shono
Advertisement
Cough Syrup

কফ সিরাপে মারণ ঝুঁকি! ২ বছরের নিচে শিশুদের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধের ভাবনা স্বাস্থ্য মন্ত্রকের

শিশুদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েই এই সিদ্ধান্ত। এটি কার্যকর হলে ভবিষ্যতে শিশুদের চিকিৎসাপদ্ধতিতে আরও সতর্ক ও প্রমাণভিত্তিক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
Published By: Pritimoy Roy BurmanPosted: 03:38 PM Apr 12, 2026Updated: 03:38 PM Apr 12, 2026

শিশুদের জন্য কফ সিরাপের ব্যবহার নিয়ে বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটতে চলেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। সাম্প্রতিক সময় কফ সিরাপের কারণে একাধিক মর্মান্তিক ঘটনার পর, ছোটদের জন্য এই ওষুধগুলি আদৌ কতটা নিরাপদ ও প্রয়োজনীয়, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। সেই প্রেক্ষিতেই আরও সতর্ক, বিজ্ঞানভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির দিকে এগোচ্ছে স্বাস্থ্য নীতি।

Advertisement

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে, দু-বছরের কম বয়সি শিশুদের জন্য কফ সিরাপ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার কথা ভাবা হচ্ছে। পাশাপাশি, পাঁচ বছরের নিচে শিশুদের ক্ষেত্রেও এই ধরনের ওষুধ ব্যবহার নিরুৎসাহিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

দু-বছরের কম বয়সিদের জন্য রয়েছে ঝুঁকি। ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ সালের ন্যাশনাল ফর্মুলারি অফ ইন্ডিয়া (এলএফআই)-এর খসড়া থেকেই এসেছে এই প্রস্তাব। যেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, দু-বছরের কম বয়সি শিশুদের ক্ষেত্রে কাশির ওষুধ দেওয়া উচিত নয়। এমনকী পাঁচ বছরের নিচে শিশুদের ক্ষেত্রেও এই ওষুধ ব্যবহারের আগে সতর্ক মূল্যায়ন এবং চিকিৎসকের নিবিড় পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে একাধিক উদ্বেগজনক ঘটনা। ২০২৫ সালে কফ সিরাপসহ আরও কিছু ওষুধে ডাই-ইথিলিন গ্লাইকোল (ডিইজি) ও ইথিলিন গ্লাইকোল (ইজি)-এর মতো বিষাক্ত উপাদান পাওয়া যায়, যা শিশুদের জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে। এই ঘটনার পরই ওষুধের গুণমান এবং নিরাপত্তা নিয়ে নজরদারি আরও কঠোর করার প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে।

কাশি মানেই কফ সিরাপ নয়। ছবি: সংগৃহিত

নতুন খসড়ায় ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির উপর কড়া নজরদারির পাশাপাশি কাঁচামাল থেকে শুরু করে চূড়ান্ত পণ্য প্রস্তুতি, প্রতিটি ধাপে গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের ক্ষেত্রে কফ সিরাপের উপকারিতা সীমিত, কিন্তু ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। কারণ কফ নিজেই শরীরের একটি প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা প্রক্রিয়া, যা শ্বাসনালী পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। তাই শুধুমাত্র উপসর্গ কমানোর বদলে, কফের প্রকৃত কারণ খুঁজে চিকিৎসা করাই বেশি কার্যকর ও নিরাপদ।

সব মিলিয়ে, শিশুদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েই এই সিদ্ধান্ত। এটি কার্যকর হলে ভবিষ্যতে শিশুদের চিকিৎসাপদ্ধতিতে আরও সতর্ক ও প্রমাণভিত্তিক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement