আগামী মরশুমে আইএসএল (ISL) কোন পথে চলবে? লিগের দায়িত্ব কার হাতে থাকবে? সেসব নিয়ে দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলন করে এআইএফএফ ও ক্লাবজোটের প্রতিনিধিরা। সেখানে আইএসএল নিয়ে একাধিক পরিকল্পনা জানায় সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন। আগামী চার বছর ক্লাবজোটই আইএসএল চালাবে। সেই সঙ্গে ওসিআই ও বিদেশি ফুটবলারের কোটা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়।
আইএসএলের প্রথম মরশুম থেকে লিগের দায়িত্ব ছিল এফএসডিএলের কাছে। গতবছর সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন দায়িত্ব নিয়ে সংক্ষিপ্ত লিগ চালায়। মাঝে জিনিয়াস স্পোর্টসের হাতে লিগের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার কথা উঠেছিল। শেষমেশ ক্রীড়ামন্ত্রী ডাঃ মনসুখ মাণ্ডব্যের হস্তক্ষেপে সমস্ত সমস্যা মেটে। সেখানেই ঠিক হয়ে যায়, ক্লাবজোট আইএসএল চালাবে। আইএসএল ৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে।
এদিন সাংবাদিক সম্মেলন করে এআইএফএফের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, চারবছর দায়িত্ব নিচ্ছে ক্লাবজোট। তবে দু'বছর পর তারা থাকতে চায় নাকি বেরিয়ে যেতে চায় কি না, সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। ক্লাবপিছু ১.১ কোটি টাকা ব্যয় করবে। যে খবর 'সংবাদ প্রতিদিনে' আগেই প্রকাশিত হয়েছিল। দু'টি ভাগে ৫৫ লক্ষ টাকা করে দেবে ক্লাবগুলো। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ক্লাবগুলোকে লিগে অংশগ্রহণ করার কথা চূড়ান্ত করতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, আই লিগ চ্যাম্পিয়ন ডায়মন্ড হারবার আইএসএলে খেলবে কি না? বাংলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরেই একেবারে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়েছে ক্লাবটির ভাগ্য। ক্লাবের চিফপেট্রন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এআইএফএফ-এর সাধারণ সম্পাদক এম. সত্যনারায়ণ জানিয়েছেন, তারা ডায়মন্ড হারবারকে ধরেই এগোচ্ছেন।
দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলনে এআইএফএফ ও ক্লাবজোটের প্রতিনিধিরা
এর সঙ্গে এআইএফএফ জানিয়েছে, ওসিআই প্লেয়ারদের বিদেশি হিসেবেই গণ্য করা হবে। এছাড়া ওসিআই প্লেয়ার সই করানো ঐচ্ছিক হিসেবে ধরা হচ্ছে। বিদেশে হিসেবে ৬জনকে সই করানো যাবে। আগের মতোই খেলানো যাবে ৪ জনকে। তবে একজন ভারতীয় স্ট্রাইকারকে বাধ্যতামূলক হিসেবে খেলানোর যে কথা চলছিল, তা নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। এম. সত্যনারায়ণ জানান, "ভালো ভারতীয় স্ট্রাইকার যে আমাদের দুর্বলতা, সেটা ক্লাবেরাও জানে। আশা করি, তারা ব্যাপারটা দেখবে। কিন্তু আমরা ক্লাবগুলোকে বলতে পারি না যে, একজন ভারতীয় স্ট্রাইকার খেলাতেই হবে। কারণ সেটা কোচের পরিকল্পনা।"
