বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে এইচ৫এন১ (H5N1) ভাইরাস। সাধারণ মানুষের ধারণা ছিল এই ভাইরাস শুধু পাখিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অন্য কথা বলছে। এবার গৃহপালিত বিড়ালের শরীরেও থাবা বসাচ্ছে বার্ড ফ্লু (Bird Flu)। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগে পশুচিকিৎসকরা। কারণ, বাড়ির চার দেওয়ালের মধ্যে থাকা পোষ্য যদি সংক্রমিত হয়, তবে বিপদ বাড়তে পারে পরিবারের সদস্যদেরও।
ফাইল ছবি
কীভাবে ছড়াচ্ছে সংক্রমণ?
চিকিৎসকদের মতে, মূলত আক্রান্ত পাখির সংস্পর্শে এলে বিড়ালের শরীরে এই ভাইরাস প্রবেশ করে। আক্রান্ত পাখির মাংস খাওয়া বা পাখির বিষ্ঠার সংস্পর্শে আসাও সংক্রমণের বড় কারণ হতে পারে। অনেক সময় খোলা জায়গায় ঘুরে বেড়ানো বিড়াল অবহেলায় মৃত পাখিতে মুখ দিলে দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে।
ফাইল ছবি
চিনবেন কী করে?
সংক্রমিত বিড়ালের শরীরে বেশ কিছু উপসর্গ দেখা যায়। এর মধ্যে প্রধান হল প্রবল জ্বর এবং শ্বাসকষ্ট। বিড়ালের চোখ দিয়ে জল পড়া বা চোখ লাল হয়ে যাওয়াও এর অন্যতম লক্ষণ। অনেক সময় আক্রান্ত পোষ্য ঝিমিয়ে পড়ে এবং খাবার খেতে অনীহা প্রকাশ করে। স্নায়বিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে। অস্বাভাবিক কাঁপুনি নজরে এলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
সাবধান হবেন কীভাবে?
পোষ্যকে সুস্থ রাখতে বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপ জরুরি। প্রথমত, বিড়ালকে বাড়ির বাইরে একা ছাড়বেন না। কোনও অবস্থাতেই পোষ্যকে কাঁচা মাংস খাওয়ানো যাবে না। বিশেষ করে পাখির মাংস দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। বিড়ালের থাকার জায়গা সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে। যদি দেখেন বাড়ির আশেপাশে কোনও মৃত পাখি পড়ে আছে, তবে বিড়ালকে তার কাছে যেতে দেবেন না।
ফাইল ছবি
চিকিৎসা ও সতর্কতা
বিড়ালের মধ্যে সামান্যতম অস্বাভাবিকতা দেখা দিলেই দেরি না করে পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। মনে রাখবেন, বিড়ালের মাধ্যমে এই ভাইরাস মানুষের শরীরেও সংক্রামিত হতে পারে। তাই পোষ্যকে আদর করার আগে ও পরে ভালো করে হাত ধুয়ে নিন। আতঙ্কিত না হয়ে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাই এই মারণ ভাইরাস রুখবার একমাত্র পথ।
