ভোট শুধু অধিকার নয়, দায়িত্বও। আর সেই দায়িত্ব পালনে বয়স বা শারীরিক সীমাবদ্ধতা যাতে কোনও বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেই লক্ষ্যেই নেওয়া হল বিশেষ উদ্যোগ। স্থানীয় বিএলও-রা ইতিমধ্যেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিচ্ছেন বয়স্ক ও শারীরিকভাবে অসুবিধায় থাকা ভোটারদের। কারা বাড়িতে থেকেই ভোট দিতে চান এবং কারা বুথে গিয়ে ভোট দিতে ইচ্ছুক, সেই সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে নিয়মিতভাবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে ডা. সুজয় রঞ্জন দেব, ডা. সৌমিত্র ভরদ্বাজ, স্মিতা পাণ্ডে এবং বিশ্বজিৎ দাসগুপ্ত। প্রেস ক্লাব, কলকাতা।
যাঁরা নিজেরা ভোটকেন্দ্রে যেতে চান, তাঁদের জন্য রাখা হচ্ছে বিশেষ ব্যবস্থা। প্রয়োজন হলে হুইলচেয়ারের সাহায্যে তাঁদের নিরাপদে বুথে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নেবেন বিএলও-রা। এই সুবিধা পেতে হলে পরিবারের সদস্যদের স্থানীয় বিএলও-র সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। এই উদ্যোগে সহায়তার হাত বাড়াল কলকাতার ডিসান হসপিটাল। গত লোকসভা নির্বাচনের মতো এবারও তারা ১৫টি হুইলচেয়ার তুলে দিল নির্বাচন কমিশনের হাতে, যা প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন বুথে পৌঁছে দেওয়া হবে। বেলেঘাটার নোডাল অফিসার বিশ্বজিৎ দাসগুপ্ত জানান, ভোটের দিন যাতে কেউ ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বাদ না পড়েন, সে দিকেই বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের হাতে তুলে দেওয়া হল হুইলচেয়ার
ডিসান হসপিটালের (Desun Hospital) সিনিয়র মেডিক্যাল ডিরেক্টর ডা. সুজয় রঞ্জন দেব বলেন, 'গত লোকসভা নির্বাচন থেকেই আমরা এই উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছি। গতবার পিংক বুথে মহিলা ভোটকর্মীদের স্বাস্থ্যসামগ্রী দেওয়ার পর, এবার আমাদের লক্ষ্য সিনিয়র সিটিজেন ও বিশেষভাবে সক্ষম ভোটারদের পাশে দাঁড়ানো। আপাতত ১৫টি হুইলচেয়ার দেওয়া হয়েছে, প্রয়োজন হলে আরও দেওয়া হবে। প্রয়োজনে শিলিগুড়ির ডিসান হসপিটাল থেকেও সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।'
কলকাতা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ডা. সুজয় রঞ্জন দেব, বিশ্বজিৎ দাসগুপ্ত ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা নির্বাচন আধিকারিক স্মিতা পাণ্ডে এবং ডিসান হসপিটালের গ্রুপ ডিরেক্টর ডা. সৌমিত্র ভরদ্বাজ। এই সম্মিলিত প্রচেষ্টায় স্পষ্ট, ভোট সবার, সেই বার্তাই আরও একবার তুলে ধরল প্রশাসন ও ডিসানের যৌথ উদ্যোগ।
