SIR–এর পর চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম নেই, তাই বলে জীবন থেমে যাবে কেন? একটি প্রশাসনিক বা ভোটার তালিকায় নাম না থাকা নিঃসন্দেহে উদ্বেগের। বিশেষ করে যখন চারপাশে গুজব, অনিশ্চয়তা আর আতঙ্কের আবহ তৈরি হয়, তখন মানসিক চাপ বেড়ে যাওয়া খুব স্বাভাবিক। কিন্তু আমরা ভুলে যাচ্ছি, এই ধাক্কা সাময়িক, জীবন নয়।
ইতিমধ্যেই শোনা যাচ্ছে, অনেকেই চরম হতাশায় আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। এটা সবচেয়ে উদ্বেগের দিক। একটি নথিগত সমস্যার জন্য নিজের জীবন শেষ করে দেওয়া কোনও সমাধান হতে পারে না। বরং প্রয়োজন ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি বোঝা এবং সঠিক পথে এগোনো।
ছবি: সংগৃহীত
প্রথমত, গুজব থেকে দূরে থাকুন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভেসে আসা অর্ধসত্য খবর আমাদের ভয় বাড়ায়। সরকারি সূত্র থেকে তথ্য জানা জরুরি।
দ্বিতীয়ত, একা থাকবেন না। মন খারাপ হলে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ে। এই সময় পরিবার, বন্ধু বা ভরসার মানুষদের সঙ্গে কথা বলুন। কথা বললে চাপ কিছুটা হালকা হয়।
তৃতীয়ত, শরীরের যত্ন মানসিক শক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত ঘুম, সময়মতো খাওয়া, অল্প হাঁটা বা ব্যায়াম মনকে স্থির রাখে।
চতুর্থত, শ্বাস-প্রশ্বাস ও রিল্যাক্সেশন টেকনিক ফলো করুন। যেমন ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নেওয়া, ৫–১০ মিনিট মেডিটেশন ইত্য়াদি মানসিক অস্থিরতা কমাতে সাহায্য করে।
ছবি: সংগৃহীত
পঞ্চমত, যদি মনে হয় হতাশা বাড়ছে, আত্মহত্য়ার চিন্তা আসছে বা স্বাভাবিক কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটছে, তাহলে দ্রুত মনোবিদ বা মনরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
সবচেয়ে বড় কথা, একটি প্রশাসনিক সমস্যা বা ভোটার তালিকায় নাম না থাকা আপনার জীবন বা মর্যাদার শেষ কথা নয়। পরিস্থিতির সমাধান আইনি ও প্রশাসনিক পথে হয়। নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনের প্রক্রিয়ায় আস্থা রাখুন। আপনি যদি বৈধ ভোটার হন, তাহলে আপনার কাছে বহু আইনি পথ খোলা আছে। সর্বোপরি, প্রশাসন আপনার পাশে রয়েছে। তাই পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক, ভেঙে পড়া নয়, সচেতন ও ধৈর্যশীল থাকাই একমাত্র পথ।
