বহু বছরের প্রেম। একসঙ্গে বছরের পর বছর পথচলা। ভালোমন্দ, সুখ-দুঃখ নিয়ে কাটিয়ে যাওয়া জীবনের এক-একটা অধ্যায়। সেই সব পূর্ণতা পেয়েছিল চলতি বছরের জানুয়ারিতে। দীর্ঘ আট বছরের প্রেমজীবনের পর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন মোহনবাগান ফুটবলার কিয়ান নাসিরি ও তাঁর দীর্ঘদিনের প্রেমিকা মিহিরা সিং। এখন ভরা বিশ্বকাপের বাজার। বাতাস যখন ফুটবলের গন্ধে ম-ম, তখনই তাঁরা ছুটি কাটাচ্ছেন নির্জন সমুদ্রসৈকতে। সেই ভিডিও পোস্ট করেছেন সবুজ-মেরুন ফরোয়ার্ড।
নেটিজেনদের প্রশ্ন, হানিমুনে কোথায় গিয়েছেন তাঁরা? উত্তর হল, দক্ষিণ থাইল্যান্ডের আন্দামান সাগরে ফুকেটে। দেশটির বৃহত্তম দ্বীপ এবং অন্যতম জনপ্রিয় প্রবাল দ্বীপ এই জায়গাটি। স্ফটিক স্বচ্ছ নীল জল, মনোরম সমুদ্রসৈকত, প্রাণবন্ত নাইটলাইফে মেতে উঠেছেন কিয়ান-মিহিরা। ভ্রমণপিপাসুদের কাছে স্বপ্নের গন্তব্য এই জায়গা। তাই কিয়ানের পোস্ট করা ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। তাঁদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছেন সবুজ-মেরুন ভক্তরা।
ফাইল ছবি।
মনে করিয়ে দেওয়া যাক, কনিষ্ঠতম ফুটবলার হিসাবে ডার্বিতে হ্যাটট্রিকের নজির এখনও কিয়ান নাসিরির নামের পাশেই লেখা। জামশিদ নাসিরির পুত্র ২০২৪ সালে মোহনবাগান ছেড়েছিলেন। তবে গত মরশুমে ফের সবুজ-মেরুন জার্সি গায়ে চাপান। তিন বছরের চুক্তিতে মোহনবাগানে সই করেন তিনি। তবে ফুটবল জীবনের সফরেও মিহিরা সর্বক্ষণের সঙ্গী। মোহনবাগান আইএসএল শিল্ড জেতার পর মাঠে একসঙ্গে উদযাপন করেছিলেন যুগলে। মোহনবাগানের ম্যাচ থাকলেই সাধারণত গ্যালারিতে হাজির থাকেন মিহিরা। এখানেই শেষ নয়। বিয়ের আগের দিনও দু’জনে সময় কাটান ফুটবল মাঠে। যে ভিডিও আপলোড করে ক্যাপশন দিয়েছিলেন, ‘আমরা তো ফুটবল মাঠেই প্রেমে পড়া শুরু করেছিলাম।’
তাঁরা এখন একান্তে ছুটির মেজাজে। ভিডিওয় দেখা যাচ্ছে নীল সমুদ্রের হাতছানি। বালুকাময় সৈকতে ভালোবাসা উজাড় করে দিয়েছেন দু'জনেই। কখনও ঠোঁটে ঠোঁট রেখে ব্যারিকেড গড়ে প্রেমের পদ্য লিখেছেন, কখনও চলে গিয়েছেন বক্সিং উপভোগ করতে। কখনও তাঁদের দেখা গিয়েছে পাটোং বিচের কাছের বিখ্যাত বাংলা রোডে। সেখানে নাইটলাইফের মেতে উঠেছেন তাঁরা। দেখেছেন বিশ্বকাপও। এই মুহূর্তে ভারতে নতুন ফুটবল মরশুমের সূচনা হয়নি। অনুশীলনও শুরু হয়নি। ক্লাবগুলি দল গঠনের কাজে ব্যস্ত। হাতে তাই কিছুটা অবসরও রয়েছে। ফুটবল মাঠের বাইরে জীবনের নতুন অধ্যায়কে বসন্তের রঙে রাঙিয়ে দিতে। তবে অনেকেই বলছেন, আসন্ন মরশুমে মোহনবাগানের জার্সিতে এভাবেই উজাড় করে দিতে হবে। যদিও পরে এই ভিডিও ডিলিট করে দেন কিয়ান।
