ক্ষীরোদ ভট্টাচার্য: করোনার (Corona Virus) মারণ ঝড় এখন শহর থেকে গ্রামের দিকে যাচ্ছে। শহরাঞ্চলে যতটা আক্রান্ত হচ্ছে তার সমান সংখ্যক কোভিড (COVID-19) পজিটিভ রোগী মিলছে গ্রামাঞ্চলে। রোজ নিয়ম করে জ্বর-সর্দির উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন প্রাথমিক ও ব্লক হাসপাতালে রোগীর ভিড় বাড়ছে। ফলে রীতিমতো উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য দপ্তর (WB Health Department)।
নতুন এই সমস্যার মোকাবিলা করতে পদক্ষেপ নিল স্বাস্থ্য দপ্তর। রাজ্যের সমস্ত ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র পর্যন্ত করোনা আক্রান্তদের জন্য শয্যার ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার এই মর্মে সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের এদিনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শহর বা মফস্বলের মতো গ্রামের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও এখন থেকে আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরি করতে হবে। ব্লক, গ্রামীণ এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অন্তত ৫-১০টি শয্যা সিভিয়ার একিউট রেসপিরেটরি ইলনেস বা মৃদু উপসর্গ যুক্ত রোগীদের জন্য বরাদ্দ করতে হবে।
[আরও পড়ুন: একদিনে রাজ্যে করোনায় মৃত শতাধিক, সুস্থ রোগীর সংখ্যা পেরল ৮ লক্ষ]
যাঁরা মৃদু উপসর্গ নিয়ে ভরতি হবেন তাঁদের অবশ্যই আরটিপিসিআর টেস্ট করতে হবে। যদি পজিটিভ রিপোর্ট আসে তবে কোভিড প্রোটোকল মেনে চিকিৎসা করতে হবে। পাশাপাশি এইসব আইসোলেশন শয্যার জন্য অক্সিজেনের ব্যবস্থা করতে হবে। রাখতে হবে অ্যাম্বুল্যান্স। রোগীর শরীরের অবস্থা সংকটজনক হলে যাতে দ্রুত ব্যবস্থা করে যাতে বড় হাসপাতালে পাঠানো যায়। এই প্রসঙ্গে রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডা. অজয় চক্রবর্তী বলেন,”করোনা সংক্রমণ এখন শহর থেকে গ্রামেও পাওয়া যাচ্ছে। বাড়ির কাছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাতে রোগীর দ্রুত চিকিৎসা করা সম্ভব হয়, সেইজন্য এই পদক্ষেপ।” স্বাস্থ্যকর্তার কথায়, “একটা বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চলতি পরিকাঠামোর মধ্যেই জনস্বার্থে এই পদক্ষেপ নিতে হবে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল ও গ্রামীণ হাসপাতালের আধিকারিকদের।” উল্লেখ্য, এনিয়ে এদিনই একটি পৃথক নির্দেশ জারি করে সব সরকারি কোভিড হাসপাতালে।