকে ‘আশাহীন’ সঙ্গীতের দুনিয়া! রবিবার চিরঘুমে আশা ভোঁসলে। যুবভারতীর জায়ান্ট স্ক্রিনে শ্রদ্ধা জানানো হয় সুর সম্রাজ্ঞীকে। এমন একটা ম্যাচে শুরুটা ভালো হল না মোহনবাগানের।
১২ মিনিটে এগিয়ে গেল পাঞ্জাব। বাঁদিক আক্রমণে ঝড় তুলে সুফল পায় পাঞ্জাব। ডিফেন্সের ফাঁককে কাজে লাগিয়ে গোলের সামনে বল পেয়ে যান ড্যানি রামিরেজ। প্রায় ফাঁকা গোলে বল ঠেলে দিতে কোনও ভুল করেননি তিনি। পিছিয়ে থাকার পর বড় ধাক্কা খেল সবুজ-মেরুন। ১৭ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লেন ডিফেন্ডার আলবার্তো রডরিগেজ। তবে ২৯ মিনিটে অনবদ্য কামব্যাক করল মোহনবাগান। বাঁদিক থেকে রবসনের ফ্লিক চলে যায় জেমি ম্যাকলারেনের কাছে। প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দুরন্ত শটে গোল করেন অজি বিশ্বকাপার। প্রথমার্ধের সংযুক্তি সময় দিমি পেত্রাতোসের গোল অফসাইডের জন্য বাতিল হয়। প্রথমার্ধে ম্যাচের ফলাফল থাকে ১-১।
দ্বিতীয়ার্ধের ১৫ মিনিট যেতে না যেতেই দুরন্ত ভলিতে পাঞ্জাবকে এগিয়ে দেন এফিয়ং। ৬৯ মিনিটে রবসনকে তুলে আবদুল সামাদকে নামান লোবেরা। গোল শোধের চেষ্টায় মরিয়া হয়ে ওঠে মোহনবাগান। ৭৪ মিনিটে বদলি হিসাবে নামা সেই সামাদই ডান পায়ের ইনসেটে নেওয়া শটে বিশ্বমানের গোলে সমতায় ফেরান সবুজ-মেরুনকে। ৭৯ মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত পাঞ্জাব। পরিত্রাতা ছিলেন বিশাল কাইথ। তবে তখনও ম্যাচের টুইস্ট বাকি ছিল। দ্বিতীয়ার্ধের সংযুক্তি সময়ে ফ্রিকিক থেকে জয়সূচক গোল কামিন্সের। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে দু'বার পিছিয়ে পড়েও জয় পেল মোহবাগান।
