সোশাল মিডিয়ায় একটি ছবি ঘিরে শোরগোল। আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সি গায়ে কৃষ্ণাঙ্গ এক কিশোর। পায়ে ফুটবল। এমন দৃশ্য সচরাচর দেখা যায় না। তাই ফুটবলপ্রেমীদের মনে কৌতূহল, কে এই কৃষ্ণাঙ্গ কিশোর? কোথা থেকে এল? প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই সামনে এসেছে এক অবিশ্বাস্য কাহিনি।
বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বজয়ের স্বপ্ন ভেঙেছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার। তবে টুর্নামেন্ট শেষ হতেই ভবিষ্যতের নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছেন স্টিফেন 'কিকি' র্যামোস। বুয়েনস আইরেসে ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে অনূর্ধ্ব-১৭ দলের প্রস্তুতি ম্যাচে আন্তর্জাতিক মঞ্চে অভিষেক হয়েছে তার। অভিষেকেই গোল করে নজর কেড়েছে কিকি।
২০০৯ সালের ৩ এপ্রিল হাইতিতে জন্ম কিকির। মাত্র ৯ মাস বয়সে, ২০১০ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রাণে বেঁচে গেলেও তার দেশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। পরে এক আর্জেন্টাইন দম্পতি তাকে দত্তক নেন। উল্লেখ্য, হাইতির সেই ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রায় ৩ লক্ষ ১৬ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল বলে ২০১১ সালে সরকারিভাবে জানানো হয়। ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর মাত্র ৯ মাস বয়সে তাঁকে দত্তক নেন আর্জেন্টিনার এক দম্পতি। তারপর থেকেই আর্জেন্টিনাই তাঁর দেশ।
ভেলেজ সার্সফিল্ডের যুব দলে খেলতে খেলতেই নজরে পড়েন আর্জেন্টিনার প্রাক্তন ফুটবলার ও অনূর্ধ্ব-১৭ দলের কোচ দিয়েগো প্লাসেন্তের। তাঁর হাত ধরেই জাতীয় দলে জায়গা পেয়েছে কিকি। গতি, বল নিয়ন্ত্রণ, ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে উঠে আসার ক্ষমতা, গোল করার সহজাত দক্ষতায় ইতিমধ্যেই প্রশংসা কুড়িয়েছে এই লেফট উইঙ্গার। চলতি বছরের অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার অন্যতম ভরসা সে-ই। অনেকেই এখন থেকেই তাকে ভবিষ্যতের মেসি বলে ডাকতে শুরু করেছেন।
সিনিয়র আর্জেন্টিনা দলের হয়ে কিকি খেললে, ৫৩ বছর পর প্রথমবার কোনও অ-আর্জেন্টাইন ফুটবলার নীল-সাদা জার্সি গায়ে মাঠে নামবেন। মজার ব্যাপার হল, দু'জনেই আর্জেন্টিনায় গিয়ে প্রথমে ভেলেজ সার্সফিল্ড ক্লাবেই খেলেছেন। প্রসঙ্গত, ১৯৭৩ সালে প্যারাগুয়ের বংশোদ্ভূত হেরিবের্তো কোরেয়ার আর্জেন্টিনার জার্সিতে খেলেছিলেন। ২০২৬ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে কাতারে হবে ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ। সেখানে 'সি' গ্রুপে অস্ট্রেলিয়া, ডেনমার্ক ও মোজাম্বিকের সঙ্গে একই গ্রুপে রয়েছে আর্জেন্টিনা।
