পরপর দুই মরশুমে কোনও ট্রফি নেই। এবার রিয়াল মাদ্রিদের ড্রেসিংরুমও সম্পূর্ণ ভাবে ভেঙে পড়েছে। কোচ আলভারো আরবেলোয়ার উপর থেকে পরের পর আস্থা হারাচ্ছেন প্লেয়াররা। ট্রেনিংয়ে মারামারি বেঁধে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, মারামারিতে আহত প্লেয়ারকে নিয়ে হাসপাতালেও ছুটতে হচ্ছে!
সহজে, রিয়াল মাদ্রিদ শিরোনামে। তবে সে শিরোনাম, বিতকর্কিত শিরোনাম। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ-লা লিগা হাতছাড়া হওয়ার পর এটা মোটামুটি নিশ্চিত যে, আরবেলোয়াকে আর কোচ হিসেবে রাখবে না রিয়াল। সব কিছু ঠিকঠাক চললে, হোসে মোরিনহো দায়িত্ব নিতে পারেন স্পেনের বিখ্যাত ক্লাবের। অতীতে মাদ্রিদের কোচিং করিয়েছেন মোরিনহো। মহাতারকা সমন্বিত টিমকে কী ভাবে ম্যানেজ করতে হয়, খুব ভালো করে জানেন তিনি। ইতিমধ্যে বলা হচ্ছে, রিয়ালের ছ’জন প্লেয়ার আস্থা হারিয়েছেন কোচের উপর থেকে। তাঁরা চান না, পরের মরশুমে আরবেলোয়া দলের কোচ থাকুন। কোচের সঙ্গে তাঁরা কথা বলাই বন্ধ করে দিয়েছেন!
কিন্তু এত পর্যন্ত যা লেখা হল, কিছুই নয়। আসল হল, টিমের প্লেয়ারদের মধ্যে সম্পর্কের ঘোর অবনতি। এতটাই যে, সতীর্থের গায়ে হাত তুলতেও দু’বার ভাবছেন না প্লেয়াররা! যেমন গত ফেব্রুয়ারিতে টিমের সতীর্থ আলভারো কারেরাসকে চড় মেরে বসেছিলেন রুডিগার! যেমন বৃহস্পতিবার ড্রেসিংরুমে ফের হাতাহাতি বেঁধে গেল চুয়ামেনি আর ফেডেরিকো ভালভার্দের মধ্যে! ঘটনার সূত্রপাত, বুধবার। প্রথমে হাতাহাতি হয় চুয়ামেনি আর ভালভার্দের মধ্যে। এ দিন তা মিটমাট করে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল দুই ফুটবলারকেই। তা, মাঠের যেখানে বুধবার দু’জনের বিবাদ বেঁধেছিল, সেখানে চুয়ামেনি-ভালভার্দে যানও। কিন্তু উরুগুয়ের মহাতারকা মিডফিল্ডার চুয়ামেনির সঙ্গে করমর্দন করে ব্যাপারটাকে মিটিয়ে ফেলতে চাননি। যার ফলে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ড্রেসিংরুমেই দু’জনের মধ্যে মারপিট বেঁধে যায়! চুয়ামেনি সজোরে ঘুঁষি চালিয়ে দেন! যার পর ভালভার্দেকে নিয়ে হাসপাতালে যেতে হয়।
বৃহস্পতিবার ট্রেনিং শেষে রিয়ালের একজন প্লেয়ারাও মাঠ ছেড়ে যেতে পারেননি। টিমের পক্ষ থেকে জরুরিভিত্তিক বৈঠক ডাকা হয়। খবর যা, চুয়ামেনি এবং ভালভার্দে, দুই ফুটবলারের বিরুদ্ধেই শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ দায়ের করেছে মাদ্রিদ। ভালভার্দে বাকি মরশুম নির্বাসিতও হতে পারেন বলে খবর।
