এর আগেও অমিয় ঘোষের কোচিংয়ে ইস্টবেঙ্গল রানার্স হয়েছে গোথিয়া কাপে। কিন্তু ভারতজুড়ে এভাবে প্রচার হয়নি ইস্টবেঙ্গলের কাহিনি। আর এখানেই মিনার্ভা কর্ণধার রঞ্জিত বাজাজের কৃতিত্ব। জুনিয়র পর্যায়ে গোথিয়া কাপ, ডানা কাপ এবং হেলসিঙ্কি কাপ জেতার পর রঞ্জিত বাজাজ যেভাবে মিনার্ভা অ্যাকাডেমির কৃতিত্বকে সারা ভারতে ছড়িয়ে দিতে পেরেছেন, ফুটবল সমর্থকরা দাবি তুলেছেন, অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপে ভারতীয় দলের দায়িত্ব রঞ্জিত বাজাজের হাতে তুলে দিতে।
পরিস্থিতি যে দিকে যাচ্ছে, তাতে বৃহস্পতিবার ফেডারেশনের কার্যকরী কমিটির মিটিংয়ে সদস্যরা হয়তো রঞ্জিত বাজাজের নাম অনূর্ধ্ব-১৫ জাতীয় দলের কোচ হিসাবে ঘোষণা করে দিতে পারেন। আর তা হলে সেটা হবে ভারতীয় ফুটবলের জন্য অভিনব ব্যাপার। কোনও ক্লাব কর্ণধার এই প্রথম জাতীয় দলের দায়িত্বে! তবে লড়াইয়ে আছেন বিবিয়ানো ফার্নান্ডেজও। টেকনিক্যাল কমিটির অনেকেই চাইছেন তাঁকেও।
পরিস্থি্তি যে দিকে যাচ্ছে, তাতে বৃহস্পতিবার ফেডারেশনের কার্যকরী কমিটির মিটিংয়ে সদস্যরা হয়তো রঞ্জিত বাজাজের নাম অনূর্ধ্ব-১৫ জাতীয় দলের কোচ হিসাবে ঘোষণা করে দিতে পারেন।
এবারই প্রথম অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপের আয়োজন করছে ফিফা। এই প্রতিযোগিতা, যতটা না প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক, তার থেকেও বেশি ফুটবলকে কেন্দ্র করে ফেস্টিভ্যালের চেহারা দিতে চাইছে ফিফা। সেই কারণেই ফিফার অন্তর্ভুক্ত যত দেশ রয়েছে, সবাইকে এই জুনিয়র বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই বিশ্বকাপে খেলার জন্য কোনও যোগ্যতানির্ণায়ক ম্যাচ খেলতে হবে না কোনও দেশকেই। সেই কারণেই অক্টোবর মাসে আজারবাইজানে অনুষ্ঠিত এই জুনিয়র বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে পারবে ভারতীয় দল।
রঞ্জিত বাজাজ। ফাইল ছবি।
জুনিয়র ফুটবল ডেভেলপমেন্টের জন্য ফিফার এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরই, ভারতীয় কর্তারা আলোচনা শুরু করেন, কাকে কোচ করা হবে। কার হাতে দায়িত্ব দেওয়া যায় এই জুনিয়র দলের? ততদিনে গোথিয়া কাপ, হেলসিঙ্কি কাপ এবং ডানা কাপ জিতে ভারতীয় ফুটবলে আলোড়ন ফেলে দিয়েছেন রঞ্জিত বাজাজ। ম্যাচের আগে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে ড্রেসিংরুমে ফুটবলারদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য তাঁর ভাষণ রিলের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে ভারতীয় ফুটবল সমাজে। রঞ্জিত নিজেও দাবি জানাতে থাকেন, তাঁকে অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপে জাতীয় দলটিকে কোচিংয়ের একবার দায়িত্ব দেওয়া হলে তিনি চ্যাম্পিয়ন করে দেবেন। কারণ, এর আগে বিশ্বফুটবলের নামী-দামি দেশগুলির ক্লাবদের হারিয়ে জুনিয়র পর্যায়ে মিনার্ভাকে চ্যাম্পিয়ন করে এনেছেন তিনি।
কিছুদিন আগেই বিজয়নের নেতৃত্বে টেকনিক্যাল কমিটির সামনে বিশ্বকাপ নিয়ে পরিকল্পনা বিস্তৃতভাবে জানানোর জন্য ডাকা হয়েছিল রঞ্জিত বাজাজকে। কিন্তু অনেকেই ততক্ষণে বিবিয়ানো ফার্নান্ডেজকে কোচ ঠিক করে ফেলেছেন। এর একটাই কারণ, কোচিং লাইসেন্স। অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপের কোচ ঠিক করার জন্য ফেডারেশন বিজ্ঞাপন দিয়ে জানিয়েছিল, কোচের ন্যূনতম ‘এ’ লাইসেন্স না হলে ‘প্রো লাইসেন্স' থাকতে হবে। বিবিয়ানোর তা থাকলেও রঞ্জিত বাজাজের সেরকম কিছুই নেই। টেকনিক্যাল কমিটির সামনে গিয়ে রঞ্জিত জানান, ফেডারেশন একজন প্রো লাইসেন্স কোচ চাইলেও, তাঁর কোচিং টিমে তিনজন প্রো লাইসেন্স কোচ রয়েছেন। ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের প্রাক্তন ম্যানেজার স্যর অ্যালেক্স ফার্গুসনের উদাহরণ দিয়ে বাজাজ বলেন, ফার্গুসনের ডিগ্রি না থাকলেও, তাঁর কোচিং টিমের সবাই উচ্চ লাইসেন্সধারী কোচ ছিলেন। এক্ষেত্রে তাঁর দায়িত্ব হবে, পুরো দলটাকে ম্যানেজারের মতো নিয়ন্ত্রণ করা। যা গোথিয়া কাপেও তিনি করেছেন।
টেকনিক্যাল কমিটির সামনে গিয়ে রঞ্জিত জানান, ফেডারেশন একজন প্রো লাইসেন্স কোচ চাইলেও, তাঁর কোচিং টিমে তিনজন প্রো লাইসেন্স কোচ রয়েছেন।
এবার বৃহস্পতিবারের টেকনিক্যাল কমিটির সদস্যদের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া রঞ্জিত বাজাজের আর করার কিছুই নেই। এদিন ফোনে তিনি বললেন, ‘‘আমার যা বলার বলেছি। এবার ফেডারেশনের কার্যকরী কমিটির সদস্যরা সিদ্ধান্ত নেবেন। এটুকু বলতে পারি, সুযোগ পেলে নিজের কোচিং টিম নিয়ে সেরাটুকু দেব।’’ আপাতত বৃহস্পতিবারের কার্যকরী কমিটির মিটিংয়ের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর অন্য কোনও উপায় নেই। যেরকম এই মিটিংয়েই সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা, জামশেদপুর এফসি-র বদলে চার্চিল ব্রাদার্সকে আইএসএলে সরাসরি সুযোগ দেওয়ার।
