অনেকেই ঝাপসা দেখাকে ক্লান্তি, বেশিক্ষণ স্ক্রিন টাইম বা ঘুমের অভাব বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু যদি হঠাৎ করে এক চোখে ঝাপসা দেখেন, তাহলে সেটিকে কখনও হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। অনেক সময় তা গুরুতর কোনও কিছুর ইঙ্গিত হতে পারে, যেখানে দ্রুত চিকিৎসা শুরু না হলে, ভবিষ্য়তে দৃষ্টিশক্তিজনিত সমস্য়া দেখা দিতে পারে। চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতে, হঠাৎ দৃষ্টির পরিবর্তন শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা বড় কোনও সমস্যার সতর্কবার্তা হতে পারে। তাঁদের কথায়, হঠাৎ এক চোখে ঝাপসা দেখাকে কখনও উপেক্ষা করবেন না। কিছু কারণ ছোটখাটো হলেও, রেটিনার সমস্য়া বা চোখে স্ট্রোকের মতো সমস্যা হলে দ্রুত চিকিৎসা জরুরি।
ছবি: সংগৃহীত
কখন ঝাপসা দৃষ্টি জরুরি সংকেত?
যদি কয়েক সেকেন্ড বা মিনিটের জন্য় দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায়, সেটি বড় কোনও সতর্কবার্তা হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে যে সব কারণে এটা হতে পারে —
- রেটিনাল ডিটাচমেন্ট
- রেটিনাল আর্টারি ব্লক। অর্থাৎ, চোখে স্ট্রোক
- অপটিক নিউরাইটিস বা চোখের স্নায়ুর প্রদাহ
- অ্যাকিউট অ্যাঙ্গেল-ক্লোজার গ্লুকোমা
নিজে ডাক্তারি নয়
সব ঝাপসা দেখাই বিপজ্জনক নয়, তবে পরীক্ষা জরুরি। সব ক্ষেত্রে আতঙ্কের কারণ নেই। অনেক সময় শুষ্ক চোখ, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম, মাইগ্রেন, রক্তে শর্করার ওঠানামা বা রিফ্র্যাক্টিভ সমস্যার জন্য দৃষ্টিশক্তি সাময়িক ঝাপসা হতে পারে। সমস্যা হল, নিজে থেকে বোঝা কঠিন কোনটা সাধারণ আর কোনটা বিপজ্জনক। তাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজে রোগ নির্ণয় করবেন না। সঠিক পরীক্ষা ছাড়া বোঝা যায় না এটি সাধারণ চোখের ক্লান্তি, না অন্য় কোনও সমস্য়া।
ছবি: সংগৃহীত
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
- যাঁদের ডায়াবেটিস রয়েছে
- উচ্চ রক্তচাপের রোগী
- অটোইমিউন রোগী
- হৃদরোগ বা রক্তনালীর সমস্যা রয়েছে যাঁদের
- কিছু ক্ষেত্রে হঠাৎ ঝাপসা দেখা মস্তিষ্কে স্ট্রোকেরও লক্ষণ হতে পারে। যদি ঝাপসা দেখার সঙ্গে হাত-পা দুর্বল লাগা, কথা জড়িয়ে যাওয়া, মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
যে সব লক্ষণ কখনও উপেক্ষা করবেন না
- চোখে ব্যথা বা লালচে ভাব
- আলোর ঝলকানি বা চোখের সামনে হঠাৎ ভাসমান দাগ
- তীব্র মাথাব্যথা বা বমিভাব
- একটি চোখে হঠাৎ করে কিছু দেখতে না পাওয়া
- শরীরের একদিকে দুর্বলতা বা কথা বলতে অসুবিধা
ছবি: সংগৃহীত
কেন দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন?
দেরি হলে ক্ষতি স্থায়ী হয়ে যেতে পারে। আধুনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ইমেজিং পদ্ধতির মাধ্যমে এখন দ্রুত রেটিনার সমস্যা, স্নায়ুর প্রদাহ বা চোখের যে কোনও সমস্য়া শনাক্ত করা সম্ভব। দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনেক সময় দৃষ্টিশক্তি বাঁচাতে পারে। শরীরের সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
