‘জিনিয়াস স্পোর্টস’ হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম প্রধান ডেটা এবং প্রযুক্তি সংস্থা। বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে কাজ করে এই জিনিয়াস স্পোর্টস। বিভিন্ন দেশে এই সংস্থাটি কীভাবে কাজ করছে, তারই বিস্তৃত প্রেজেন্টেশন বৃহস্পতিবার আইএসএল ক্লাবগুলির সামনে অনলাইন মিটিংয়ে তুলে ধরলেন জিনিয়াস স্পোর্টসের কর্তারা। কিন্তু ক্লাবরা যে উত্তর পেতে জিনিয়াস স্পোর্টসের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন, সেই ঠিক কবে থেকে জিনিয়াস স্পোর্টস লভ্যাংশের টাকা ক্লাবগুলিকে দিতে পারবে, তা নিয়ে কোনও উত্তরই প্রথম মিটিংয়ে দিতে পারল না জিনিয়াস স্পোর্টস।
স্বাভাবিকভাবেই মিটিং শেষে বেশিরভাগ ক্লাবদেরই তাই বক্তব্য, "জিনিয়াস স্পোর্টস বড় কোম্পানি। পৃথিবীর বিভিন্ন লিগে কাজ করছে এটা ঠিক। কিন্তু জিনিয়াস স্পোর্টসের ব্যবসায়িক বিশালত্ব দেখে ক্লাবগুলির লাভ কী হবে। ক্লাবগুলো তো জানতে পারল না, আইএসএল খেলে তাদের ঘরে কীভাবে টাকা আসবে।"
বৃহস্পতিবার জিনিয়াস স্পোর্টসের সঙ্গে ক্লাবগুলির মিটিংয়ে মোটামুটি সব ক্লাব উপস্থিত থাকলেও, ছিলেন না মোহনবাগান এবং ইন্টার কাশীর কোনও প্রতিনিধি। ইস্টবেঙ্গলের পক্ষে অনলাইন মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন, ক্লাবের ফুটবল সচিব সৈকত গঙ্গোপাধ্যায় এবং ইমামির পক্ষে সন্দীপ আগরওয়াল। এরকম গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে মোহনবাগানের কোনও প্রতিনিধি কেন উপস্থিত ছিলেন না, তা নিয়ে রীতিমতো ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। তাহলে কি মোহনবাগান প্রতিনিধিরা মিটিংয়ের আগেই জেনে গিয়েছিলেন যে, এদিনের মিটিংয়ে ক্লাবদের জন্য কোনও সমাধার কিছুই প্রকাশ হবে না? শুধুই জিনিয়াস স্পোর্টসের ব্যবসায়িক প্রতিপত্তি সম্পর্কেই জানা যাবে?
এমনিতে ঠিক হয়ে আছে, ক্লাবগুলি লভ্যাংশের পাবে ৬০ শতাংশ। কমার্শিয়াল পার্টমার পাবে ৩০ শতাংশ। এবং ফেডারেশন পাবে ১০ শতাংশ। এর বাইরে বিনিয়োগের ২০ শতাংশ প্রতিবছর কমার্শিয়াল পার্টনার দিতে বাধ্য থাকবে ফেডারেশনকে। এই হিসাবে জিনিয়াস স্পোর্টস এদিনের মিটিংয়ে ক্লাবগুলিকে পরিষ্কার করে কিছুই জানাতে পারেননি, প্রথম বছর আদৌ কোনও লভ্যাংশ থেকে টাকা দেওয়া সম্ভব কি না। যা থেকে একটা ব্যাপার পরিষ্কার, প্রথম বছর অর্থ বিনিয়োগ করে ক্লাবগুলি আইএসএল খেললেও, বিনিয়মে মরশুম শেষে কোনও অর্থই পাবে না। এমনকী পরের বছরেও পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়েই কোনও গ্যারান্টি এদিনের মিটিংয়ে দিতে পারেনি জিনিয়াস স্পোর্টস। বরং পরের বছর নিয়ে লভ্যাংশ পাওয়া যেতে পারে বলে আশার কথা শোনানো হয়েছে। নিশ্চিত করে কিছুই বলা হয়নি।
