এখনও পর্যন্ত সত্তরটি রোবটিক সার্জারি হয়েছে এসএসকেএমে। তার মধ্যে ৬৭টি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। বাকি যে তিনটি মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের 'বাজেট হাসপাতাল' অনন্যতে হয়েছে তার একেকটিতে খরচ হয়েছে মেরেকেটে ৪৫ হাজার টাকা। বেসরকারি হাসপাতালে তাই করতে খরচ হত তিন থেকে চার লক্ষ টাকা! এসএসকেএম সূত্রে খবর, শুধুমাত্র অস্ত্রোপচারের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য ছোটখাটো অপারেশন নয়। রোবট দিয়ে করার জন্য জটিলতম ক্যানসারের অস্ত্রোপচারকেই প্রাধান্য দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। সত্তরটির মধ্যে সিংহভাগই তাই গলায় থাইরয়েড ক্যানসার, রেক্টাম ক্যানসার, প্রস্টেট ক্যানসারের অস্ত্রোপচার। বিস্ময়কর তথ্য আরও। ইংল্যান্ডের কেমব্রিজ থেকে আসা নতুন যে রোবট অস্ত্রোপচার করছে, এসএসকেএমে তাতে থাকছে না সার্জারির দাগও।
এসএসকেএম সূত্রে খবর, শুধুমাত্র অস্ত্রোপচারের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য ছোটখাটো অপারেশন নয়। রোবট দিয়ে করার জন্য জটিলতম ক্যানসারের অস্ত্রোপচারকেই প্রাধান্য দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। সত্তরটির মধ্যে সিংহভাগই তাই গলায় থাইরয়েড ক্যানসার, রেক্টাম ক্যানসার, প্রস্টেট ক্যানসারের অস্ত্রোপচার।
সম্প্রতি বছর চল্লিশের সোমলতা দত্ত (নাম পরিবর্তিত) থাইরয়েড ক্যানসারের অস্ত্রোপচার করিয়েছেন এসএসকেএমে। এটাই পূর্ব ভারতে প্রথম সরকারি ক্ষেত্রে রোবট দিয়ে থাইরয়েড ক্যানসারের অস্ত্রোপচার। অস্ত্রোপচার হওয়ার পর সোমলতাকে দেখে বোঝার উপায় নেই। কারণ? ডা. দীপ্তেন্দ্র সরকার জানিয়েছেন, বগলের পাশ দিয়ে ছোট্ট ফুটো। তারপর রোবটের হাত ঢুকে সাঙ্গ করেছে গোটা থাইরয়েড ক্যানসার অপারেশন। সাধারণ থাইরয়েড ক্যানসারের অস্ত্রোপচারে রোগীর গলা জুড়ে থাকে স্টিচের দাগ। অত্যাধুনিক রোবোটিক সার্জারিতে তা উধাও!
কেমব্রিজ থেকে আনা রোবটে নামমাত্র খরচে চলছে যন্ত্রণাহীন অপারেশন। নিজস্ব ছবি
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মস্তিষ্ক প্রসূত 'বাজেট হাসপাতাল' 'অনন্য' পথ চলা শুরু করে ২০২৫-এর অক্টোবর থেকে। সরকারি হাসপাতালের বিনামূল্যে চিকিৎসায় প্রান্তিক মানুষের ভিড় বিপুল। মধ্যবিত্ত চায় ভিড় এড়িয়ে একটু স্বাচ্ছন্দ্য। বেসরকারি হাসপাতালের পরিষেবা চান কিন্তু সুলভমূল্যে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মধ্যবিত্তের সেই সাধ্যের মধ্যে সাধ পূরণ করছে নয়া 'অনন্য'। সুলভ মূল্যের অনন্য এবং সাধারণ বিনামূল্যের পরিষেবা মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত সত্তরটি রোবটিক অস্ত্রোপচার হয়েছে এসএসকেএমে। সাফল্যের হার ১০০ শতাংশ। নামমাত্র টাকায় অস্ত্রোপচার করছে কেমব্রিজের রোবট।
সুলভ মূল্যের অনন্য এবং সাধারণ বিনামূল্যের পরিষেবা মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত সত্তরটি রোবটিক অস্ত্রোপচার হয়েছে এসএসকেএমে। সাফল্যের হার ১০০ শতাংশ। নামমাত্র টাকায় অস্ত্রোপচার করছে কেমব্রিজের রোবট।
বাঙালির দূরতম স্বপ্নেও ছিল না এই দৃশ্য। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দৌলতে ব্রিটিশ প্রযুক্তি পৌঁছে গিয়েছে গ্রামীণ মানুষের কাছে। কীভাবে বাংলায় এল কেমব্রিজের রোবট? সূত্রের খবর, ২০১৯ সালে এসএসকেএমের প্রতিষ্ঠা দিবসের চা চক্রে আলোচনার সূত্রপাত। সে আড্ডায় ছিলেন ডা. মণিময় বন্দ্যোপাধ্যায়, ডা. দীপ্তেন্দ্র সরকার, সদ্যপ্রয়াত চিকিৎসক ডা. দিলীপ পাল। ভেবেছিলেন সরকারি ক্ষেত্রে রোবটিক সার্জারির কথা। তা জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ডা. দীপ্তেন্দ্র সরকারের বক্তব্য, উনি দ্বিতীয়বার ভাবেননি। বলেছিলেন, আনতেই হবে রোবট। সাত বছর আগে মুখ্যমন্ত্রীর সেই স্বপ্ন এখন ডালপালা মেলেছে এসএসকেএমে।
