কত মাসের বেতন বকেয়া, তা নাকি ভুলেই গিয়েছেন মহামেডান কোচ মেহরাজউদ্দিন ওয়াডু। বেতন বকেয়া থাকায় শুক্রবার অনুশীলন বয়কট করেছেন মহামেডানের ফুটবলাররা। মাঠে এসে একা দাঁড়িয়ে ছিলেন মেহরাজ। এবার এর পালটা জবাব দিল মহামেডান ক্লাবের সহ-সভাপতি কামারউদ্দিন। তাঁর সাফ বক্তব্য, যদি কোচ এরকম বলে থাকেন, তাহলে কোচিং করাচ্ছেন কেন? সেক্ষেত্রে তিনি চলে যেতে পারেন।
অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে চলতি আইএসএলে খেলতে নেমেছে সাদা-কালো শিবির। কিন্তু আর্থিক সংকটের ছবিটা খুব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে মাঠে নেমে দলের পারফরম্যান্সে। টানা সাত ম্যাচ হারতে হয়েছে। পয়েন্ট টেবিলে সকলের নিচে পড়ে রয়েছে মহামেডান, মাথার উপর ঝুলছে অবনমনের খাঁড়া। এর মধ্যে বেতন বকেয়া থাকার অভিযোগে শুক্রবার অনুশীলনে আসেননি কোনও ফুটবলার। মেহরাজ নিজে বলেছিলেন, "আমারও বেতন বাকি রয়েছে, কত মাসের বেতন পাইনি আমার মনেও নেই।”
এই বিষয়ে সংবাদ প্রতিদিনের তরফ থেকে যোগাযোগ করা হয় মহামেডান ক্লাবের সহ-সভাপতি কামারউদ্দিনের সঙ্গে। তাঁর বক্তব্য, "আমাকে বলেছে, ৫ মে থেকে প্র্যাকটিস করবে। তার মধ্যে আমাদের কিছু বলার নেই। নির্বাচনের জন্য আমাদের বেতন দিতে ১০ দিন দেরি হয়েছে। একটু অসুবিধা ছিল। কাল-পরশুর মধ্যে হয়ে যাবে।" কোচের অভিযোগ নিয়ে তাঁর সাফ জবাব, "কোচ যদি এটা বলে থাকেন, তো তাহলে কেন কোচিং করাচ্ছেন? যখন পাঁচ মাস বাকি ওঁর তো চলে যাওয়া উচিত ছিল। মরশুম শুরু হয়েছে মাত্র তিন মাস। তার বেতন হয়ে গিয়েছে। যদি ভুলে গিয়েছে তো থাকার দরকার কী আছে? তাহলে খেলাটা বন্ধ করে দিয়ে চলে যাক। আমাদের তো এমনি অবনমন হয়ে গিয়েছে। ওঁকে নিয়ে আমরা কী করব?"
গত মরশুমের টাকাও বাকি রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তখন যে সংস্থা স্পনসর ছিল, তারা এখন নেই। যা নিয়ে কামারউদ্দিন বলেন, "পাঁচ মাস আগের বেতন বাকি যা আছে, তা আছে। আমি তো বলেছি যে যেরকম আসবে, সেরকম দেব। সবাইকে দিয়েছে তোমরাও পাবে। তাই তো ওরা খেলা আরম্ভ করেছে। না হলে আগেই খেলত না। কেন খেলতে নামল? তোমরা যদি ফিফায় যেতে চাও তো চলে যাও। আগের মরশুমের টাকা বিদেশিরা পেয়েছে, কোচও পাবেন। আমরা বড়জোর বলতে পারি, একটু সমঝোতা করে নাও। করলে করবে, না করলে না করবে।"
তিনি আরও জানান, ৫ তারিখ পর্যন্ত এমনিই অনুশীলন ছুটি রয়েছে। এমনিতে ২০ তারিখ করে বেতন দেওয়া হয়। এবার সেটা বিভিন্ন কারণে দেরি হয়েছে। এই সমস্যা তৈরি করা হয়েছে। কর্মকর্তারা যেচে এই বিষয়ে কোচের সঙ্গে কথা বলবেন না। বরং প্লেয়ার-কোচেরা চাইলে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। যদিও কোচ মেহরাজউদ্দিন জানান, প্লেয়ারদের তরফ থেকে ক্লাবকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তিনি তৈরি। বরং এতদিন ক্লাবের সঙ্গে সহযোগিতাই করছেন। প্লেয়াররা এলেই তিনি অনুশীলন শুরু করাবেন।
