ব্যথা, মানসিক চাপ ও অনিদ্রার চিকিৎসায় ভারতে আস্তে আস্তে জায়গা করে নিচ্ছে মেডিক্যাল মারিজুয়ানা বা মেডিক্যাল ক্যানাবিস। মেডিক্যাল ক্যানাবিস হল গাঁজা গাছ থেকে প্রাপ্ত নির্দিষ্ট কিছু উপাদান দিয়ে তৈরি ওষুধ, যা চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে দীর্ঘদিনের ব্যথা, ক্যানসারের চিকিৎসা, বমি বমি ভাব, খিঁচুনি, উদ্বেগ ও ঘুমের সমস্যা সমাধানে ব্যবহৃত হচ্ছে। যে বিষয়টি এক সময় সামাজিক দ্বিধার ছিল, সেটিই এখন চিকিৎসাজগতে আলোচনার বিষয়।
ছবি: সংগৃহীত
সমিষ্ট সেহগলের পরিবারের অভিজ্ঞতা এই পরিবর্তনের এক উদাহরণ। তাঁর ঠাকুমার স্তন ক্যানসার ধরা পড়ার পর চিকিৎসা চললেও খিদে কমে যাওয়া, অনিদ্রা ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়া পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছিল। বিদেশ থেকে চিকিৎসকের পরামর্শে মেডিক্যাল ক্যানাবিসের কথা উঠে এলেও দেশে তা পাওয়া সহজ ছিল না। এই অভিজ্ঞতাই তাঁকে দেশীয় উদ্যোগ গড়ে তুলতে উৎসাহ দেয়। তিনি কিউরিস্ট নামে একটি সংস্থা গড়ে তোলেন, যা ব্যথা, উদ্বেগ ও অনিদ্রার জন্য ক্যানাবিস-ভিত্তিক ওষুধ তৈরি করা শুরু করে।
শুধু একক উদ্যোগ নয়, গত এক থেকে দেড় বছরে ভারতে ক্যানাবিস-ভিত্তিক চিকিৎসায় আগ্রহ বেড়েছে। উদ্ভিদভিত্তিক বিকল্প চিকিৎসার প্রতি আগ্রহ, স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং আইনি জটিলতা কমায় ক্যানাবিস-ভিত্তিক চিকিৎসার অগ্রগতি ঘটেছে।
দামের দিক থেকে ক্যানাবিস তেল ও টিঙ্কচারের দাম শুরু কয়েক হাজার টাকা থেকে। এর কারণ কাঁচামাল সংগ্রহ ও নিষ্কাশন প্রক্রিয়া এখন বেশ ব্যয়বহুল।
ছবি: সংগৃহীত
ভারতে নারকোটিক ড্রাগস অ্যান্ড সাইকোট্রপিক অ্যাক্ট অনুযায়ী ক্যানাবিসের ফুল (গাঁজা) ও রজন নিষিদ্ধ, তবে বীজ ও পাতা ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে। ক্যানাবিডিওল বা সিবিডি নেশাহীন উপাদান হিসেবে বেশি ব্যবহৃত হয়, আর টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনল বা টিএইচসি সীমিত মাত্রায় চিকিৎসায় প্রয়োগের অনুমতি রয়েছে। ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিক অ্যাক্ট অনুযায়ী চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন বাধ্যতামূলক।
আয়ুর্বেদে গাঁজা গাছের ব্যবহার নতুন নয়। এখন সেই ঐতিহ্যকে আধুনিক গবেষণা ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার সঙ্গে মিলিয়ে এগোনোর চেষ্টা চলছে। সতর্ক পদক্ষেপে হলেও, মেডিক্যাল ক্যানাবিস ভারতে চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে জায়গা করে নিচ্ছে।
