মোহনবাগান ৩ (মনবীর, রবিলাল, সুহেল)
রেলওয়ে ১ (উমেশ)
ডুরান্ড ফাইনালে ডার্বি হার ভুলে কলকাতা লিগে জর্জ টেলিগ্রাফকে ৬-০ গোলে হারিয়েছিল মোহনবাগান (Mohun Bagan)। এবার বাস্তব রায়ের ছেলেদের সামনে রেলওয়ে এফসি। শনিবার ঘরের মাঠে সুপার সিক্সে ওঠার লড়াইয়ে থাকতে হলে জয় ছাড়া কোনও বিকল্প ছিল না সবুজ-মেরুনের সামনে। এমন একটা ম্যাচে বিনা যুদ্ধে সূচ্যগ্র মেদিনী না দেওয়ার পণ করে নেমেছিলেন রেলওয়ে ফুটবলাররা। সুদীপ্ত বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক মারান্ডিদের দুর্গভেদ করতে রীতিমতো কালঘাম ছোটাতে হল মোহনবাগানকে। তবে তাতে জয় আটকায়নি। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েও ৩-১ গোলে জয় পেয়েছে সবুজ-মেরুন। ৯ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে কলকাতা লিগে সুপার সিক্সের আরও কাছে মেরিনার্সরা।
সিনিয়র দলের অ্যালেক্স সাজি ও কিয়ান নাসিরির মতো ফুটবলাররা লিগে খেলছেন মোহনবাগানের হয়ে। শনিবার রেলওয়ে এফসির বিরুদ্ধে নামলেন আরও দুই সিনিয়র দলের ফুটবলার মনবীর সিং ও সাহাল আবদুল সামাদ। আগ্রাসী শুরু করেন তাঁরা। ২ মিনিটে ডানদিক থেকে ক্রস বাড়ান কিয়ান। যদিও সেই বলের নাগাল পাননি মনবীর। ৭ মিনিটে ফরোয়ার্ড বল পেয়ে বাঁদিক থেকে বক্সে কাট করে ঢোকার চেষ্টা করেন সেই মনবীর। সজাগ ছিল রেলওয়ে ডিফেন্স। পরের মিনিটেই অবশ্য সুযোগ পেয়ে গিয়েছিল রেলওয়ে। দূরপাল্লার শট গ্রিপ করার পরিবর্তে চেস্ট ট্যাপ করেন মোহনবাগান গোলকিপার। সামনে বক্সে রেলের ফুটবলার থাকলে বিপদে পড়তে পারত সবুজ-মেরুন। ১৩ রেলওয়ের উমেশ মারান্ডি দূরপাল্লার শট তেকাঠির মধ্যে থাকেনি।
১৪ মিনিটেই নাসিরির শট রুখে দেন রেলওয়ে গোলকিপার সুদীপ্ত। ১৮ মিনিটে ডানদিক থেকে বল পেয়ে সাহালের হেড গোল পোস্টের উপর দিয়ে চলে যায়। ২০ মিনিটে জোড়া সুযোগ নষ্ট মোহনবাগানের। এর মধ্যে একটা গোল লাইন সেভ। ২৮ মিনিটে সায়নের কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সে কালক্ষেপ করেন কিয়ান নাসিরি। এবারেও সুযোগ নষ্ট করে বাগান। বারবার ব্যস্ত ছিলেন রেলওয়ে গোলকিপার সুদীপ্ত বন্দ্যোপাধ্যায়। বলা চলে একাই লড়ছিলেন। ৩২ মিনিটে অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে কিয়ানের লে-অফ বিপদমুক্ত করেন রেলওয়ে অধিনায়ক অভিষেক আইচ। তবে ৪১ মিনিটে খেলার গতির বিরুদ্ধে উমেশ মারান্ডির গোলে এগিয়ে যায় রেলওয়ে। বিরতির ঠিক আগে পেনাল্টি পায় মোহনবাগান। স্পটকিক থেকে বল জালে জড়াতে ভুল করেননি মনবীর। ১-১ স্কোরলাইন নিয়ে বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধে অনেক বেশি সংঘবদ্ধ দেখিয়েছে মোহনবাগানকে। ৪৭ মিনিটে সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের শট ক্রসপিসে লেগে প্রতিহত হয়। ফিরতি বলেও সুযোগ নষ্ট করে তারা। ৫০ মিনিটে সন্দীপ মালিকের শট আটকান রেলওয়ে গোলকিপার। ৫৩ মিনিটে কিয়ানের দুরন্ত পাস থেকে ব্যবধান বাড়ান রবিলাল মাণ্ডি। পিছিয়ে পড়ে দমে যায়নি রেলওয়ে। ৫৫ মিনিটে পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনার মতো সুযোগ পেয়েছিলেন তারক হেমব্রম। গোলে শটও রেখেছিলেন। যেভাবে অনবদ্য দক্ষতায় নিশ্চিত পতন রোধ করেন বাঁচিয়ে দেন সবুজ-মেরুন গোলরক্ষক সৈয়দ জাহিদ হোসেন, তার জন্য কোনও প্রচেষ্টাই যথেষ্ট নয়। ৫৮ মিনিটে গোলের সুযোগ এসে গিয়েছিল মোহনবাগানের সামনেও। সামাদের শট বাঁচান রেলওয়ে রক্ষণের শেষ প্রহরী। ৬৩ মিনিটে এহেন সুদীপ্তকে কাটিয়েও গোলের দরজা করতে পারেননি মনবীর। পরের মিনিটে তারকের দূরপাল্লার শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট না হলে সমতা ফেরাতে পারত রেলওয়ে। ৭৮ মিনিটে কর্নার থেকে দু'জন সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারের মাঝখান থেকে দুরন্ত হেডে ব্যবধান তিনগুণ করেন পরিবর্ত হিসাবে নামা সুহেল ভাট।
৩-১ ব্যবধানে জিতলেও সিনিয়র দলের ফুটবলারদের ভূরি ভূরি গোল মিস চিন্তায় রাখবে সবুজ-মেরুনকে। রেলওয়েকে হারিয়ে তৃতীয় স্থানেই রইল মোহনবাগান। ১০ ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে ভবানীপুর। ৮ ম্যাচে ২০ পয়েন্টে দ্বিতীয় ইস্টবেঙ্গল। ইউনাইটেড কলকাতা চতুর্থ স্থানে। ১০ ম্যাচে ১৬ পয়েন্টে তারা।
