বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়ছে ওষুধ-প্রতিরোধী (ড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট) ছত্রাকজনিত সংক্রমণ। চিকিৎসকদের মতে, একসময় যে ছত্রাকগুলিকে সহজেই নিয়ন্ত্রণে আনা যেত, তাদের মধ্যে এখন এমন কিছু ছত্রাক রয়েছে, যেগুলো প্রচলিত অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধের বিরুদ্ধেও প্রতিরোধ গড়ে তুলছে!
ফলে রোগ নির্ণয় থেকে শুরু করে চিকিৎসা, সব ক্ষেত্রেই বাড়ছে জটিলতা। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে এই সংক্রমণ ভবিষ্যতে বড় জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিতে পারে।
কেন বদলে যাচ্ছে ছত্রাকের চরিত্র?
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পরিবেশের সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নিচ্ছে অনেক ছত্রাক। অন্যদিকে ক্যানসারের চিকিৎসা, অঙ্গ প্রতিস্থাপন, আইসিইউ-তে ভর্তি রোগী এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা মানুষের সংখ্যা বাড়ায় সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়েছে।
এর সঙ্গে অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধের অতিরিক্ত বা অপব্যবহার তৈরি করছে ওষুধ-প্রতিরোধী নতুন নতুন ছত্রাক। ফলে আগে তেমন ক্ষতিকর বলে মনে না হওয়া কিছু ছত্রাকও এখন গুরুতর, এমনকী প্রাণঘাতী সংক্রমণের কারণ হয়ে উঠছে।
জরুরি দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ। ছবি: সংগৃহীত
কারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে?
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন আইসিইউ-তে ভর্তি রোগী, কেমোথেরাপি নেওয়া ক্যানসার রোগী, অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা ব্যক্তি, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষ, এইচআইভি আক্রান্ত বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল এমন ব্যক্তি এবং দীর্ঘদিন স্টেরয়েড সেবনকারীরা।
এদের ক্ষেত্রে ছত্রাকজনিত সংক্রমণ শুধু ত্বক বা মুখেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং রক্ত, ফুসফুস, হার্ট বা মস্তিষ্কেও ছড়িয়ে পড়ে প্রাণঘাতী জটিলতা তৈরি করতে পারে।
কেন আলোচনায় 'ক্যানডিডা অউরিস'?
বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের কারণ ক্যানডিডা অউরিস (Candida auris)। এই ছত্রাক একাধিক অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধের বিরুদ্ধেও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। শুধু তাই নয়, হাসপাতালের বিছানা, চিকিৎসা-সরঞ্জামসহ বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন বেঁচে থেকে সহজেই এক রোগী থেকে অন্য রোগীর শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। গুরুতর রক্ত সংক্রমণের জন্যও এটি দায়ী হতে পারে। এই কারণেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ক্যানডিডা অউরিস নিয়ে এতটা উদ্বেগে।
উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ক্যান্ডিডা অরিস। ছবি: সংগৃহীত
সমাধানের পথ কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বাড়তে থাকা ঝুঁকি মোকাবিলায় সবচেয়ে জরুরি হল দ্রুত ও নির্ভুল রোগ নির্ণয়, হাসপাতালে কঠোর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, নতুন অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধের গবেষণা এবং বর্তমানে যে সব অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধের রয়েছে, তার যথাযথ ও দায়িত্বশীল ব্যবহার। কারণ আজকের সচেতনতাই আগামী দিনের আরও বড় স্বাস্থ্য সংকট এড়ানোর অন্যতম চাবিকাঠি।
