১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫। দুঃস্বপ্নের সেই দিন। লিওনেল মেসির যুবভারতী সফর পরিণত হয়েছিল বিশৃঙ্খলায়। আর্জেন্তিনীয় ফুটবলারকে ভালোভাবে দেখতে না পেয়ে মাঠে নেমে পড়েছিলেন উন্মত্ত জনতা। গ্যালারির সিট ভেঙে ছুড়ে ফেলতে থাকেন মাঠের ভিতরে। ভেঙে দেওয়া হয় প্লেয়ারদের টানেল, ক্যানোপি। সেই মাঠেই ১৪ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধনী ম্যাচে নামবে মোহনবাগান। বিপক্ষ কেরালা ব্লাস্টার্স এফসি। প্রশ্ন হল, তার আগে কেমন আছে যুবভারতী?
শনিবার বিকেল ৫টায় কিকঅফ। তার আগে মাঠে গিয়ে দেখা গেল একেবারে নতুন সাজে সেজে উঠেছে সল্টলেক স্টেডিয়াম। গ্যালারি সেজে উঠেছে আগের মতোই জৌলুসে। বাকেট চেয়ার থেকে ডাগ আউট, কোত্থাও কোনও খুঁত নেই। চারদিক ঝলমল করছে। ঘাস যেন সবুজ গালিচা। এই ঘাসে মেসি পা রেখেছিলেন। তাঁকে দেখতে না পেয়ে ঘাস পর্যন্ত ছিঁড়ে নিয়েছিলেন সমর্থকরা। সেই বিশৃঙ্খলার পর মাঠের ব্যাকরণও বদলে গিয়েছিল যেমন, এখন সে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেছে। সব কিছু একদম টিপটপ। ঝাঁ-চকচকে। একেবারে আগের মতো। সাজানো-গোছানো। আন্তর্জাতিক মানের। দেখে বোঝার উপায় নেই দু'মাস আগে একটা 'দুর্ঘটনা' ঘটে গিয়েছিল। ভারতীয় ফুটবলের জন্য যা অবশ্যই ভালো খবর। আইএসএলের সঙ্গে এই মাঠও ফের স্বমহিমায় ফিরতে চলেছে। মোহনবাগান ম্যাচকে মাথায় রেখে যুবভারতীর সজ্জায় শেষ তুলির টান বুলিয়ে দিচ্ছেন কর্মচারীরা।
আলো ঝলমলে যুবভারতী। নিজস্ব চিত্র।
মুখ্যমন্ত্রীর জন্য এবারের আইএসএলে নিখরচায় যুবভারতীতে খেলবে মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল। এমনিতে আইএসএলে খেলার জন্য প্রতি বছর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন পেতে কয়েক লক্ষ টাকা ভাড়া দিতে হত কলকাতার তিন প্রধানকে। কিন্তু এই মরশুমে তিন মাসের জন্য আইএসএল হবে। ফলে স্পনসরশিপ সেভাবে পাবে না ক্লাবগুলি। এই পরিস্থিতিতে যুবভারতীতে খেলতে গেলে বিশাল টাকা খরচ করতে হবে। সেই কারণেই বাংলার ফুটবল সমর্থকদের কথা চিন্তা করে সম্পূর্ণ বিনা খরচে যুভারতীতে ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগানকে খেলার সুযোগ করে দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
উল্লেখ্য, মেসির সফরে বিশৃঙ্খলার পর অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীমকুমার রায়ের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে পদক্ষেপও নেওয়া হয়। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীমকুমার রায়ের নেতৃত্বে মুখ্য সচিব মনোজ পন্থ, স্বরাষ্ট্রসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, ক্রীড়া সচিব রাজেশ সিনহা প্রমুখ যুবভারতী পরিদর্শনে গিয়েছিলেন।
যুবভারতীতে মেসির অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা। ফাইল ছবি
এরপর স্টেডিয়ামের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়, পূর্ত দপ্তরকে তার পরিমাণ জানার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সংস্কারের কাজে হাত দিয়েছিলেন পূর্ত দপ্তর। যেহেতু মুখ্যমন্ত্রী কর্তৃক তৈরি করে দেওয়া কমিটি তদন্ত করেছে, তাই সেই কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংস্কারে হাত দেওয়া সম্ভব ছিল না। সেই কমিটি সমস্ত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করার পরই স্টেডিয়ামের মেরামতির কাজ শুরুর ছাড়পত্র দেওয়া হয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন ক্রীড়া দপ্তরের অধীনে। যে দপ্তর এখন খোদ মুখ্যমন্ত্রীর হাতে। স্টেডিয়ামের পরিকাঠামো সংক্রান্ত সব কাজ পূর্ত দপ্তরই করে থাকে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানার দায়িত্বও তাদের হাতে ছিল। ফলে সংস্কারের কাজ খুব দ্রুত শেষ করা যাবে বলে মনে করা হয়েছিল। সেই মতোই ঝড়ের গতিতে কাজ হয়েছে। অতীত ঐতিহ্য নিয়েই মোহনবাগান বনাম কেরালা ব্লাস্টার্স ম্যাচ দিয়ে প্রত্যাবর্তন হচ্ছে যুবভারতীর।
