shono
Advertisement
Mohun Bagan

সূচি নিয়ে ক্ষোভ, সঙ্গী ক্লান্তি, তবু ডুরান্ড ফাইনালে ইস্টবেঙ্গল-বধে আত্মবিশ্বাসী মোহনবাগান কোচ

ডার্বির মতো হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগে সবচেয়ে জরুরি, প্রস্তুতি। যে কোনও কোচই চান, তাঁর ফুটবলারদের তরতাজা অবস্থায় মাঠে নামাতে। কিন্তু মোহনবাগানের ক্ষেত্রে বিধি বাম।
Published By: Prasenjit DuttaPosted: 05:49 PM Aug 22, 2026Updated: 09:26 PM Aug 22, 2026

তিন বছর পর ডুরান্ড ফাইনালে কলকাতা ডার্বি। রবিবার মোহনবাগান (Mohun Bagan) বনাম ইস্টবেঙ্গল ম্যাচকে নিয়ে দ্বিখণ্ডিত হতে চলেছে কলকাতা। দুই দলই টাইব্রেকারে জিতে ফাইনালে উঠলেও পরিস্থিতি ভিন্ন। ইস্টবেঙ্গল ঘরের মাঠে সেমিফাইনালে খেলে চূড়ান্ত যুদ্ধে নামবে। সেখানে শিলংয়ে শেষ চারের লড়াই জিতেও মোহনবাগানের চিন্তা ক্লান্তি। তার উপর বিমানের টিকিট সমস্যায় জেরবার হয়ে মেঘালয়ের রাজধানী থেকে কলকাতা ফিরতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে সবুজ-মেরুন ফুটবলারদের। এই পরিস্থিতিতে সাংবাদিক সম্মেলনে কী বললেন মোহনবাগান কোচ?

Advertisement

বলাই বাহুল্য যে, এমন মহারণের আগে প্রস্তুতির ঠিকমতো সুযোগই পাচ্ছে না কোচ প্যানাজিওটিস দিলেমপেরিসের দল। ডার্বির মতো হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগে সবচেয়ে জরুরি, প্রস্তুতি। যে কোনও কোচই চান, তাঁর ফুটবলারদের তরতাজা অবস্থায় মাঠে নামাতে। কিন্তু বিধি বাম। এই পরিস্থিতিতে রীতিমতো বিরক্ত মোহনবাগান কোচ। গ্রুপ পর্বে প্রথম ও সেরা দল হওয়ার পরেও তাঁর দলের সঙ্গে যেভাবে আচরণ করা হয়েছে, তা নিয়ে হতাশ তিনি। তাঁর কথায়, "আমরা সূচি নিয়ে এবং বিশেষ করে গ্রুপ পর্বে প্রথম ও সেরা দল হওয়া সত্ত্বেও আমাদের সঙ্গে যেভাবে আচরণ করা হয়েছে, তাতে সত্যিই হতাশ। একজন কোচ এবং খেলোয়াড়দের জন্য বিষয়টি খুবই কঠিন।"

গ্রুপ পর্বে প্রথম ও সেরা দল হওয়ার পরেও তাঁর দলের সঙ্গে যেভাবে আচরণ করা হয়েছে, তা নিয়ে হতাশ তিনি।

মাত্র ছ'দিনের মধ্যে তিনটি ম্যাচ খেলতে হওয়ায় দলের উপর বাড়তি চাপ পড়েছে বলেও জানান তিনি। কোচের কথায়, "শুধু এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় গিয়ে ম্যাচ খেলে ফেললেই তো হয় না। গতকাল আমাদের কোনও অনুশীলনও হয়নি।" ঘন ঘন ম্যাচ এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও অনুশীলনের সুযোগ না পাওয়ায় দলের প্রস্তুতি যে ব্যাহত হয়েছে, গ্রিক কোচের মন্তব্যে সেটিই স্পষ্ট। সেই কারণেই সূচি নিয়ে অসন্তোষ গোপন রাখেননি বাগান কোচ।

তবে জয় ছাড়া আর কিছুই ভাবছেন না প্যানাজিওটিস দিলম্পেরিস। এবারের ডুরান্ড অভিযান ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়েই শুরু করেছিল মোহনবাগান। সেই অভিজ্ঞতা কি ফাইনালের আগে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেবে? প্যানোস অবশ্য অতীতের ফলকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাঁর কথায়, "দু'টি ম্যাচ একেবারেই আলাদা। আগের ম্যাচের সময় আপনারা জানতেন, পরের দু'টি ম্যাচ জিততে পারলে যোগ্যতা অর্জনের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকবে। কিন্তু এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটা এমন একটি ম্যাচ, যার পর আর আগামিকাল বলে কিছু নেই। জিততেই হবে।"

প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি হলেও ফাইনালের আগে আত্মবিশ্বাসী মোহনবাগান কোচ। তাঁর মতে, ম্যাচের মোমেন্টামই হতে পারে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

অর্থাৎ প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি হলেও ফাইনালের আগে আত্মবিশ্বাসী মোহনবাগান কোচ। তাঁর মতে, ম্যাচের মোমেন্টামই হতে পারে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। গ্রিক কোচ বললেন, "আমি শুধু বলতে চাই, এই ম্যাচে মোমেন্টাম খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়েই কথা বলব ফুটবলারদের সঙ্গে। আমাদের দল ১০০ শতাংশ দিতে তৈরি।" বিদেশিরা দলে যোগ দেওয়ায় শক্তি বেড়েছে বলেও মনে করেন তিনি। ফাইনালে অভিজ্ঞতার গুরুত্ব স্বীকার করলেও সেটাকেই সবকিছু বলে মানতে নারাজ প্যানোস। আর গোলের নীচে বিশাল কাইথকে নিয়ে প্রশংসায় পঞ্চমুখ তিনি। পরপর দু'টি ম্যাচে টাইব্রেকারে পেনাল্টি শট আটকে দলকে ফাইনালে তোলা বিশালকে দেশের সেরা গোলরক্ষক বলে জানিয়ে দিলেন তিনি। তবে ফাইলানে স্বচ্ছ রেফারিং চাইলেন তিনি। 

এদিকে প্রথম ডার্বি খেলতে নামার আগে যথেষ্ট উত্তেজিত সবুজ-মেরুনের সমীর জেলকোভিচ। ট্রফি জিতে উৎসব করতে চান তিনি। বললেন, "আগামিকাল আমার প্রথম ডার্বি এবং দলের হয়ে এটি আমার তৃতীয় ম্যাচ হতে চলেছে। ভারতীয় ফুটবলের সবচেয়ে বড় ম্যাচের অংশ হতে পেরে খুবই খুশি ও গর্বিত।" দেরিতে দলে যোগ দিলেও দ্রুত সতীর্থদের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছেন সমীর। ইস্টবেঙ্গলের দানি র‌্যামিরেজও তাঁর পূর্বপরিচিত। "দানির সঙ্গে খেলেছি। ও আমাকে চেনে। আমিও ওকে চিনি। তবে ফাইনালে সেরাটা দিয়ে জিততে চাই," বললেন সমীর। তাঁর আশা, দল হিসাবে সেরা ফুটবল খেললেই ডার্বি জিতবে মোহনবাগান।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement