shono
Advertisement
Maharashtra Junk Food Ban

স্কুলের সামনে জাঙ্ক ফুড বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা, কেন শিশুস্বাস্থ্যে ওবেসিটি-ডায়াবেটিসের ভয়?

ভারতে বাড়ছে শৈশবের স্থূলতা। তাই শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়, দরকার সচেতনতারও।
Published By: Pritimoy Roy BurmanPosted: 07:24 PM Aug 02, 2026Updated: 07:24 PM Aug 02, 2026

টিফিনের ঘণ্টা বাজলেই স্কুলের গেটের বাইরে ভিড়। কারও হাতে চিপস, কারও হাতে ঠান্ডা পানীয়, আবার কেউ কিনছে চকোলেট বা ভাজাভুজি। এই ছবিটাই বদলাতে চায় মহারাষ্ট্র সরকার।

Advertisement

রাজ্যের সব স্কুল এবং স্কুলের ৫০ মিটারের মধ্যে জাঙ্ক ফুড বিক্রি ও বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য একটাই, ছোটবেলা থেকেই শিশুদের স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত করে তোলা।

তবে চিকিৎসকদের মতে, শুধু জাঙ্ক ফুড সরিয়ে দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। শিশুদের খাবারের অভ্যাস বদলাতে হলে প্রয়োজন সচেতনতা, পুষ্টিকর বিকল্প খাবারের সহজলভ্যতা এবং পরিবার, স্কুল ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ।

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি শিশু দিনের বড় অংশ কাটায় স্কুলে। ফলে সে কী খাবে, কোন খাবারকে স্বাভাবিক বলে মনে করবে, তার অনেকটাই নির্ভর করে স্কুলের পরিবেশের উপর।

ডেকে আনে একাধিক স্বাস্থ্যঝুঁকি। ছবি: সংগৃহীত

লক্ষ্য খাবার কেড়ে নেওয়া নয়, অভ্যাস গড়ে তোলা
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের কথায়, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য শিশুদের পছন্দের খাবার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা নয়। বরং অতিরিক্ত তেল, চিনি ও নুনযুক্ত খাবার যেন প্রতিদিনের খাদ্যতালিকার অংশ না হয়ে ওঠে, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ছোটবেলায় যে খাদ্যাভ্যাস তৈরি হয়, সেটাই অনেক সময় সারা জীবনের সঙ্গী হয়ে যায়। তাই স্কুলে স্বাস্থ্যকর খাবারের পরিবেশ তৈরি করা ভবিষ্যতের সুস্থ প্রজন্ম গড়ার অন্যতম ভিত্তি।

প্যাকেটজাত খাবার কেন উদ্বেগের?
চিপস, কোল্ড ড্রিংক, কুকিজ বা নানা ধরনের প্রক্রিয়াজাত স্ন্যাকস খেতে সুস্বাদু হলেও শরীরের জন্য তেমন উপকারী নয়। এগুলিতে ক্যালরি বেশি থাকলেও প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ খুব কম।

টিফিনে ফল, দুধ, দই বা সুষম খাবার থাকলে শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি যেমন ভালো হয়, তেমনই বাড়ে মনোযোগ, শেখার ক্ষমতা এবং রোগ প্রতিরোধের শক্তিও। অন্যদিকে নিয়মিত জাঙ্ক ফুড খাওয়ার অভ্যাস ভবিষ্যতে স্থূলতা, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

শুধু ওবেসিটি নয়, ক্ষতি আরও বেশি। ছবি: সংগৃহীত

ভারতে বাড়ছে শৈশবের স্থূলতা
ভারতে শিশুদের মধ্যে স্থূলতা এবং অল্প বয়সে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পিছনে অন্যতম কারণ বদলে যাওয়া জীবনযাপন এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারের ব্যবহার।

এই কারণেই স্কুলকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্যকর খাদ্য পরিবেশ গড়ে তোলাকে জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন চিকিৎসকরা।

শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়, দরকার সচেতনতারও
কোনও নিয়ম তখনই সফল হয়, যখন মানুষ তার প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারে। তাই ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি অভিভাবক এবং খাবার বিক্রেতাদেরও স্বাস্থ্যকর খাবারের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করা জরুরি।

শুধু জাঙ্ক ফুড সরিয়ে দিলেই হবে না। তার পরিবর্তে এমন পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে, যা সহজে পাওয়া যায়, দামেও সাশ্রয়ী এবং শিশুদের কাছেও আকর্ষণীয়।

ওবেসিটি থেকে রেহাই পেতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত করুন। ছবি: সংগৃহীত

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অবশ্য অভিভাবকদের। স্কুলে স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে বাড়ি ফিরে যদি শিশুর হাতে প্রতিদিন জাঙ্ক ফুড তুলে দেওয়া হয়, তাহলে এই উদ্যোগের সুফল মিলবে না। বাড়ি ও স্কুল, দু'জায়গাতেই একই বার্তা পৌঁছাতে পারলেই শিশুদের খাদ্যাভ্যাসে সত্যিকারের পরিবর্তন আসবে।

প্রসঙ্গত, মহারাষ্ট্রে ঘোষণা করা হয়েছে, স্কুল এবং স্কুলের ৫০ মিটারের মধ্যে অতিরিক্ত তেল, ট্রান্স ফ্যাট, চিনি ও নুনসমৃদ্ধ খাবার বিক্রি, বিতরণ বা বিজ্ঞাপন দেওয়া যাবে না। শিশুদের সুস্থ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement