মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে ২৩ গোলে হারাল মোহনবাগান। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এমটাই করে দেখিয়েছে মোহনবাগানের অনূর্ধ্ব-১৪ দল। বিপক্ষের ডেরার গিয়ে প্রায় দু'ডজন গোল করে নজির মেরিনার্সদের। এমন স্কোর লাইন দেখে সবুজ-মেরুন সমর্থকরা আনন্দে উদ্বেলিত।
বুধবার এআইএফএফের অনূর্ধ্ব-১৪ সাব জুনিয়র ইউথ লিগে মহামেডান স্পোর্টিংয়ের মাঠে শুরু থেকেই শাকিল শেখ, দর্পণ হাতিবড়ুয়া, সিদু সোরনদের আক্রমণের ত্র্যহস্পর্শে পুড়ে ছারখার হয়ে যায় মহামেডান। খেলা শুরুর প্রথম মিনিটেই দর্পণের গোলে এগিয়ে যায় সবুজ-মেরুন। সেই শুরু। তারপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি। গুনে গুনে ২৩ গোল করে গোষ্ঠ পাল সরণির ক্লাব। এর মধ্যে নিজেই ৮ গোল করে অনুব্রত বাউল দাস। ৬ গোল দর্পণের। শুনতে অবাক লাগলেও 'ইহাই সত্য'। এদিন প্রথমার্ধেই ১৩ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল মোহনবাগান। ঘরের মাঠে দ্বিতীয়ার্ধে আরও দশগোল খেল সাদা-কালো ব্রিগেড। এই টুর্নামেন্টে এখনও পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচে ৭৫ গোল খেয়েছে মহামেডান। সাম্প্রতিক অতীতে ২০১৯ সালে একটি প্রস্তুতি ম্যাচে বায়ার্ন মিউনিখ এফসি রটাচ এর্গানের বিরুদ্ধে ২৩ গোল দিয়েছিল। একইভাবে এদিন নির্দয় হয়ে উঠেছিল মোহনবাগানের খুদেরাও।
ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জেতার রেকর্ডটি হল ৩৬-০ গোলের। ১৮৮৫ সালে স্কটিশ কাপে বন একর্ডের বিরুদ্ধে এই নজির গড়েছিল আর্ব্রোথ। আর আন্তর্জাতিক ফুটবলে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ গোলের বিশ্বরেকর্ডটা অস্ট্রেলিয়ার নামে। ২০০১ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে সামোয়াকে ১৩ গোলে হারিয়েছিল অজি বাহিনী।
তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ গোলের বিশ্বরেকর্ড অজি ফুটবলার আর্চি থম্পসনের দখলে। সামোয়ার বিরুদ্ধে সেই ম্যাচে একাই করেছিলেন ১৩ গোল। তালিকায় যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে ডেনমার্কের সোফাস নিয়েলসেন এবং জার্মানির গটফ্রিড ফুকসের। ১৯০৮ সালের অলিম্পিকে ফ্রান্সের বিপক্ষে নিয়েলসেন এবং ১৯১২ অলিম্পিকে রাশিয়ার বিপক্ষে ফুকস করেছিলেন ১০ গোল।
৮ গোল করে অনুব্রত বাউল দাস আন্তর্জাতিক রেকর্ডের চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও উপমহাদেশের ফুটবলের ইতিহাসে অনন্য নজির গড়ে ফেলল। যতদূর স্মরণে আছে, ১৯৮৭ সালে নেপালের গণেশ থাপা ভুটানের বিপক্ষে একাই করেছিলেন ৫ গোল। তাঁর রেকর্ড মহামেডান স্পোর্টিংয়ের মাঠে ভেঙে দিল সবুজ-মেরুনের দুই কিশোর তুর্কি অনুব্রত এবং দর্পণ। বাগানের হয়ে বাকি গোলগুলি করেছে সিদু সোরেন (২), অধিনায়ক সাগ্নিক কুণ্ডু ((২), কার্তিক হেমব্রম (২), জিয়ন হাঁসদা (১) ও যিশু চক্রবর্তী (১), শেখ সাকিবউদ্দিন (১)।
সাব জুনিয়র লিগে এই বিশাল ব্যবধানে জয়ের সুবাদে লিগ টেবিলের শীর্ষস্থানে চলে গেল মোহনবাগান। চার ম্যাচে ১০ পয়েন্ট তাদের। চার ম্যাচে ১০ পয়েন্ট পেলেও ইস্টবেঙ্গল গোলপার্থক্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে লিগ টেবিলের। ৪ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট পেয়ে তৃতীয় স্থানে এসকেএম স্পোর্টস ফাউন্ডেশন কালনা। সমসংখ্যক ম্যাচ খেলে ৯ পয়েন্ট পেলেও গোলপার্থক্যে এসকেএমের ঠিক পরের স্থানেই রয়েছে ভবানীপুর এফসি। লিগ টেবিলের পঞ্চম স্থানে বেঙ্গল ফুটবল অ্যাকাডেমি। আর পাঁচ ম্যাচ খেলে এক পয়েন্ট না পেয়ে লিগ টেবিলের একেবারে শেষ স্থানে রয়েছে মহামেডানের খুদেরা।
