টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ ইটালি। প্লেঅফ পর্বের শেষ ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে টাইব্রেকারে পরাস্ত হয় আজ্জুরিরা। তারপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ইটালির ফুটবলপ্রেমীরা। নড়েচড়ে বসেছে ইটালির সরকারও। জর্জিয়া মেলোনি প্রশাসনের ক্রীড়ামন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, ইটালি ফুটবল ফেডারেশনের প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। তবে ফুটবল প্রধান এখনও নিজের কুর্সি আঁকড়ে থাকতে চাইছেন।
২০১৮, ২০২২ বিশ্বকাপের পর ২০২৬ সালেও মেগা টুর্নামেন্টে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি ইটালি। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল শেষবার বিশ্বকাপে খেলেছিল ২০১৪ সালে। তারপর ইউরো কাপ জিতেছে। কিন্তু বিশ্বকাপে আর খেলা হয়নি। ফুটবলের দুর্দশা থাকলেও গত কয়েকবছরে অন্যান্য খেলায় দারুণ উন্নতি করেছে ইটালি। ক্রিকেটে টি-২০ বিশ্বকাপ খেলেছে। একটি ম্যাচও জিতেছে। গত কয়েকবছর ধরে পুরুষদের টেনিসে দাপট দেখাচ্ছেন ইয়ানিক সিনার। কয়েকমাস আগে শীতকালীন অলিম্পিকে ৩০টি পদক জিতেছে ইটালি। ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিকেও ৪০টি পদক পান ইটালির অ্যাথলিটরা।
এহেন পরিস্থিতিতে ইটালির অতি দক্ষিণপন্থী সরকার মনে করছে, দেশের ফুটবলকে আমূল বদলে ফেলতে হবে। তা না হলে ফুটবলের হৃত গরিমা ফেরানো সম্ভব নয়। তাই মঙ্গলবার ইটালির বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হতেই দেশের ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া আবোদি জানিয়েছেন, ফুটবল ফেডারেশনের প্রধানকে এবার পদ ছাড়তে হবে। উল্লেখ্য, ২০১৮ বিশ্বকাপে যোগ্যতা হারানোর পরেই ইটালি ফুটবলের 'মাথা' হন গ্যাব্রিয়েল গ্রাভিনা। কিন্তু তাঁর আমলেই পরপর দুটো বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি ইটালি।
ইটালির ক্রীড়ামন্ত্রী জানিয়েছেন, "টানা তিনটি বিশ্বকাপে আমরা খেলতে পারলাম না। এর থেকেই বোঝা যায়, একেবারে নিচের স্তর থেকে ইটালির ফুটবলকে গড়ে তুলতে হবে। সেই পরিবর্তন আসবে ফেডারেশন প্রধান বদলের মাধ্যমে।" যদিও গ্রাভিনার অভিযোগ, প্রশাসন বারবার ফেডারেশন কর্তাদের পদত্যাগ করতে চাপ দিয়েছে। তিনি পদ ছাড়তে চান না মোটেই। ইটালি সরকারের এই পদক্ষেপ দেখে ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের অনেকেই মনে করছেন, নরেন্দ্র মোদি সরকার কি দেশের ফুটবলকে বাঁচাতে এমন পদক্ষেপ করতে পারে না?
