shono
Advertisement

Breaking News

Eyes Sunburn

রোদে বেরলেই চোখ কটকট? ত্বকের মতো চোখেও ‘সানবার্ন’! চিনে নিন ৮ লক্ষণ

চোখে সানবার্ন হয়েছে বুঝবেন কীভাবে? চোখকে ইউভি রশ্মি থেকে বাঁচাবেন কীভাবে?
Published By: Pritimoy Roy BurmanPosted: 04:51 PM Aug 21, 2026Updated: 05:02 PM Aug 21, 2026

রোদে বাইরে বেরলেই ত্বকের সুরক্ষার কথা মনে পড়ে। সানস্ক্রিন মাখা, ছাতা নেওয়া, রোদ এড়িয়ে চলা, সবই করি। কিন্তু যে অঙ্গটি প্রতিদিন সরাসরি সূর্যের আলো সামলায়, সেই চোখের কথা কি মনে রাখি?

Advertisement

অতিরিক্ত অতিবেগুনি বা ইউভি রশ্মির সংস্পর্শে চোখের সামনের স্বচ্ছ অংশ, কর্নিয়ার উপরিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এই সমস্যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বলা হয় ফোটোকেরাটাইটিস। সহজ ভাষায়, চোখের ‘সানবার্ন’।

সাধারণত এই সমস্যা সাময়িক। কিন্তু চোখে তীব্র জ্বালা, ব্যথা, জল পড়া, আলো সহ্য না হওয়া থেকে শুরু করে সাময়িক ভাবে ঝাপসা দেখার মতো সমস্যাও হতে পারে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, রোদে থাকার সঙ্গে সঙ্গে সব সময় এর লক্ষণ দেখা যায় না। অনেক সময় কয়েক ঘণ্টা পরে, এমনকী পরের দিন সকালে সমস্যা শুরু হয়।

রোদে বেরলেই চোখে জ্বালা? ছবি: সংগৃহীত

চোখেও সানবার্ন!
সরাসরি সূর্যের আলোই একমাত্র কারণ নয়। জল, ধুলো-বালি, বরফ বা কংক্রিটের মতো উজ্জ্বল পৃষ্ঠ থেকে সূর্যের ইউভি রশ্মি প্রতিফলিত হয়ে চোখে পড়তে পারে। উঁচু এলাকায় ইউভি রশ্মির সংস্পর্শও তুলনামূলক বেশি হতে পারে। শুধু প্রাকৃতিক আলো নয়, ইউভি ল্যাম্প এবং ওয়েল্ডিংয়ের তীব্র আলো থেকেও চোখের উপরিভাগে ইউভি-জনিত ক্ষতি হতে পারে।

চোখে সানবার্ন হয়েছে বুঝবেন কীভাবে? ৮টি লক্ষণ
১. চোখে যেন ধুলো-বালি ঢুকে রয়েছে
চোখে বারবার মনে হতে পারে যেন বালি, ধুলো বা কোনও ছোট কণা ঢুকে আছে। কর্নিয়ার উপরিভাগে জ্বালা বা ক্ষতির কারণে এই ‘স্যান্ডি’ অনুভূতি তৈরি হতে পারে।

২. চোখে ব্যথা বা তীব্র জ্বালা
চোখে ব্যথা বা অস্বস্তি হতে পারে। উজ্জ্বল আলোয় গেলে সেই ব্যথা আরও বাড়তে পারে।

৩. অনবরত জল পড়া
চোখের উপরিভাগে জ্বালা বা ক্ষতি হলে চোখ নিজেকে রক্ষা করার জন্য অতিরিক্ত জল তৈরি করতে পারে। ফলে চোখ দিয়ে অনবরত জল পড়তে পারে।

৪. চোখ লাল ও ফুলে যাওয়া
চোখের সাদা অংশ লাল হয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে চোখের চারপাশে জ্বালা ও হালকা ফোলাভাবও দেখা দিতে পারে।

বালির জায়গায় ফোটোকেরাটাইটিসের ঝুঁকি বেশি। ছবি: সংগৃহীত

৫. আলো সহ্য না হওয়া
ঘরের স্বাভাবিক আলোও অসহ্য লাগতে পারে। এই অতিরিক্ত আলোক-সংবেদনশীলতাকে বলা হয় ফোটোফোবিয়া। অনেক সময় চোখ খুলে রাখাও কঠিন হয়ে যায়।

৬. ঝাপসা দেখা
কর্নিয়ার উপরিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হলে কিছু সময়ের জন্য দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যেতে পারে। দূরের বা কাছের জিনিস পরিষ্কার দেখতে সমস্যা হতে পারে।

৭. আলোর চারপাশে বৃত্ত দেখা
বাতি বা অন্য কোনও আলোর উৎসের চারপাশে অস্বাভাবিক ঝলকের মতো বৃত্ত দেখা যেতে পারে। অন্ধকার পরিবেশে এই সমস্যা বেশি চোখে পড়ে।

৮. মাথাব্যথা বা চোখের পাতা কাঁপা
চোখে অস্বস্তি হলে অনেকে অজান্তেই চোখ কুঁচকে রাখেন। দীর্ঘক্ষণ এমন হলে মাথাব্যথা হতে পারে। কারও কারও চোখের পাতাও কাঁপতে পারে।

চোখের সুরক্ষায় জরুরি রোদ-চশমা। ছবি: সংগৃহীত

চোখে সানবার্ন হলে কী করবেন?
হালকা ফোটোকেরাটাইটিস সাধারণত কর্নিয়ার উপরিভাগ সেরে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভালো হয়ে যায়। এই সময় চোখকে আরও সূর্যের আলো বা ইউভি রশ্মির সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখা জরুরি।

চোখ ঘষবেন না। বন্ধ চোখের উপর ঠান্ডা, ভেজা কাপড় রাখলে অস্বস্তি কিছুটা কমতে পারে। কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করলে চোখ পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তা ব্যবহার না করাই ভালো।

তবে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, তীব্র চোখের ব্যথা, চোখে আঘাত, উপসর্গ ক্রমশ বাড়তে থাকা অথবা ৪৮ ঘণ্টার পরেও সমস্যা না কমলে দেরি না করে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

চোখকে ইউভি রশ্মি থেকে বাঁচাবেন কীভাবে?
চোখের সুরক্ষার সবচেয়ে সহজ উপায় হল এমন সানগ্লাস ব্যবহার করা যা ১০০ শতাংশ ইউভি-এ এবং ইউভি-বি রশ্মি আটকাতে পারে। চোখের পাশ দিয়েও যাতে সূর্যের আলো কম ঢোকে, তার জন্য র‍্যাপঅ্যারাউন্ড সানগ্লাস ব্যবহার করা যেতে পারে। 

বিশেষ করে সমুদ্র, সুইমিং পুল, বালির জায়গা বা বরফে ঘেরা এলাকায় বেশি সতর্ক থাকুন। আর একটি ভুল ধারণা এড়িয়ে চলুন। আকাশ মেঘলা মানেই ইউভি রশ্মি নেই, এমন নয়। মেঘলা দিনেও চোখের সুরক্ষার জন্য ইউভি-ব্লকিং সানগ্লাস ব্যবহার করা উচিত।

ত্বকের মতো চোখও সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মির শিকার হতে পারে। তাই বাইরে বেরনোর আগে শুধু সানস্ক্রিন নয়, সানগ্লাসও যেন আপনার দৈনন্দিন সুরক্ষার অংশ হয়।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement