পথে নেমে প্রতিবাদ করেছেন বিশিষ্টরা। কিন্তু কমিশন রয়েছে কমিশনেই। কম্পটন দত্ত, মেহতাব হোসেনদের পর এবার এসআইআর শুনানিতে তলব করা হল জাতীয় দলের প্রাক্তন ফুটবলার রহিম নবিকে। জানা গিয়েছে, শনিবার প্রাক্তন ফুটবলারকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ওইদিনই এসআইআর শুনানিতে হাজিরা দিয়েছিলেন জাতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার লক্ষ্মীরতন শুক্ল।
জাতীয় দলের ক্রিকেটার মহম্মদ শামি, প্রাক্তন ক্রিকেটার লক্ষ্মীরতন শুক্লাদের ডাকা হয়েছে এসআইআরে। আবার প্রাক্তন ফুটবলার মেহতাব হোসেন, কম্পটন দত্ত, অলোক মুখোপাধ্যায়দেরও ডাক এসেছে। যাঁরা দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন বা এখনও প্রতিনিধিত্ব করেছেন, তাঁদেরও কি নিজেদের বৈধ ভোটার বলে প্রমাণ করতে হবে? প্রশ্ন তুলছেন ক্রীড়াবিদরা। খেলোয়াড়দের এসআইআরের নামে হেনস্তা করা হচ্ছে অভিযোগ এনে স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিনে প্রতিবাদে পথে নেমেছিলেন তাঁরা।
গত সোমবার বিবেকানন্দের জন্মবার্ষিকীতে কলকাতায় ভবানীপুর ক্লাবের সামনে ভিন্ন ক্ষেত্রের প্রায় ১৫০ জন ক্রীড়াবিদ প্রতিবাদে শামিল হন। দীপেন্দু বিশ্বাস বলেন, “আমাদের বক্তব্য, কোনও বৈধ ভোটার যেন বাদ না যায়। খেলোয়াড়দের এভাবে এসআইআরে ডাকাটা অসম্মানের। তাঁদের যথাযথ সম্মান দেওয়া হোক।” তারপরেও নোটিস পাঠানো হয়েছে নবিকে। মোহনবাগান ক্লাবের সচিব সৃঞ্জয় বোস এবং প্রাক্তন সভাপতি টুটু বোসকেও তলব করা হয়েছে।
এসআইআর তলব থেকে বাদ যাননি নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন, কবি জয় গোস্বামী কিংবা অভিনেতা-সাংসদ দেবও। এঁদের মতো বিশিষ্টদের শুনানির নোটিস পাঠানোকে কমিশনের অমানবিক, অসংবেদনশীল পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেকথা স্পষ্ট করে জানিয়েই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি লিখেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, যে পদ্ধতিতে শুনানি চলছে, তা ত্রুটিযুক্ত। অবিলম্বে এই পদ্ধতি বন্ধ হোক। তবে খেলোয়াড়দের এসআইআর 'হেনস্তা' সমানে চলিতেছে।
অন্যদিকে, শনিবার এসআইআর শুনানিতে হাজিরা দিয়েছিলেন বাংলা দলের হেডকোচ লক্ষ্মীরতন শুক্ল। তিনি বলেন, "এটা সিস্টেমের কাজ, সিস্টেমের উপর ভরসা আছে। কিন্তু কারও যেন কোনওরকম ক্ষতি না হয়।" তাঁর বাবা এবং দাদাকেও তলব করা হয়েছে বলে খবর। এছাড়া মহম্মদ শামিকে তলব করা হলেও তিনি এখনও হাজিরা দেননি।
