বসন্তেই চড়ছে তাপমাত্রার পারদ। অনেক নারীই এই সময় শরীরে অদ্ভূত এক অস্বস্তি অনুভব করছেন। হঠাৎ গরম লাগা, অস্থিরতা, ঘুমের সমস্যা, ক্লান্তি বা উদ্বেগ। অনেকেই ভাবেন আবহাওয়া পরিবর্তনের জন্যই এমনটা হয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পিছনে কারণ হতে পারে শরীরের হরমোনের পরিবর্তন।
বিশেষ করে যাঁরা তিরিশের শেষ বা চল্লিশের দোরগোড়ায়, তাঁদের শরীরে শুরু হয় পেরিমেনোপজ পর্যায়। এটি মেনোপজের আগের অবস্থা, যখন শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের ওঠানামা আরম্ভ হয়। এই হরমোনই শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, মেজাজ এবং শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
বাড়ছে অস্বস্তি। ছবি: সংগৃহীত
কেন গরমে বাড়ে হট ফ্ল্যাশ?
আমাদের মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। ইস্ট্রোজেন হরমোন এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু পেরিমেনোপজের সময় যখন ইস্ট্রোজেনের মাত্রা অনিয়মিত হতে শুরু করে, তখন শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অনেক বেশি সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। ফলে বাইরে তাপমাত্রা একটু বাড়লেই শরীর দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখায়। তখন হঠাৎ গরম লাগা, ঘাম হওয়া বা হট ফ্ল্যাশের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
কেন বাড়ে ক্লান্তি?
গরমের সময় নিজেকে ঠান্ডা রাখতে শরীরকে বেশ পরিশ্রম করতে হয়। ঘামের কারণে শরীর থেকে জল ও খনিজ পদার্থ বেরিয়ে যায়। সে সময় যদি কেউ পর্যাপ্ত জল না পান করেন, তাহলে ডিহাইড্রেশনও দেখা দিতে পারে।
এর ফলে মাথাব্যথা, বিরক্তি, অবসাদ বা সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগার মতো সমস্যা দেখা দেয়। অনেক সময় আমরা এগুলোকে সাধারণ ক্লান্তি বলে মনে করি, কিন্তু আসলে শরীর তখন তাপমাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
ছবি: সংগৃহীত
বাড়ে ঘুমের সমস্যাও
গরম গভীর ও আরামদায়ক ঘুমে ব্য়াঘাত ঘটায়। আর যখন শরীরে হরমোনের পরিবর্তন চলছে, তখন সামান্য ঘুমের সমস্যাও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ঘুম ভালো না হলে পরেরদিন ক্লান্তি, মনোযোগের অভাব, মেজাজ খিটখিটে হওয়া- এসব সমস্যা লেগেই থাকে। যদি এমন অবস্থা কয়েক দিন ধরে চলতে থাকে, তাহলে অস্থিরতা ও অবসাদ আরও বাড়তে পারে।
স্ট্রেস হরমোনের প্রভাব
গরমের সময় শরীরে কর্টিসল নামক স্ট্রেস হরমোনের মাত্রাও বাড়তে পারে। এর ফলে অস্থিরতা, উদ্বেগ বা হঠাৎ শক্তি কমে যাওয়ার অনুভূতি তৈরি হতে পারে। হরমোনের ওঠানামা, বাড়তি তাপমাত্রা এবং ঘুমের অভাব- এই তিন একসঙ্গে মিলে অনেক সময় মহিলাদের শরীরে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করে।
দরকার পর্যাপ্ত জলপান। ছবি: সংগৃহীত
কীভাবে পরিস্থিতির সঙ্গে মানাবেন?
জীবনযাপনে খুব বড় কোনও পরিবর্তনের দরকার নেই। কিছু ছোট ছোট অভ্যেস শরীরকে অনেকটাই স্বস্তি দিতে পারে। যেমন-
- পর্যাপ্ত জলপান
- শরীরে নুন ও খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখা
- হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়া
- রাত না জাগা। রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্য়ে ঘুমের চেষ্টা
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এটা বোঝা, এই পরিবর্তনগুলো শরীরের স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার অংশ। সচেতনতা ও কিছু সহজ জীবনযাত্রার অভ্যেস বজায় রাখলে গরমের আগের এই সময়টাও স্বস্তিতে কাটানো সম্ভব।
