শরীরের নাম মহাশয়, যা সওয়াবেন তাই সইবে। তবে মাসের ঋতুকালীণ বিশেষ দিনগুলোতে শরীর যেন আর নিজের বশে থাকে না। তলপেটে অসহ্য মোচড়, কোমরে তীব্র যন্ত্রণা আর মানসিক ক্লান্তি— সব মিলিয়ে জেরবার হতে হয় অনেক মহিলাকেই। অনেকেই ভাবেন, পিরিয়ডসের সময়ে একটু হাত-পা ছড়ালেই বুঝি বিপদ বাড়বে। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান ও প্রাচীন ভারতীয় যোগশাস্ত্র অন্য কথা বলছে। পিরিয়ডসের দিনগুলিতে নিয়ম মেনে হালকা যোগব্যায়াম করলে শরীর খারাপ তো হয়ই না, উলটে কষ্টের দিনগুলো অনেক সহজ হয়ে ওঠে। শরীর ও মনকে শান্ত রাখার এ এক ম্যাজিক ওষুধ।
ছবি: সংগৃহীত
বিশেষজ্ঞদের মতে, পিরিয়ডসের সময়ে যোগব্যায়াম করা পুরোপুরি নিরাপদ। তবে এই সময়ে শরীরকে অতিরিক্ত ক্লান্ত করা চলবে না। কোনও রকম কঠিন বা ভারী আসন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। জোর করে কসরত করলে মাথা ঘোরা বা বমি বমি ভাব দেখা দিতে পারে। তাই শরীর যতটা সায় দেবে, ঠিক ততটাই অভ্যাস করা উচিত।
যোগাসন করলে শরীরে ‘এন্ডোরফিন’ হরমোনের ক্ষরণ বাড়ে। এটি আসলে প্রকৃতির নিজস্ব পেনকিলার বা ব্যথানাশক। এই হরমোন পিরিয়ডসের তীব্র ক্র্যাম্প এবং মাইগ্রেনের কষ্ট নিমেষে কমিয়ে দেয়। নিয়মিত যোগাভ্যাসে শরীরে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। ফলে হরমোনের ভারসাম্য ঠিক থাকে এবং ঋতুচক্র নিয়মিত হয়। পিএমএস (PMS)-এর মতো অস্বস্তি কমায় এবং এন্ডোমেট্রিয়োসিসের মতো কঠিন সমস্যা প্রতিরোধেও এর ভূমিকা অনস্বীকার্য।
আরাম দেবে কোন কোন আসন?
বালাসন: এই আসনটি কোমর ও নিতম্বের পেশিকে শিথিল করে। ফলে তলপেটের ক্র্যাম্প থেকে দ্রুত আরাম মেলে।
মার্জারিয়াসন ও বিটিলাসন: মেরুদণ্ডের জড়তা কাটাতে এবং কোমরের নীচের অংশের পেশি সচল করতে এই আসন দারুণ কাজ করে। এটি তলপেটের অঙ্গে হালকা মালিশের মতো আরাম দেয়।
ভুজঙ্গাসন: পিঠের পেশি মজবুত করার পাশাপাশি এটি পেলভিক অঞ্চলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। ফলে পিরিয়ডসের মোচড়ানো ব্যথা শান্ত হয়।
ছবি: সংগৃহীত
আর কী করবেন?
যোগাসনের পাশাপাশি আদা, ক্যামোমাইল বা পেপারমিন্টের মতো ভেষজ চা এই সময়ে ম্যাজিকের মতো কাজ করে। এছাড়া তলপেটে হট ওয়াটার ব্যাগের গরম সেঁক দিলে পেশি শিথিল হয় ও অস্বস্তি অনেকটাই কেটে যায়। প্রাচীন এই আয়ুর্বেদিক পদ্ধতি শরীরের প্রদাহ বা ইনফ্লেমেশন কমিয়ে নারীদের সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
