বয়স বাড়লেও সতেজ থাকা যায়। ফুরফুরে রাখা যায় মন। এই চিরন্তন বার্তাকেই নতুন করে মনে করিয়ে দিল কলকাতার ডিসান হসপিটাল। আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে হাসপাতাল চত্বরে বসেছিল এক অভিনব মেলবন্ধন। ডাক্তার, নার্স থেকে শুরু করে প্রশাসনিক কর্মী— দৈনন্দিন ব্যস্ততা আর স্ট্রেসকে দূরে সরিয়ে সকলেই এদিন শামিল হলেন যোগাভ্যাসে। অভিজ্ঞ ট্রেনারের অধীনে চলল নানাবিধ আসন, প্রাণায়াম ও ধ্যানের চর্চা।
এ বছরের যোগ দিবসের মূল ভাবনা ছিল ‘সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগ’। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে যে জড়তা আসে, তাকে জয় করাই যোগের লক্ষ্য। নিয়মিত যোগাভ্যাস কেবল শরীরের নমনীয়তা বা শক্তি বাড়ায় না, বরং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও মানসিক অবসাদ দূর করতেও ম্যাজিকের মতো কাজ করে। জিলিপি-পান্তুয়ার এই চেনা বাংলায় যখন ডায়াবেটিস আর কোলেস্টেরল ঘরে ঘরে থাবা বসাচ্ছে, তখন এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রাসঙ্গিক।
অনুষ্ঠানে ডিসান হাসপাতালের চেয়ারম্যান তথা ম্যানেজিং ডিরেক্টর সজল দত্ত বলেন, 'যোগ হল বিশ্বদরবারে ভারতের শ্রেষ্ঠ উপহার। সুস্থ বার্ধক্যের অর্থ হল নিজের স্বাধীনতা ও স্বাস্থ্যকে বজায় রাখা। যোগ মানুষকে দীর্ঘকাল সক্রিয় ও নিরোগ রাখতে সাহায্য করে।' চিকিৎসকদের মতে, শুধু রোগ নিরাময় নয়, রোগ প্রতিরোধ করাই আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত। জেসিআই এবং এনএবিএইচ স্বীকৃত এই হাসপাতালটি উন্নত চিকিৎসার পাশাপাশি জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে নিরন্তর কাজ করে চলেছে। আজকের এই আয়োজন যেন মনে করিয়ে দিল, সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনের চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে আমাদের রোজকার অভ্যাসেই। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সকলেই প্রতিদিনের জীবনে যোগকে আপন করে নেওয়ার অঙ্গীকার করলেন।
