বেতন বকেয়া থাকার জন্য অনুশীলন বয়কট করেছিলেন মহামেডান ফুটবলাররা। চারদিন অনুশীলন বন্ধ থাকার পর ফুটবলারদের বেতন দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হতেই বয়কট থেকে সরে এসে মঙ্গলবার থেকে অনুশীলনে নামেন সাদা-কালো ফুটবলাররা। তবে লিগের কাঠামো পরিবর্তন থেকে শুরু করে আর্থিক সংকট ও মাঠের ফলাফল, সব মিলিয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী দলটি। এই পরিস্থিতিতে আইএসএলের মাঝেই ফেডারেশনকে চিঠি পাঠাল মহামেডান।
এবারের আইএসএলে নতুন ফরম্যাটে প্রতিটি দল একবার করে একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে। নতুন এই ফরম্যাটে শেষ স্থানে থাকা দলকে অবনমন করানোর সিদ্ধান্ত কি মেনে নেবে মহামেডান? ক্লাবের দাবি, লিগের কাঠামো ও নিয়ম শুরু থেকেই পরিষ্কার ছিল না। তাই এই মরশুমকে একটি ‘ব্যতিক্রমী’ বা ‘ট্রানজিশনাল’ সিজন হিসাবে ঘোষণা করে রেলিগেশন স্থগিত রাখতে হবে। পাশাপাশি বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য এআইএফএফ-এর জরুরি এক্সিকিউটিভ কমিটির বৈঠক ডাকার আবেদন জানানো হয়েছে।
সাদা-কালো ক্লাবের দাবি, লিগের কাঠামো ও নিয়ম শুরু থেকেই পরিষ্কার ছিল না। তাই এই মরশুমকে একটি ‘ব্যতিক্রমী’ বা ‘ট্রানজিশনাল’ সিজন হিসাবে ঘোষণা করে রেলিগেশন স্থগিত রাখতে হবে।
ক্লাবের মতে, দেরিতে লিগ শুরু হওয়া এবং পরিকল্পনার ঘাটতির কারণে দল গঠন, প্রস্তুতি ও আর্থিক স্থিতিশীলতা সবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাছাড়াও পার্টিসিপেশন ফি এবং চলমান আর্থিক চাপ আগেই ক্লাবকে সমস্যায় ফেলেছিল। তার উপর বিনিয়োগকারীদের সরে যাওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। তবুও সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে দল নিয়মিত মাঠে নেমেছে। প্রতিটি ম্যাচও খেলেছে। তাই ফেডারেশনের কাছে সহানুভূতি চেয়েছে তারা। এই বিষয়ে ক্লাব সরাসরি এআইএফএফ সভাপতি কল্যাণ চৌবেকে চিঠি পাঠিয়েছে। সেখানে তারা জানিয়েছে, সাত দিনের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পেলে আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে ক্লাব।
নিজেদের মাঠে প্র্যাকটিসে নেমে পড়েছেন সাদা-কালো শিবিরের ফুটবলাররা।
অন্যদিকে, ক্লাবের ভেতরে বেতন বকেয়া নিয়েও অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। কয়েক দিনের অনুশীলন বন্ধের পর অবশেষে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস পেয়ে ফুটবলাররা অনুশীলনে ফিরেছেন। মহামেডান কর্তা বেলাল আহমেদের দাবি, তুলনামূলক কম বেতনের ফুটবলারদের মে মাস পর্যন্ত বেতন দিয়ে দেওয়া হয়েছে। বেশি অঙ্কের বেতন পাওয়া ফুটবলারদের মার্চ পর্যন্ত বেতন দেওয়া হয়েছে। কোচ, সাপোর্ট স্টাফদেরও একমাসের বেতন দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল চারটে থেকে মহামেডানের অনুশীলন থাকলেও ফুটবলাররা অনুশীলনে আসেননি। কিটস ছাড়া ক্লাব তাঁবুতে এসেছিলেন তারা। এই সময় মহামেডান ফুটবলারদের সঙ্গে বৈঠকে বসে সাদা-কালো ম্যানেজমেন্ট।
সরাসরি এআইএফএফ সভাপতি কল্যাণ চৌবেকে চিঠি পাঠিয়েছে। সেখানে তারা জানিয়েছে, সাত দিনের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পেলে আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে মহামেডান ক্লাব।
এরপর ক্লাবের তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, গতবারের বকেয়া টাকা তাদের ১৮ মে-র পর এজেন্টদের সঙ্গে কথা বলে সমঝোতায় এসে মিটিয়ে দেওয়া হবে। পাশাপাশি কেউ বেতন পাওয়ার পরও অনুশীলনে অনুপস্থিত থাকলে শোকজ করার কথাও বলা হয়েছে। সব মিলিয়ে লিগ টেবিলের একেবারে তলানিতে থাকা মহামেডানের সামনে এখন কঠিন টিকে থাকার লড়াই। অবনমনের আওতায় থাকা মহামেডানের পরের ম্যাচে প্রতিপক্ষ কেরালা ব্লাস্টার্স। লিগ টেবিলের একেবারে শেষে থাকা মহামেডানের বাকি তিনটে ম্যাচই কার্যত 'ডু অর ডাই' ম্যাচ। এই পরিস্থিতিতে ফেডারেশনের চিঠি দিল সাদা-কালো ব্রিগেড।
