দোল মানেই রং। অনেকে রঙিন হন আবিরে, আবার অনেকের পদন্দ জলে রং মিশিয়ে একে অপরকে রাঙানো। পিচকারি, বালতি, বেলুনে ভরা জল রঙে রঙিন ওঠে চারপাশ। কিন্তু এই আনন্দের আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে কিছু অদৃশ্য বিপদ। চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা, দূষিত জল ব্যবহার করলে জলবাহিত রোগের আশঙ্কা অনেকটাই বেড়ে যায়।
দূষিত জলে কী কী রোগ ছড়াতে পারে?
দূষিত জলে সালমোনেলা, শিগেলা বা ভিব্রিওর মতো ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। এগুলো ডায়েরিয়া, আমাশা, টাইফয়েড বা কলেরার মতো অসুখ ডেকে আনতে পারে। এদিকে আবার বর্তমান সময় আবহাওয়ার হেরফের, কখনও ঠান্ডা কখনও গরম, জীবাণুর বংশবিস্তারের পক্ষে অনুকূল পরিবেশ। কোনও জমায়েত বা উৎসবের সময় সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনাও বেশি। খোলা পাত্রে জল দীর্ঘক্ষণ রেখে দিলে বা একই জল বারবার ব্যবহার করলে ঝুঁকি আরও বাড়ে। শিশু ও প্রবীণদের ক্ষেত্রে সমস্যা দ্রুত জটিল হয়ে উঠতে পারে।
ছবি: সংগৃহীত
রঙের রাসায়নিকেও বাড়তে পারে বিপদ
বাজারে পাওয়া কৃত্রিম রঙে ভারী ধাতু বা শিল্পজাত রাসায়নিক মেশানো হয়। এই রং মেশানো জল ত্বক, চোখ বা মুখ দিয়ে শরীরে ঢুকলে অ্যালার্জি, চোখে সংক্রমণ বা পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে। কারও ত্বকে আগে থেকেই কাটা, ঘা বা র্যাশ থাকলে সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বেশি।
কীভাবে নিরাপদে মাতবেন রঙের উৎসবে?
- সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিষ্কার ও পরিশোধিত জলের ব্যবহার।
- অচেনা উৎসের জল বা জমা জল ব্য়বহার না করাই ভাল।
- খেলার সময় মুখে জল ঢোকা থেকে যতটা সম্ভব বিরত থাকার চেষ্টা করুন।
- খেলা শেষে পরিষ্কার জলে ভাল করে মুখ ধুয়ে নিন। কুলকুচি করুন।
- ভেজা পোশাক বেশিক্ষণ পরে থাকবেন না। এতে ফাঙ্গাল সংক্রমণ হতে পারে। দ্রুত শুকনো কাপড় পরে নিন।
- খাওয়ার আগে সাবান দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড হাত ধোয়ার অভ্যেস বজায় রাখুন।
- শিশুদের দিকে বাড়তি নজর দিন, যাতে তারা রং মেশানো বা নোংরা জল গিলে না ফেলে।
ছবি: সংগৃহীত
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন
দোলের পর যদি টানা পেট খারাপ, বমি, জ্বর, তীব্র পেটব্যথা, রক্ত পায়খানা বা জলশূন্যতার লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। দ্রুত ব্যবস্থা নিলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।
দোল আনন্দের, মিলনের, রঙের উৎসব। সামান্য সতর্কতা আর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেই আনন্দ থাকবে অটুট। পরিষ্কার জল, নিরাপদ রং আর সচেতনতাই হোক উৎসবের সঙ্গী।
