সমগ্র ফুটবলবিশ্ব তাঁর পায়ের জাদুতে মোহিত। তাঁকে একবার দেখার জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করতে পিছপা হন না ভক্তরা। ৩৮ বছর বয়সেও মাঠে নেমে ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে গোল করতে এতটুকু অসুবিধা হয় না লিওনেল মেসির। আবার সুযোগ পেলে মদের নেশায় চুরও হয়ে যান। আর তাতে বিরাট লাভ হল নরম পানীয় প্রস্তুতকারক সংস্থা 'কোকা-কোলা'র। সেই সূত্রে নেটিজেনরা রোনাল্ডোর সঙ্গেও ফের তুলনা টানছেন মেসির (Lionel Messi)। কীভাবে?
ফুটবলার হিসাবে ফিটনেস ধরে রাখলেও মদ্যপানের অভ্যাস ছাড়েননি মেসি। বার্সেলোনা হোক বা আর্জেন্টিনা-দলের সাফল্য উদযাপন করতে গিয়ে সুরায় চুমুক দিতে দেখা গিয়েছে এলএমটেনকে। মদ্যপান করে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠা বেশ পছন্দ তাঁর। মদিরায় ডুবে গিয়ে যাবতীয় চিন্তাভাবনা ভুলে হালকা মেজাজে থাকাটাও বেশ উপভোগ করেন মেসি। তাই তো ‘মাতাল’ হওয়ার টিপস ফাঁস করতেও দ্বিধা করেন না। এক সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন, “আমি সাধারণত ওয়াইন পছন্দ করি। তবে কখনও যদি তাড়াতাড়ি নেশা করতে চাই, তাহলে ওয়াইনের সঙ্গে একটু স্প্রাইট মিশিয়ে নিই।” মেসির এই ‘টিপস’ নিয়ে নেটদুনিয়ায় জোর চর্চা চলছে।
'স্প্রাইট' হল নরম পানীয় প্রস্তুতকারক সংস্থা 'কোকা-কোলা'রই একটি ব্র্যান্ড। মেসির একটি সামান্য মন্তব্যেই তাদের বিরাট আর্থিক লাভ হল। মেসির ওই মন্তব্যের পর থেকে কোকা-কোলার শেয়ার ৫ শতাংশ বেড়েছে। বিভিন্ন সূত্র মাত্র খবর, এর ফলে গত কয়েকদিনে কোকা-কোলার বাজারমূল্য প্রায় ১২.৯ বিলিয়ন ডলার বেড়ে গিয়েছে। মজার বিষয়, মেসি আবার কোকাকোলারই প্রতিদ্বন্দ্বী সংস্থা পেপসির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর। অথচ মেসি কি না, কোকা-কোলার ব্র্যান্ড দিয়েই মদ খাচ্ছেন!
আর এই বিষয়টায় নেটিজেনরা টেনে নিয়ে আসছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে। কেন? ২০২১-এ ইউরো কাপ চলার সময় সাংবাদিক সম্মেলনে কোকা-কোলার বোতল সরিয়ে রেখে জলের বোতল দেখিয়ে রোনাল্ডো বলে দেন, ঠান্ডা পানীয়র চেয়ে জল খাওয়া অনেক বেশি উপকারী। তাঁর এই আবেদনেই রাতারাতি ধাক্কা খায় মার্কিন কোম্পানির ব্যবসা। একলাফে শেয়ার বাজারে এর মূল্য অনেকটাই নেমে যায়। পর্তুগিজ মহাতারকার একটি বাক্যে ১০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়ে যায় কোকা-কোলার।
