গর্ভাবস্থার সাত মাস পর্যন্ত শুটিং, তার সঙ্গে অ্যাকশন দৃশ্য! কিয়ারা আডবানির শুটিংয়ের খবর সামনে আসতেই অনেকের মনে প্রশ্ন, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় শরীরচর্চা বা কঠিন শারীরিক কাজ কি নিরাপদ?
চিকিৎসকদের মতে, স্বাভাবিক গর্ভাবস্থায় শরীরচর্চা বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। বরং নিয়মিত ও পরিমিত ব্যায়াম মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তবে গর্ভাবস্থায় ব্যায়ামের নিয়ম একেবারেই সবার জন্য এক নয়।
স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের কথায়, যাঁরা গর্ভাবস্থার আগে নিয়মিত শরীরচর্চা করতেন, তাঁরা অনেক ক্ষেত্রেই তা চালিয়ে যেতে পারেন। তবে গর্ভাবস্থায় নতুন করে কঠিন বা অতিরিক্ত পরিশ্রমের ব্যায়াম শুরু করা ঠিক নয়। শরীরের পরিবর্তনের সঙ্গে ব্যায়ামের ধরন ও মাত্রাও বদলাতে হবে।
কিয়ারা আডবানি। ছবি: সংগৃহীত
প্রথম তিন মাস
গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে জটিলতা না থাকলে আগে থেকে অভ্যাস থাকা হাঁটা, সাঁতার, সাইক্লিংয়ের মতো ব্যায়াম চালিয়ে যাওয়া যায়। তবে এই সময়ে বমিভাব ও ক্লান্তি বেশি থাকায় প্রতিদিন একই মাত্রায় ব্যায়াম করা সম্ভব নাও হতে পারে। শরীর খারাপ লাগলে বিরত থাকাই ভালো।
যাঁরা আগে শরীরচর্চা করতেন না, তাঁদের জন্য শুরুটা হোক ধীরে-সুস্থে। হালকা হাঁটা, স্ট্রেচিং, শ্বাসের ব্যায়াম বা গর্ভাবস্থার উপযোগী যোগব্যায়াম দিয়ে শুরু করা যেতে পারে।
পরের তিন মাস
এই সময়ে পেটের আকার বাড়তে শুরু করে, শরীরের ভারসাম্য বদলায় এবং জয়েন্ট ও পেশির উপর চাপও বাড়ে। ফলে আগের ব্যায়ামগুলিই একই ভাবে করা সম্ভব নাও হতে পারে। হাঁটা, সাঁতার, সাইক্লিং, হালকা ব্যায়াম এবং প্রয়োজনমতো পরিবর্তিত যোগব্যায়াম উপকারী হতে পারে।
শেষ তিন মাস
শেষ তিন মাসে লক্ষ্য হওয়া উচিত শরীরকে সচল ও শক্তিশালী রাখা, নিজের শারীরিক সীমা পরীক্ষা করা নয়। পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এমন ব্যায়াম, পেটে আঘাত লাগার ঝুঁকি রয়েছে এমন কসরত বা অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে এমন শরীরচর্চা এড়িয়ে চলতে হবে। জটিলতাহীন গর্ভাবস্থায় সপ্তাহে মোট প্রায় ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যকলাপ করা যেতে পারে।
চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে। ছবি: সংগৃহীত
শক্তিবর্ধক ব্যায়াম?
গর্ভাবস্থায় শক্তিবর্ধক ব্যায়ামও করা যায়। পেশির শক্তি ও শরীরের সচলতা বজায় রাখার পাশাপাশি এটি ওজন, রক্তে শর্করা এবং হৃদ্স্বাস্থ্যের উপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা গর্ভকালীন ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করতে পারে।
তবে ভারি কোনও ব্যায়ামের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। যাঁরা গর্ভাবস্থার আগেই নিয়মিত ওয়েট ট্রেনিং করতেন, গর্ভাবস্থায় তা চালিয়ে যাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কিন্তু আগে যদি কখনও ভার না তোলেন, তাহলে গর্ভাবস্থায় হঠাৎ ভারী ওয়েট ট্রেনিং শুরু করা উচিত নয়।
গর্ভাবস্থায় ‘রিল্যাক্সিন’ হরমোনের প্রভাবে লিগামেন্ট কিছুটা শিথিল হয়। তার সঙ্গে শরীরের ভারসাম্যে বদলের কারণে পড়ে গিয়ে চোট পাওয়ার আশঙ্কা বাড়তে পারে। তাই সঠিক কৌশল এবং প্রয়োজন হলে প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধান গুরুত্বপূর্ণ।
প্রেগন্যান্সিতেও শুটিংয়ে ছিলেন ব্যস্ত! ছবি: সংগৃহীত
কখন ব্যায়াম বন্ধ করবেন?
ব্যায়ামের সময় রক্তপাত, যোনিপথে জল বেরনো, যন্ত্রণাদায়ক সংকোচন, মাথা ঘোরা, বুকে ব্যথা, অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট বা তীব্র ব্যথা হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যায়াম বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
প্লাসেন্টার সমস্যা, সময়ের আগে প্রসবের আশঙ্কা, উচ্চ রক্তচাপ বা অন্য কোনও গর্ভকালীন জটিলতা থাকলে চিকিৎসক ব্যায়াম সীমিত বা বন্ধ রাখার পরামর্শ দিতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে নিজে থেকে হাঁটা বা ব্যায়াম শুরু করাও ঠিক নয়।
অর্থাৎ, গর্ভাবস্থায় ‘ব্যায়াম করতেই হবে’ বা ‘ব্যায়াম একেবারেই নয়’, বিষয়টা এমন নয়। সুস্থ ও স্বাভাবিক গর্ভাবস্থায় শরীরকে সচল রাখা ভালো, কিন্তু কতটা এবং কীভাবে—তার উত্তর নির্ভর করবে মায়ের শরীর, আগের অভ্যাস এবং গর্ভাবস্থার পরিস্থিতির উপর। নিজের সীমা না ছাড়িয়ে, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
