বাড়ির বড়রা চা খাচ্ছেন, আর তা দেখে খুদে সদস্যেরও বায়না, ‘আমাকেও একটু দাও!’ প্রথমে হয়তো এক-দু’চুমুক। কিন্তু সেই সামান্য থেকেই কখন যে চায়ের প্রতি টান তৈরি হয়ে যায়, তা অনেক বাবা-মায়েরই খেয়াল থাকে না।
কেউ আবার ভাবেন, দুধ বেশি আর চা-পাতা কম থাকলে শিশুর কোনও ক্ষতি হবে না। কিন্তু ছোটদের ক্ষেত্রে নিয়মিত চা খাওয়ার অভ্যাস একেবারেই ভালো নয়।
ভারতীয় জীবনে চা শুধু পানীয় নয়, রোজকার অভ্যাসের অংশ। সকাল থেকে বিকেলের আড্ডা, অতিথি আপ্যায়ন থেকে কাজের ফাঁকের বিরতি, সর্বত্রই চায়ের উপস্থিতি। ফলে বড়দের দেখে ছোটদেরও চায়ের প্রতি আকৃষ্ট হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে বেড়ে ওঠার বয়সে চায়ের বদলে পুষ্টিকর পানীয় বেছে নেওয়াই ভালো।
চা পান নয়। ছবি: সংগৃহীত
চায়ে থাকা ক্যাফেইনই বড় চিন্তার
চায়ে থাকে ক্যাফেইন, যা শিশুদের ক্ষেত্রে বড়দের তুলনায় বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। নিয়মিত চা খেলে ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা, বিরক্তি বা মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। তাই শিশুর হাতে চায়ের কাপ তুলে দিয়ে তাকে এই উদ্দীপক উপাদানের সঙ্গে অভ্যস্ত না করানোই ভালো।
আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। চায়ে থাকা ট্যানিন খাবার থেকে শরীরে আয়রন শোষণে বাধা দিতে পারে। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য আয়রন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে খাবারের সঙ্গে বা খাবার খাওয়ার পর চা খেলে এই বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।
‘দুধ বেশি, চা কম’ হলেই কি নিরাপদ?
অনেক বাবা-মা শিশুর জন্য চা বানানোর সময় দুধের পরিমাণ বাড়িয়ে দেন এবং চা-পাতা খুব কম ব্যবহার করেন। এতে চায়ের তীব্রতা কমলেও ক্যাফেইন ও ট্যানিন পুরোপুরি বাদ যায় না।
তাই শিশুকে নিয়মিত ‘হালকা চা’ খাওয়ানোর অভ্যাস করানোর চেয়ে দুধের অভ্যাস করানো অনেক ভালো বিকল্প। বিশেষ করে ১০ বছরের কম বয়সি শিশুদের চা না দেওয়াই নিরাপদ পছন্দ হতে পারে।
চায়ের কাপের বদলে থাকুক দুধের গ্লাস। ছবি: সংগৃহীত
গ্রিন টি কি চায়ের স্বাস্থ্যকর বিকল্প?
শিশুর জন্য গ্রিন টি-ও উপযুক্ত বিকল্প নয়। অনেকের কাছে গ্রিন টি স্বাস্থ্যকর পানীয় হিসেবে পরিচিত হলেও এতে ক্যাফেইন ও ট্যানিন থাকে। ফলে ছোটদের ঘুম ও মনোযোগে প্রভাব পড়তে পারে এবং খাবারের আয়রন শোষণেও বাধা সৃষ্টি করতে পারে। অর্থাৎ, ব্ল্যাক টি, দুধ-চা বা গ্রিন টি, কোনওটিই ছোটদের নিয়মিত পানীয় হিসেবে বেছে নেওয়া উচিত নয়।
চায়ের বদলে শিশুকে কী দেবেন?
চায়ের বদলে সাধারণ দুধ দেওয়া যেতে পারে। দুধে থাকে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম-সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান, যা শিশুর বেড়ে ওঠার সময়ে প্রয়োজন।
শিশু যদি দুধ খেতে না চায়, তাহলে বাড়িতে তৈরি বাদামজাতীয় শুকনো ফলের গুঁড়ো অল্প পরিমাণে মিশিয়ে স্বাদ বদলানো যেতে পারে। বাদাম, কাজু বা আখরোট দুধকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে।
এ ছাড়াও বয়স অনুযায়ী পর্যাপ্ত জল এবং পুষ্টিকর পানীয় দেওয়া যেতে পারে। মূল কথা, বড়দের অভ্যাস দেখে ছোটদের হাতে চায়ের কাপ তুলে না দিয়ে ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যকর পানীয়ের অভ্যাস তৈরি করা।
