স্বাস্থ্যের সঙ্গে স্বাদের নয়া মেলবন্ধন! এবার সরাসরি পানীয়র বাজারে পা রাখল কলকাতার এফএমসিজি জায়ান্ট ইমামি লিমিটেড। অ্যাক্সিওম আয়ুর্বেদ প্রাইভেট লিমিটেডের (অ্যালোফ্রুট) অবশিষ্ট ৭৩.৫ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণের জন্য সম্প্রতি চুক্তি স্বাক্ষর করল এই সংস্থা। এর ফলে ‘অ্যালোফ্রুট’ ব্র্যান্ডটি এখন থেকে সম্পূর্ণভাবে ইমামি পরিবারের অংশ হতে চলেছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে জানা গিয়েছে। এই মেগা ডিলের অঙ্ক প্রায় ২০০ কোটি টাকা।
গত কয়েক বছর ধরেই মানুষের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন এসেছে। সাধারণ কোল্ড ড্রিঙ্কস বা কার্বোনেটেড পানীয় ছেড়ে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ এখন প্রাকৃতিক পানীয়ে আগ্রহী। এই ট্রেন্ডকে কাজে লাগিয়েই ইমামি তাদের ব্যবসায়িক ক্ষেত্রকে আরও প্রসারিত করল। অ্যালোভেরা পাল্প এবং ফলের রসের এক অনন্য ফিউশন হল অ্যালোফ্রুট (AloFrut)। যা কেবল তৃষ্ণা মেটায় না, বরং ভিটামিন ও মিনারেলের জোগান দিয়ে শরীরকে সতেজ রাখে। নানা স্বাস্থ্যকর পানীয়ের হদিশ দিতে ইমামি এবার প্রস্তুত।
ইমামি লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান ও এমডি হর্ষ বর্ধন আগরওয়াল জানান, উদীয়মান এবং উচ্চ সম্ভাবনাময় স্বাস্থ্যকর পানীয়র ক্ষেত্রে নিজেদের আধিপত্য বাড়ানোই তাঁদের মূল লক্ষ্য। গত আড়াই বছর ধরে এই ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত থেকে তাঁরা বাজারের নাড়ি-নক্ষত্র বুঝতে পেরেছেন। এবার পূর্ণ মালিকানা পাওয়ায় আগামী অর্থবর্ষে এই বিভাগ থেকে প্রায় ১৮০ কোটি টাকার ব্যবসার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে।
অ্যাক্সিওম আয়ুর্বেদের প্রতিষ্ঠাতা ঋষভ গুপ্তের মতে, সঠিক স্বাদ ও স্বাস্থ্যের হদিশ তাঁদেরকে অন্য সংস্থাগুলোর থেকে আলাদা করে তুলেছে। ইমামির মতো দক্ষ ও অভিজ্ঞ অংশীদারের হাত ধরে ‘অ্যালোফ্রুট’ ও ‘জীবন রস’-এর মতো ব্র্যান্ডগুলো আগামী দিনে সাধারণ মানুষের আরও কাছে পৌঁছে যাবে। সংস্থার এই নতুন যাত্রাকে সফল করতে সিইও হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হরকিরাত বেদীকে, যিনি এই শিল্পে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন।
বোরোপ্লাস, নবরত্ন বা ঝান্ডুবামের মতো একের পর এক সুপারহিট ব্র্যান্ড উপহার দেওয়া ইমামি এবার গ্লাস ভর্তি স্বাস্থ্য ও সতেজতা নিয়ে আপনার ড্রয়িংরুমে পৌঁছাতে প্রস্তুত। সব মিলিয়ে গরমের মরশুমে পানীয়র বাজারে ইমামি ও অ্যালোফ্রুটের এই যুগলবন্দি যে বড়সড় আলোড়ন তৈরি করবে, তা বলাই বাহুল্য।
