দুশ্চিন্তা থামছে না, মাথায় একের পর এক চিন্তা, বুক ধড়ফড় করছে, কিছুতেই মন বসছে না? উদ্বেগের প্রভাব শুধু মনে নয়, শরীরেও পড়ে। ঘুমের সমস্যা থেকে শুরু করে অস্থিরতা, মনোযোগের অভাব, দ্রুত হৃদস্পন্দন, সবই দেখা দিতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী বা তীব্র উদ্বেগের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ জরুরি।
তবে প্রতিদিনের ছোট্ট একটি অভ্যাস মনকে কিছুটা শান্ত রাখতে সাহায্য করতে পারে। আর তার জন্য জিমে যাওয়ারও প্রয়োজন নেই। প্রতিদিন ২০ মিনিট হাঁটাই হতে পারে সেই সহজ অভ্যাস।
হাঁটলে উদ্বেগ কেন কিছুটা কমতে পারে?
চিন্তার ঘূর্ণি থেকে মনকে বের করে আনে
উদ্বেগের সময় একই চিন্তা বারবার মাথায় ঘুরতে থাকে। হাঁটতে বেরলে মনকে পায়ের পদক্ষেপ, রাস্তার চারপাশ, গাছপালা বা নিজের শ্বাস-প্রশ্বাসের দিকে ফেরানো যায়। এতে দুশ্চিন্তা একেবারে চলে না গেলেও মস্তিষ্ক কিছুক্ষণের জন্য সেই চিন্তার চক্র থেকে বিরতি পায়।
আধুনিক জীবনযাপনে বাড়ছে স্ট্রেস, অ্যাংজাইটি। ছবি: সংগৃহীত
শরীরের জমে থাকা অস্থিরতা কমায়
উদ্বেগে শরীরও যেন সবসময় সতর্ক অবস্থায় থাকে। পেশিতে টান, অস্থিরতা বা ভিতরে ভিতরে চাপ অনুভূত হতে পারে। নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা শরীরকে সেই অতিরিক্ত উত্তেজনা সামলাতে সাহায্য করে। হাঁটার পর তাই অনেকেরই মন তুলনামূলক হালকা লাগে।
মন-মেজাজ ভালো রাখতে সাহায্য করে
শারীরিক সক্রিয়তা মানসিক সুস্থতার সঙ্গে যুক্ত। হাঁটা শরীরকে সক্রিয় রাখার পাশাপাশি মন-মেজাজও ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে। বিশেষ করে মন খারাপ বা অতিরিক্ত চিন্তার মধ্যে কয়েক মিনিট হাঁটা মানসিক অবস্থায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
খোলা জায়গায় হাঁটা আরও স্বস্তিদায়ক হতে পারে
বদ্ধ ঘর বা অফিস থেকে বেরিয়ে পার্ক, বাগান বা শান্ত রাস্তায় হাঁটলে মনে বদল আসে। প্রাকৃতিক আলো, সবুজ এবং খোলা জায়গা অনেকের ক্ষেত্রে মানসিক চাপ কমানোর অনুভূতি তৈরি করতে পারে। তাই সম্ভব হলে ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে হাঁটার বদলে চারপাশটা দেখুন।
হাঁটার উপকার অনেক। ছবি: সংগৃহীত
ঘুমের সমস্যাতেও সাহায্য করতে পারে
উদ্বেগ বাড়লে ঘুমের সমস্যা হতে পারে, আবার ঘুম ঠিক না হলেও উদ্বেগ সামলানো কঠিন হয়ে যায়। নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। তাই দিনের রুটিনে হাঁটা যোগ করলে পরোক্ষভাবে ঘুমের মানও ভালো হতে পারে।
শ্বাস-প্রশ্বাসকে স্বাভাবিক ছন্দে আনতে সাহায্য করে
উদ্বেগের সময় অনেকের শ্বাস দ্রুত বা অগভীর হয়ে যায়। আরামদায়ক গতিতে হাঁটার সময় ধীরে, স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেওয়ার দিকে মন দিলে হাঁটাটাই হয়ে উঠতে পারে এক ধরনের সহজ মাইন্ডফুলনেস অনুশীলন। পায়ের পদক্ষেপ ও শ্বাসের ছন্দের দিকে মন দিন, অন্য চিন্তা থেকে কিছুটা দূরে থাকার চেষ্টা করুন।
২০ মিনিটই কি যথেষ্ট?
উদ্বেগ কমানোর জন্য নির্দিষ্ট কোনও ‘ম্যাজিক’ সময় নেই। হাঁটার অভ্যাস না থাকলে প্রথমে ১০-১৫ মিনিট দিয়ে শুরু করাই ভালো। শরীর অভ্যস্ত হলে ধীরে ধীরে ২০-৩০ মিনিট পর্যন্ত সময় বাড়াতে পারেন।
খুব দ্রুত বা অত্যন্ত কষ্ট করে হাঁটার প্রয়োজন নেই। নিয়মিত হাঁটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন অল্প সময় হাঁটাও দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকার চেয়ে ভালো।
প্রয়োজনে জরুরি মনোবিদ বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ। ছবি: সংগৃহীত
শুধু হাঁটলেই কি উদ্বেগের সমস্যা সেরে যাবে?
না। হাঁটা উদ্বেগ সামলানোর একটি সহায়ক অভ্যাস, চিকিৎসার বিকল্প নয়। উদ্বেগ যদি দীর্ঘদিন থাকে, ক্রমশ বাড়ে, ঘুম বা কাজে বাধা দেয়, সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলে বা দৈনন্দিন জীবনকে কঠিন করে তোলে, তা হলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
অর্থাৎ, মাথার ভিতর যখন চিন্তার ভিড়, তখন সব সমস্যার সমাধান না হলেও ২০ মিনিটের হাঁটা আপনাকে সেই ভিড় থেকে একটু দূরে দাঁড়ানোর সুযোগ দিতে পারে।
