কেরিয়ারে সফল, হাতে অগণিত কাজ, অনুরাগীর সংখ্যাও নেহাত কম নয়। কিন্তু তারপরেও সাফল্যের স্বাদ পেয়ে কেরিয়ারের মধ্যগগনে ইতি টেনেছেন তারকারা এমন নজিরও কম নেই। এই তালিকায় এই মুহূর্তে একদম শীর্ষে রয়েছেন অরিজিৎ সিং। একই তালিকায় রয়েছেন স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ান জাকির খানও। সাফল্যের শিখরে থাকাকালীন এইভাবে গুণী ব্যক্তিত্বদের ইতি টানার নেপথ্যে কি কাজ করে কোনও মানসিক অবসাদ? এই নিয়ে সবিস্তারে সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালকে জানালেন, কলকাতা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের মনস্তত্ত্ববিদ তথা সহকারী অধ্যাপক ডাঃ বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার।
অরিজিৎ সিং। ছবি: সোশাল মিডিয়া
অরিজিৎ সিং কিংবা জাকির খানের আচমকা 'ইতি' টানা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "এখানে মানসিক অবসাদের কোনও ভূমিকা নেই। এখানে এঁদের মতো ব্যক্তিত্বরা যখন স্ব স্ব ক্ষেত্রে তুমুল সাফল্য পান, তাও আবার ভারতবর্ষের মতো দেশে তখন বুঝতে হবে তাঁদের জীবনের লক্ষ্য আগাগোড়াই স্থির ছিল। এঁরা নিজেদের কাজ সম্পর্কে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল হন। শুধু তাই নয় এনাদের মধ্যে অসফল হওয়ার ভয়ও থাকে না। শুধু তাই নয় আর পাঁচজন মানুষের থেকেও এঁদের মানসিকতা আলাদা হয়। এঁদের মধ্যে কোনও ডিপ্রেশনও থাকে না। যদি আমরা অরিজিৎ সিংয়ের কথা বলি তাহলে বলতে হয়, তিনি ছোট থেকে গান নিয়ে তাঁর জীবনে এমনই লক্ষ্য স্থির করেছিলেন যে সেটা নিয়েই তিনি থেকেছেন। সেখান থেকে তিনি সাফল্য পেয়েছেন। আবার মনমাফিক তাঁর প্লেব্যাকের সফরে দাঁড়িও টেনেছেন। আর এটা হঠাৎ নেওয়া কোনও সিদ্ধান্ত নয়। এটা পূর্ব পরিকল্পিত। এই একই পথে হেঁটেছেন জাকির খান, বিরাট কোহলিও।"
বিরাট-অনুষ্কা। ছবি: সোশাল মিডিয়া
পাশাপাশি দেবের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, "একই বিষয় লক্ষ্য করবেন দেবের মধ্যেও। ওর অনেক সাক্ষাৎকারেই ওকে বলতে শোনা গিয়েছে, আমি যদি কখনও অসফল হই আমি দুটো রুটি খেয়ে মা-বাবাকে নিয়ে বাড়িতে থাকব। বহুবার দেব এমনটা বলেছেন। ভালোভাবে লক্ষ্য করলে বুঝবেন দেব একজন অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ও ঠান্ডা মাথার একজন মানুষ। দেব যে কাজটা করছে তা অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ একটা কাজ। হতেই পারে ওর কোনও একটি ছবি ফ্লপ হল। ছবিটা সিনেমাহলে চলল না। কিন্তু তা যে ওকে খুব বেশি টলিয়ে দেয় বা ভাবায় এমনটা নয়। ও ভীষণ ফোকাসড নিজের কাজে। কোনওদিন দেখবেন দেবও হয়তো এমন সিদ্ধান্ত নিলেন। আর এটাতে অবাক হওয়ার মতো কিছু নেই। মানসিক অবসাদ থাকলে এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া কখনওই সম্ভব নয়।"
দেব। ফাইল ছবি।
এই নতুন শুরুর সঙ্গে কীভাবে মানিয়ে নিতে পারাটা কতটা কঠিন? এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "অভিনয় জগতের ব্যক্তিত্বদের মধ্যে এই মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টা খানিক কঠিন হয়। তবে এটুকু বলতে পারা যায় যে এই ধরনের সিদ্ধান্ত ডিপ্রেশন থেকে এই ধরনের ব্যক্তিত্বরা নেন না। এই একেবারেই পূর্ব পরিকল্পনা থেকেই নেওয়া। জাকির খান বা অরিজিৎ সিং যেহেতু সাধারণ মানুষের থেকে আলাদা তাই এগুলো তাঁদের উপর কোনও প্রভাব ফেলে না। তবে হ্যাঁ, তাঁর, মানেই যে এঁদের কোনও মানসিক অবসাদের মতো বিষয় থাকবে না তা নয়। তা থাকতেই পারে তবে সফল কেরিয়ারে ইতি টানার মানেই মানসিক অবসাদ নয়।"
সবশেষে এটাই বলা যায় যে, অরিজিৎ কিংবা জাকির খান যেন খ্যাতির উচ্চতায় থাকার পরও এমন বড় এক সিদ্ধান্ত নিয়ে সকলের মনে একপ্রকার সাহস জুগিয়ে গেলেন। বুঝিয়ে দিলেন, সবসময় শুধুই অর্থ, যশের পিছনে দৌড়ানোর নামই জীবন নয়। নিজের ইচ্ছাপূরণ করাটাও জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। সফলতার সংজ্ঞা রচনা করার পর নিজের ইচ্ছেমতো কাজ করার পথেও হাঁটাটা জরুরি। তাঁদের এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে আত্মবিশ্বাসের রসদ জোগাল।
