বিশ বছর পরে ক্যানসার হতে পারে শরীরে? মাত্র বিশ-পঁচিশ হাজার টাকা খরচ করলেই তা জানা যাবে। বিশ্বাস না হলে আবার পড়ুন। ঠাকুরপুকুর ক্যানসার রিসার্চে (সরোজ গুপ্ত ক্যানসার সেন্টার অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট) পকেটবান্ধব জিন টেস্ট। যার পোশাকি নাম হেরিডিটরি ক্যানসার জিন প্যানেল টেস্টিং। সে টেস্ট-ই নতুন জীবন দিল বছর সাতষট্টির শিখা ঘোষকে।
আনন্দপুরের বাসিন্দা শিখাদেবীর স্তনে ফুসকুড়ির মতো 'গ্রোথ'। জিন টেস্ট করে দেখা যায় তাঁর বিআরসিএ ২ জিনে গন্ডগোল। সেখান থেকেই একটা স্তনে ক্যানসার। অবস্থা এমনই, যে কোনও দিন পাশের স্তনেও উঁকি দিতে পারে কর্কট। তড়িঘড়ি বাদ দেওয়া হয় পাশের স্তনটিকে। এ জিনের গন্ডগোলের কারণে ডিম্বাশয়ের ক্যানসারেও আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। ডা. অর্ণব গুপ্ত জানিয়েছেন, জিন টেস্ট করে দেখা যায়, শিখাদেবীর পরিবারের ক্যানসারের ইতিহাস প্রকট। তাঁর মা ৫৫ বছর বয়সে খাদ্যনালির ক্যানসারে আক্রান্ত হন। মাসি মারা যান স্তন ক্যানসারে। এমনকী দুই মাসতুতো বোনের শরীরেও ক্যানসারের থাবা। হেরিডিটরি ক্যানসার জিন প্যানেল টেস্টিংয়ের মাধ্যমে তাঁর ২৬টি জিনের প্যানেল টেস্ট করা হয়।
জিন টেস্টের সুবিধা কী? বিশেষজ্ঞ ডা. সমীর ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, "শুধু আগাম ক্যানসারের সম্ভাবনা নয়, জিন টেস্ট ক্যানসার চিকিৎসাকেও সহজ করে দেয়। শিখা দেবীর জিন প্যানেল টেস্ট করে দেখা যায় 'বিআরসি ২ জিন' পজিটিভ। সঙ্গে সঙ্গে দেওয়া হয় রুকাপারিব নামে একটি বিশেষ ওষুধ। এই ওষুধ শরীরের ক্যানসার কোষের ডিএনএ মেরামত করার ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়।
জিন টেস্টের সুবিধা কী? সরোজ গুপ্ত ক্যানসার সেন্টার অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ডা. সমীর ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, "শুধু আগাম ক্যানসারের সম্ভাবনা নয়, জিন টেস্ট ক্যানসার চিকিৎসাকেও সহজ করে দেয়। শিখা দেবীর জিন প্যানেল টেস্ট করে দেখা যায় 'বিআরসি ২ জিন' পজিটিভ। সঙ্গে সঙ্গে দেওয়া হয় রুকাপারিব নামে একটি বিশেষ ওষুধ। এই ওষুধ শরীরের ক্যানসার কোষের ডিএনএ মেরামত করার ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। ফলে বাড়তে পারে না ক্যানসার কোষ। শরীরে রয়েছে ২৫ থেকে ৩০ হাজার জিন। সবগুলি জিন টেস্ট করা যেমন ব্যয়বহুল তার জন্য সময়ও লাগে প্রচুর।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কোন ধরনের ক্যানসার বাসা বেঁধেছে সেটা বুঝে নিয়েই জিন টেস্ট করা হয়। কারও হয়তো ২৫টি জিন টেস্ট করা হয়। কারও ক্ষেত্রে ৮০টি করা হয়। নির্দিষ্ট ক্যানসারের জন্য আলাদা আলাদা প্যানেলের জিন টেস্ট। কীভাবে বোঝা যায় কোন প্যানেল টেস্ট হবে? রোগীর সঙ্গে কথা বলে তা বুঝতে চেষ্টা করেন চিকিৎসকরা। পরিবারে যদি ক্যানসারের ইতিহাস থাকে তবে কোন ধরনের ক্যানসার রয়েছে সেটা জানা গেলেই বোঝা যায় কোন কোন জিন টেস্ট করতে হবে। ডা. সমীর ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, যদি স্তন ক্যানসার আর প্যানক্রিয়াস ক্যানসার হয় সেক্ষেত্রে এক ধরনের জিন প্যানেল টেস্ট করা হয়। অন্যদিকে ডিম্বাশয়ের ক্যানসার হলে অন্য প্যানেল টেস্ট করা হয়। যদি জানা যায় কোন জিনে সমস্যার কারণে শরীরে বাসা বেঁধেছে ক্যানসার, তাতে চিকিৎসাতেও সুবিধা হয়। যথাযথ ওষুধ বেছে নিয়ে শুরু করা যায় 'টার্গেটেড থেরাপি'। জিন টেস্টের খরচ মূলত নির্ভর করে কতগুলি জিনের টেস্ট করা হচ্ছে তার উপর। স্রেফ ঝোঁকের বশে নয়, পরিবারে ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে তবেই তা করাতে বলেন চিকিৎসকরা। শুধু মহিলা নয়, সামান্য হলেও পুরুষদের মধ্যে আছে স্তন ক্যানসারের প্রবণতা। একাধিক স্তন ক্যানসার গবেষণা কেন্দ্রের সমীক্ষা বলছে, এক শতাংশ পুরুষ স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত। যদি মায়ের স্তন ক্যানসার থাকে সেক্ষেত্রে তাঁর ছেলের মধ্যেও স্তন ক্যানসারের সম্ভাবনা থাকে।
