আইএসএলে লিগ শিল্ড জেতার পর কেটেছে মাত্র পাঁচটা বছর। তার মধ্যেই ভারতীয় ফুটবল থেকে অতীত হয়ে গেল জামশেদপুর এফসি (Jamshedpur FC)। সাদা জার্সি পরে সবুজ মাঠের বুক চিরে আর এগিয়ে যেতে দেখা যাবে না প্রণয় হালদারদের। সোমবার ডুরান্ড কাপের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলতে নেমেছিল জামশেদপুর। শেষ ম্যাচে প্রাণপণ লড়াই করল গোটা দল। হারের পর মোহনবাগান ভক্তদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিল জামশেদপুর।
সোমবার যুবভারতীতে ২ মিনিটের মধ্যেই মোহনবাগানকে এগিয়ে দেন সাহাল আবদুল সামাদ। কিন্তু বিশালের ভুলে সমতা ফেরায় জামশেদপুর। সেখান থেকে ম্যাচ গড়ায় পেনাল্টিতে। প্রথম আটটা শটে মোহনবাগানের সঙ্গে সেয়ানে সেয়ানে লড়াই করেছে জামশেদপুর। ভারতীয় ফুটবল থেকে মুছে যাওয়ার আগে শেষ ট্রফিটা জেতার প্রবল তাগিদ দেখা যাচ্ছিল জামশেদপুর ফুটবলারদের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত সাডেন ডেথে গিয়ে হারতে হয় জামশেদপুরকে। কিন্তু বিদেশিহীন জামশেদপুরের লড়াই ফুটবলমহলের প্রশংসা কুড়িয়েছে। তবে ডুরান্ডেই শেষ। তারপর আর কোনও প্রতিযোগিতায় দেখা যাবে না জামশেদপুর এফসিকে।
ম্যাচ শেষে অধিনায়ক প্রণয় হালদার বলেন, “ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা কিছু ঠিক করিনি। আমি এখানে ৪-৫ বছর খেলেছি। খুব ভালো সময় কেটেছে। আবেগপ্রবণ লাগছে। তবে বাস্তবকে মেনেই এগিয়ে যেতে হবে। তবে আমি গর্বিত যে, আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছি।” একটা সময়ে মোহনবাগানে খেলতেন প্রণয়। সোমবার যুবভারতী ছেড়ে ফুটবলাররা যখন বেরিয়ে যাচ্ছেন, তখন ভিড় জমিয়েছিলেন মোহনবাগান ভক্তকুল। নিজের কিট থেকে জার্সি বের করে তাঁদের বিলিয়ে দেন প্রণয়। বললেন, "এই জার্সিটা কেউ তো পরবে। সেটা দেখেই খুশি হব।"
তবে জামশেদপুর এফসি না থাকেও তাদের লাইসেন্স নিয়ে আসন্ন আইএসএল খেলবে চার্চিল ব্রাদার্স। শোনা যাচ্ছে, মাত্র ১০০ টাকার টোকেনে এই হস্তান্তর হয়েছে। দুই কোচের চুক্তি-সহ জামশেদপুরের ১২ জন ফুটবলার নতুন মালিকানার অধীনে চলে যাবে। জানা গিয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বর থেকে জামশেদপুরের কোচিং স্টাফ থেকে শুরু করে ফুটবলারদের গ্রহণ করবে চার্চিল ব্রাদার্স। ফলে জামশেদপুরের ফুটবলার ও কোচেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, সেই আঁধার আপাতত কাটল।
