করোনা অতিমারী আমাদের একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছে- শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মজবুত না হলে সামান্য সংক্রমণও বড় সমস্যা হয়ে উঠতে পারে। একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশের অনেক প্রাপ্তবয়স্কই তাঁদের ইমিউনিটি নিয়ে চিন্তিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইমিউনিটি কোনও ওষুধ খেয়ে হঠাৎ তৈরি হয় না। প্রতিদিনের ছোট ছোট, নিয়মিত অভ্যাসই ধীরে ধীরে শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরোধব্যবস্থাকে পোক্ত করে।
ফাইল ছবি
দিনের শুরু কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
ঘুম থেকে ওঠার পরের প্রথম এক ঘণ্টা শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় হজম, বিপাকক্রিয়া, হরমোনের ভারসাম্য এবং মানসিক অবস্থার উপর প্রভাব পড়ে। আর এগুলোর সঙ্গে ইমিউনিটির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাই সকালটা কীভাবে শুরু করছেন, সেটাই দীর্ঘমেয়াদে বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
ঘুম ভাঙার পর এক গ্লাস জল
রাতে দীর্ঘ সময় জল না খাওয়ার পর সকালে এক গ্লাস জল শরীরকে চাঙ্গা করে। এটি হজম প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে, শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ বের করতে সাহায্য করে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। আমাদের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার বড় অংশই নির্ভর করে অন্ত্রের সুস্থতার উপর।
হালকা ব্যায়াম ও রোদে থাকা
সকালে ২০–৩০ মিনিট হাঁটা, স্ট্রেচিং বা যোগব্যায়াম রক্তসঞ্চালন বাড়ায়। এতে শরীরের প্রতিরোধকারী কোষগুলি আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে। পাশাপাশি সকালের সূর্যালোক শরীরে ভিটামিন ডি তৈরি করতে সাহায্য করে, যা ইমিউন সিস্টেমের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ
দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ শরীরের প্রতিরোধক্ষমতা কমিয়ে দেয়। সকালে কয়েক মিনিট শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্য়ায়াম, প্রাণায়াম বা ধ্যান করলে স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা কমে এবং শরীরের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে থাকে। দিনটা শান্তভাবে শুরু করলে তার প্রভাব সারাদিন থাকে।
ফাইল ছবি
পুষ্টিকর প্রাতঃরাশ
সকালের খাবার এড়িয়ে গেলে রক্তে শর্করার ওঠানামা বাড়তে পারে, যা প্রদাহ বাড়ায়। তাই প্রাতঃরাশে প্রোটিন, ফাইবার ও স্বাস্থ্যকর চর্বি থাকা জরুরি। যেমন ডিম, ডাল, ওটস, ফল, বাদাম বা দই। সুষম প্রাতঃরাশ শরীরকে প্রয়োজনীয় জ্বালানি দেয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়ায়।
সব মিলিয়ে, বড় কোনও ডিটক্স বা হঠাৎ বিরাট কোনও পরিবর্তন নয়- নিয়মিত ছোট ছোট অভ্যেসই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির আসল চাবিকাঠি। পর্যাপ্ত জল, নিয়মিত শারীরিক কসরত, কিছুটা সময় রোদে থাকা, মানসিক স্বস্তি এবং সুষম খাবার- এই সামান্য কটা জিনিস দীর্ঘমেয়াদে শরীরকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করে। মনে রাখবেন, ইমিউনিটি বাড়ানোর কোনও শর্টকাট উপায় নেই।
