রাজ্যে পালাবদলের পরই অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন শতদ্রু দত্ত। ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসিকে কলকাতা-সহ ভারতের একাধিক শহরে আনার মূল উদ্যোক্তা ছিলেন শতদ্রু। কিন্তু ২০২৫-র ডিসেম্বরে যুবভারতীতে মেসিকে দেখা নিয়ে যে বিশৃঙ্খলা হয়, তার জেরে জেল খেটেছেন কোননগরের ব্যবসায়ী। যার জন্য আঙুল তোলা হয়, তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের দিকে। এবার তৃণমূল প্রার্থী অরূপ টালিগঞ্জ বিধানসভায় হারতেই সোশাল মিডিয়ায় মুখ খোলা শুরু করলেন শতদ্রু।
ফেসবুকে একের পর এক স্টোরি আপলোড করেছেন তিনি। যার কোনওটায় বিজেপি প্রার্থী পাপিয়া অধিকারীর কাছে অরূপের হারের ছবি। সঙ্গে লিখেছেন, 'তোমার খেলা শেষ। এবার আমার খেলা শুরু।' কী 'খেলা' হতে পারে, তারও ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন শতদ্রু। একটি স্টোরিতে তিনি জানিয়েছেন, অবিলম্বে সাংবাদিক সম্মেলন করবেন। যেখানে সবকিছু 'ফাঁস' করবেন। একটি স্টোরিতে কারও নাম না করে লিখেছেন, তাঁর দলের থেকে জোর করে মাঠে ঢোকার অনুমতিপত্র নেওয়া হয়েছে। অস্বীকার করলে তাঁদের ঘরে বন্দি করে দেওয়া হয়। তাঁকে 'ব্ল্যাকমেল' করা হয়েছে বলেও অভিযোগ শতদ্রুর। যাঁরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাঁদের ফল ভুগতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শতদ্রু।
একটি স্টোরিতে ক্ষোভ উগরে লিখেছেন, তাঁর তিন বছরের পরিকল্পনা ধূলিসাৎ করে দেওয়া হয়েছে। মেসিকে ভালোভাবে দেখার আশা ভক্তদের পূরণ হয়নি। তাঁকে 'বলির পাঁঠা' বানানোয় ৩৮ দিন জেলে থাকতে হয়েছে। এবার শতদ্রু জানিয়ে দিয়েছেন, ৫০ কোটির ক্ষয়ক্ষতি ও ব্যক্তিগত অপমানের জেরে ৫০ কোটির মানহানির মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
শতদ্রু দত্তের ফেসবুক স্টোরির স্ক্রিনশট
শতদ্রু দত্তের ফেসবুক স্টোরির স্ক্রিনশট
শতদ্রু দত্তের ফেসবুক স্টোরির স্ক্রিনশট
শতদ্রু দত্তের ফেসবুক স্টোরির স্ক্রিনশট
টালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির পাপিয়া বিশ্বাসের কাছে অরূপ বিশ্বাস ৬০১৩ বিশ্বাস হেরেছেন। রাজ্যে ২০৭টি আসন জিতে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা অর্জন করেছে বিজেপি। যেখানে তৃণমূল জিতেছে ৮০টি আসন। অরূপের হারের পর সোশাল মিডিয়ায় মিমের বন্যা শুরু হয়েছে। কেউ বলছেন, 'রাজ্যের পালাবদলে গোল করলেন মেসি।' কেউ বা বলছেন, 'থ্যাঙ্ক ইউ মেসি দা।' আবার অনেকে লিখেছেন, 'সময় অনেক কিছুর উত্তর দেয়।'
১৩ ডিসেম্বর শতদ্রু দত্তের আয়োজিত 'দ্য গোট ট্যুরে' কলকাতায় এসেছিলেন লিওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেজ ও রড্রিগো দি’পল। কিন্তু ৬০ হাজার দর্শক হাজার-হাজার টাকার টিকিট কেটেও মেসিকে ভালোভাবে দেখতে পাননি। অভিযোগ, এর জন্য দায়ী অরূপ বিশ্বাস ও তাঁর অনুগামীরা। মেসিকে দেখতে না পেয়ে স্টেডিয়ামে ভাঙচুর করেন ক্ষুব্ধ দর্শকরা। কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় যুবভারতী। এরপর বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল শতদ্রুকে। ৩৮ দিন জেলও খাটতে হয়েছিল। এবার রাজ্যে পালাবদলের পরই মুখ খুললেন তিনি।
