ভারতে তরুণদের মধ্যে মানসিক চাপ, একাকীত্ব ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে, যা নীরবে হয়ে উঠছে তাদের মনখারাপের কারণ। অনেক সময় পড়াশোনা, চাকরি আর স্ট্রেসের কবলে অনেকেই নিজের অনুভূতিটুকু প্রকাশ করতে পারেন না। ভারতের তরুণদের মানসিক সুস্থতা নিয়ে যে রিপোর্ট সামনে এসেছে, তা যথেষ্ট ভাবনার। মার্কিন গবেষণা সংস্থা স্যাপিয়েন ল্যাবসের 'গ্লোবাল মাইন্ড প্রজেক্ট' দেখাচ্ছে, ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সি ভারতীয়দের মানসিক স্বাস্থ্যের সূচক বা এমএইচকিউ স্কোর মাত্র ৩৩! ৮৪টি দেশের তালিকায় তাঁদের অবস্থান ৬০তম। তুলনায় ৫৫ বছরের বেশি বয়সিদের স্কোর ৯৬ এবং অবস্থান ৪৯তম। অর্থাৎ, প্রবীণরা অনেক বেশি মানসিকভাবে স্থিতিশীল।
এই সমীক্ষা ভারতে প্রায় ৭৮ হাজার মানুষের ওপর করা হয়েছে। গবেষকদের বক্তব্য, এটি শুধু কোভিড-পরবর্তী অস্থায়ী প্রভাব নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি প্রজন্মগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত।
ছবি: সংগৃহীত
এমএইচকিউ স্কোর কী?
এমএইচকিউ বা Mind Health Quotient তৈরি হয় কয়েকটি মানসিক সক্ষমতার ভিত্তিতে:
- আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা
- মনোযোগ ধরে রাখার দক্ষতা
- সম্পর্ক তৈরি ও বজায় রাখার সামর্থ্য
- চাপ বা প্রতিকূলতা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা
এই সূচক আসলে বোঝায়, একজন ব্যক্তি ব্যক্তিগত জীবন, কাজের জায়গা এবং সামাজিক সম্পর্কে কতটা কার্যকরভাবে চলতে পারছেন।
কোথায় সমস্যা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি শুধু উদ্বেগ বা বিষণ্ণতা বাড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তরুণদের মানসিক কার্যক্ষমতাই কমছে। ফলে দীর্ঘ সময় মনোযোগ ধরে রাখা, সম্পর্ক সামলানো বা পেশাগত স্থিরতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
ছবি: সংগৃহীত
আচরণগত কোন দিকগুলো সামনে এসেছে?
গবেষণায় চারটি বড় বিষয় বিশ্লেষণ করা হয়েছে:
- পারিবারিক ঘনিষ্ঠতা
- আধ্যাত্মিকতা
- অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার অভ্যেস
- শৈশবে স্মার্টফোন ব্যবহারের শুরু
১৮–৩৪ বছর বয়সিদের মধ্যে ৪৪ শতাংশ নিয়মিত প্রক্রিয়াজাত খাবার খান, যেখানে ৫৫ বছরের বেশি বয়সিদের ক্ষেত্রে তা ১১ শতাংশ। স্মার্টফোন ব্যবহারের গড় বয়স শুরু ১৬.৫ বছর এবং যদিও এই বয়স দিনেরদিন আরও কমছে।
পারিবারিক ঘনিষ্ঠতার ক্ষেত্রেও পার্থক্য স্পষ্ট। ১৮–৩৪ বছর বয়সিদের ৬৪ শতাংশ পরিবারকে ঘনিষ্ঠ বলে মনে করেন। ৫৫ বছরের বেশি বয়সিদের ক্ষেত্রে এই হার ৭৮ শতাংশ।
ছবি: সংগৃহীত
ভবিষ্যতের ইঙ্গিত
গবেষণা বলছে, এমএইচকিউ স্কোরের সঙ্গে উৎপাদনশীলতার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। মানসিক সুস্থতা কমলে কাজের দক্ষতা ও অর্থনীতিতেও তার প্রভাব পড়ে। একই সঙ্গে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বাড়লে আচরণগত সমস্যাও বাড়তে পারে।
সব মিলিয়ে চিত্রটি উদ্বেগজনক। আধুনিক জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস, প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার এবং পরিবারে সময় দেওয়া- সব মিলিয়ে তরুণদের মানসিক বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ছে। এখনই পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজ যদি বিষয়টিকে গুরুত্ব না দেয়, ভবিষ্যতে এর প্রভাব আরও গভীর হতে পারে।
