shono
Advertisement
AIFF

ক্লাবগুলির আর্থিক সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসবে কে? একান্ত সাক্ষাৎকারে ফেডারেশনের সত্যনারায়ণ

জিনিয়াস স্পোর্টসের সঙ্গে প্রথম দফার মিটিংয়ের পর খুশি নয় ক্লাবগুলো। কারণ, ক্লাবের ভাঁড়ারে লভ্যাংশের ভাগ শূন্য। সব কিছু নিয়েই 'সংবাদ প্রতিদিন'-এর কাছে খুল্লামখুল্লা বক্তব্য রাখলেন ফেডারেশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল সত্যনারায়ণ।
Published By: Prasenjit DuttaPosted: 02:51 PM Apr 25, 2026Updated: 02:51 PM Apr 25, 2026

জিনিয়াস স্পোর্টস কি শেষ পর্যন্ত কমার্শিয়াল পার্টনার হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হতে পারবে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে? জিনিয়াস স্পোর্টসের সঙ্গে প্রথম দফার মিটিংয়ের পর খুশি নয় ক্লাবগুলো। কারণ, ক্লাবের ভাঁড়ারে লভ্যাংশের ভাগ শূন্য। সব কিছু নিয়েই 'সংবাদ প্রতিদিন'-এর কাছে খুল্লামখুল্লা বক্তব্য রাখলেন ফেডারেশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল সত্যনারায়ণ। শুনলেন দুলাল দে। 

Advertisement

আপনার কী মনে হয়, জিনিয়াস স্পোর্টসের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত ফেডারেশন চুক্তি করতে পারবে?
সত্যনারায়ণ: সমস্যাটা কোথায় বলুন তো? কোনও কোনও জায়গা থেকে এই চুক্তির ব্যাপারে শুধুই নেগেটিভ বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছে।

ঠিক আছে। জিনিয়াস স্পোর্টস নিয়ে আপনিই তাহলে পজিটিভ দিকগুলি খুলে বলুন।
সত্যনারায়ণ: এ তো পাবলিক বিডিংয়ের মধ্য দিয়ে হয়েছে। কমার্শিয়াল পার্টনার চেয়ে আগে একবার বিড থেকে দেখেছেন তো কী হয়েছে। কেউ এক টাকা নিয়েও এগিয়ে আসেনি। এবার জিনিয়াস স্পোর্টস বছরে ৬৩ কোটি টাকা নিয়ে বিডে এগিয়ে এসেছে। এর নীচে ফ্যানকোড এসেছে ৩৬ কোটি নিয়ে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই জিনিয়াস স্পোর্টস অনেকটা এগিয়ে।

সে তো বুঝলাম। কিন্তু এই ৬৩ কোটি থেকে প্রতিবছর ফেডারেশনের কিছু অর্থ লাভ হবে। ক্লাবগুলি তো কিছুই পাবে না।
সত্যনারায়ণ: দেখুন, ভারতীয় ফুটবল থেকে কেউই লাভ করে না। সব কিছুর জন্যই একটু সময় দিতে হয়। কলকাতা লিগ শুরু সময় আপনাদের কলকাতার ক্লাবগুলি কি আইএফএ-তে গিয়ে জিজ্ঞাসা করে, ক্লাবরা কী লাভ পাবে? আর শর্তমতো জিনিয়াস স্পোর্টস বছরে ৬৩ কোটি দিলে ফেডারেশন পাবে ১৩ কোটি টাকা। আর এখানেই আমাদের সম্পর্কে ভুল বার্তা ছড়ানো হচ্ছে। এই ১৩ কোটি টাকা আমরা নেব না। পুরোটাই লিগের রেফারি, ডিসিপ্লিনারি বিষয় সব আরও অনেক কিছুর পিছনে খরচ করা হবে।

আপনারা আগে রিলায়েন্সের থেকে বছরে পেতেন ৫০ কোটি টাকা। সেই টাকা থেকে কোচেদের বেতন, জুনিয়র ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রাম-সহ আরও অনেক কিছু চলত। সেই কাজগুলি তাহলে কীভাবে হবে? কারণ, ফেডারেশনের সবচেয়ে লাভজনক লিগ আইএসএল থেকে তো তাহলে কোনও টাকাই পাবে না ফেডারেশন।
সত্যনারায়ণ: সেটা তো ফেডারেশনের চিন্তা। আমরা নিজেরা বেতন কমাবে, না কি অন্যভাবে কিছু করব সেটা আমাদের চিন্তা। এইবারই দেখুন না, আমরা যদি লিগ না চলাতাম, তাহলে ১৪টি ক্লাব-সহ তাদের এত হাজার ফুটবলারের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে চলে যেত। আমরা কিন্তু লিগ চালাচ্ছিল। আর সেটা হচ্ছে মাত্র ২৫ কোটি টাকায়। আগে শুনতাম, ডাবল লেগ হত ১৫০ কোটিতে। তারমানে আমরা বাজেট কমিয়েছি। ঠিকভাবে এগোলে বাজেট কমিয়েও লিগ করা যায়। ফ্যানকোডের বিড ৩৬ কোটি। তাহলে এত কম বাজেটের মধ্যে ফ্যানকোড কীভাবে লিগ চালাবে?

তাহলে কি ক্লাবরা কিছুই আর্থিক সুবিধা পাবে না?
সত্যনারায়ণ: কেন পাবে না? শর্তই রয়েছে। লভ্যাংশর ৬০ শতাংশ ক্লাবরা পাবে।

কিন্তু এই লভ্যাংশ কবে পাওয়া যাবে, সেটাই তো জিনিয়াস স্পোর্টস বলতে পারছে না। শুধু ফেডারেশন ১৩ কোটি পাবে। সেটা নিশ্চিত।
সত্যনারায়ণ: লভ্যাংশ পেতে গেলে জিনিয়াস স্পোর্টসকে একটু সময় তো দিতেই হবে। প্রথম বছরেই লাভ উঠে যাবে এরকম তো হয় না। আর তাছাড়া জিনিয়াস স্পোর্টস তো বলেছে, দ্বিতীয় বছরে লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।

সম্ভাবনা বলেছে। গ্যারান্টি তো দেয়নি।
সত্যনারায়ণ: ভারতীয় ফুটবলে কেউ কোনওদিন গ্যারান্টি দিয়ে আর্থিক লাভ করেনি। ভারতীয় ফুটবল এভাবেই এতদিন ধরে চলে এসেছে। যাঁরা ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের বুঝতে হবে, ফুটবলে সব সময় লাভক্ষতির হিসেব কষা যায় না। ফুটবল চালানো অনেকটা সামাজিক দায়বদ্ধতার মতো বিষয়। এতদিন কি ক্লাবগুলি কোটি কোটি টাকা লাভ করেছে? যখন দেখা যাচ্ছে, বিডে কেউ এগিয়ে আসছে না। জিনিয়াস স্পোর্টসের মতো আন্তর্জাতিক একটি কোম্পানি এগিয়ে এসেছে ভারতীয় ফুটবলে টাকা ঢালতে। সবার উচিত একসঙ্গে হাত ধরাধরি করে চলা। জিনিয়াস স্পোর্টসের আন্তর্জাতিক মানের পরিকাঠামোর সাহায্য পেতে পারি আমরা।

জিনিয়াস স্পোর্টস নিয়ে আপনার এই আগ্রহর পিছনে একটা কথা ঘুরছে ভারতীয় ফুটবল মহলে।
সত্যনারায়ণ: সেটা আবার কী?

আপনি কর্নাটকের প্রতিনিধি। আর কর্নাটক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে এই ‘জিনিয়াস স্পোর্টস’-এর। তাই জিনিয়াস স্পোর্টসের জন্য আপনার উদ্যোগটা বেশি।
সত্যনারায়ণ: যাঁরা বলছেন, বোকার মতো বলছেন। এটা ঠিক যে চুক্তিমতো জিনিয়াস স্পোর্টস কর্নাটক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ফুটবলের যাবতীয় ডেটা সরবরাহ করে। কিন্তু তার সঙ্গে ফেডারেশনের কমার্শিয়াল বিডের কোনও সম্পর্ক নেই। কর্মাশিয়াল পার্টনার ঠিক করতে ফেডারেশন সবার সামনে পাবলিক টেন্ডার ডেকেছিল। যেখানে সবচেয়ে বেশি বিড করেছে জিনিয়াস স্পোর্টস। কোনও লুকোছাপা নেই। সবার সামনেই সেই বিড পেপার খোলা হয়েছে। সব ভিত্তিহীন অভিযোগ।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement